সাওয়ানের প্রথম সোমবার উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য ঘটনায় ১১ জন শিবভক্তের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বহু ভক্ত আহত হয়েছেন। হারদোই জেলায় গঙ্গাস্নানের সময় নিখোঁজ হওয়া দুই ভক্তের সন্ধানে এখনও তল্লাশি চলছে।
সাওয়ানের প্রথম সোমবার ভগবান শিবের জলাভিষেক উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে লক্ষাধিক ভক্ত মন্দির ও তীর্থস্থানের উদ্দেশে রওনা হন। তবে সীতাপুর, সুলতানপুর, বহরাইচ, রায়বেরেলি, জৌনপুর এবং আমরোহা-সহ একাধিক জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য ঘটনায় মোট ১১ জন শিবভক্ত প্রাণ হারান। হারদোই জেলায় গঙ্গাস্নানের সময় দুই ভক্ত নিখোঁজ হন, যাদের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
জৌনপুরে বারাণসী-লখনউ জাতীয় সড়কে দর্শন সেরে ফেরার পথে ভক্তদের একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে দুই জনের মৃত্যু হয়।
আমরোহায় কাঁওয়ার নিয়ে যাওয়ার সময় এক ভক্তের মোটরসাইকেল সামনে চলা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে এক ভক্তের মৃত্যু হয় এবং অপর এক যুবক আহত হন।
সীতাপুরে একটি পিকআপ গাড়িতে রাখা উঁচু ডিজে সিস্টেম উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসে। এতে পুরো গাড়িতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই দুই কাঁওয়ারিয়ার মৃত্যু হয়। আরও তিন জন দগ্ধ হন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিচু হয়ে ঝুলে থাকা বিদ্যুৎ তারের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বহরাইচে জলাভিষেক শেষে ফেরার সময় মোটরসাইকেল আরোহী ভক্তদের একটি দ্রুতগতির ট্রাক ধাক্কা দিলে দুই জনের মৃত্যু হয়।
সুলতানপুরে জলাভিষেক শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই তরুণী একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন।
রায়বেরেলির শিবগড় এলাকায় একটি গাড়ির ধাক্কায় একটি ই-রিকশা উল্টে যায়। এতে সাত জন ভক্ত আহত হন। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। লালগঞ্জ এলাকায় ওভারটেক করার সময় একটি ই-রিকশা উল্টে এক প্রবীণ ভক্তের মৃত্যু হয় এবং অন্যান্য যাত্রী আহত হন।
হারদোই জেলার আরভাল এলাকায় কন্নৌজ থেকে জলাভিষেক সেরে ফেরা তিন যুবক গঙ্গাস্নানের সময় প্রবল স্রোতে ভেসে যান। পুলিশ ও ডুবুরি দল একজনকে নিরাপদে উদ্ধার করলেও বাকি দুই জনের সন্ধান সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলেনি। অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং পিএসি-র দলও তল্লাশি অভিযান চালায়, তবে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাওয়ান ও কাঁওয়ার যাত্রার সময় বিপুল সংখ্যক ভক্তের যাতায়াতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তারা যাত্রাপথে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন ও উঁচু ডিজে সিস্টেম ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং নদী বা ঘাটে শুধুমাত্র নির্ধারিত স্থানে স্নান করার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রশাসনের মতে, নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চললে এ ধরনের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।







