৫ স্টার নাকি ৩ স্টার ফ্রিজ? কোনটিতে বিদ্যুতের বিল কম আসবে, কেনার আগে মিলিয়ে নিন খরচের হিসাব

২, ৩ ও ৫ স্টার ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচের পার্থক্য জানুন। নতুন ফ্রিজ কেনার আগে বার্ষিক ইউনিট, দাম ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের হিসাব মিলিয়ে নিন।

দীপাবলি বা উৎসবের মরশুমে বাড়ির জন্য নতুন ফ্রিজ কেনার পরিকল্পনা করছেন? বাজারে ২ স্টার, ৩ স্টার ও ৫ স্টার—বিভিন্ন রেটিংয়ের ফ্রিজ পাওয়া যায়। অনেকেই মনে করেন, ৫ স্টার ফ্রিজ কিনলেই বিদ্যুতের বিল অর্ধেক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সাশ্রয়ের পরিমাণ সব মডেলে এক নয়। বেশি দাম দিয়ে ৫ স্টার ফ্রিজ কেনা কতটা লাভজনক, আর কোন বিষয়গুলি যাচাই করা জরুরি, জেনে নিন বিস্তারিত।

৫ স্টার ফ্রিজে কি সত্যিই বিদ্যুৎ কম খরচ হয়?

ফ্রিজের স্টার রেটিং মূলত তার শক্তি সাশ্রয়ের দক্ষতা বোঝাতে সাহায্য করে। সাধারণভাবে, একই ধরনের ও কাছাকাছি ধারণক্ষমতার ফ্রিজের মধ্যে বেশি স্টার রেটিংয়ের মডেল কম বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। উন্নত কম্প্রেসর প্রযুক্তি এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এতে সাহায্য করে।তবে শুধু স্টার রেটিং দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। দুটি ফ্রিজের ধারণক্ষমতা বা প্রযুক্তি আলাদা হলে তাদের বিদ্যুৎ খরচেও পার্থক্য হতে পারে।

২, ৩ ও ৫ স্টার ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচের হিসাব

একটি ফ্রিজ বছরে কত বিদ্যুৎ খরচ করবে, তা নির্দিষ্ট মডেলের এনার্জি লেবেলে উল্লেখ থাকে। তাই সব ৩ স্টার ফ্রিজ বছরে ৩০০–৪০০ ইউনিট এবং সব ৫ স্টার ফ্রিজ ১৫০–২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করবে—এমন কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।সহজ হিসাবের জন্য ধরুন, একটি ফ্রিজ বছরে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে এবং অন্য একটি তুলনীয় মডেল খরচ করে ২০০ ইউনিট। সে ক্ষেত্রে বছরে সাশ্রয় হবে ১০০ ইউনিট।

বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ৮ টাকা হলে:

- বছরে সাশ্রয়: ১০০ × ৮ = ৮০০ টাকা

- মাসে গড় সাশ্রয়: প্রায় ৬৭ টাকা

এটি কেবল উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হিসাব। আপনার এলাকার বিদ্যুতের শুল্ক ও নির্দিষ্ট ফ্রিজের বার্ষিক খরচ অনুযায়ী প্রকৃত সাশ্রয় কমবেশি হবে।

বেশি দাম দিয়ে ৫ স্টার ফ্রিজ কেনা কি লাভজনক?

৫ স্টার ফ্রিজের প্রাথমিক দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে বিদ্যুতের বিলে সাশ্রয় সেই অতিরিক্ত দামের কিছুটা বা পুরোটা পুষিয়ে দিতে পারে।কেনার আগে দুটি মডেলের দামের পার্থক্য এবং বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচ তুলনা করুন। অতিরিক্ত দামকে বার্ষিক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অঙ্ক দিয়ে ভাগ করলে আনুমানিক কত বছরে বাড়তি খরচ উঠে আসতে পারে, তা বোঝা যাবে।ফ্রিজ ব্যবহারের ভুলেও বাড়তে পারে বিদ্যুতের বিলশুধু বেশি স্টার রেটিংয়ের ফ্রিজ কিনলেই হবে না, ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে। 

কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন:

- ফ্রিজের দরজা বারবার খুলে দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখবেন না।

- গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রেখে আগে উপযুক্তভাবে ঠান্ডা হতে দিন।

- ফ্রিজের ভিতরে বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন।

- প্রস্তুতকারকের নির্দেশ অনুযায়ী তাপমাত্রা সেট করুন।

- ফ্রিজের চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।

এই অভ্যাসগুলি ফ্রিজকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে।

ভোল্টেজ প্রোটেকশন ও ইনভার্টার প্রযুক্তি দেখে নিন

কিছু ফ্রিজে ইনভার্টার কম্প্রেসর, ভোল্টেজ ওঠানামা সামলানোর ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুবিধা থাকে। তবে সব ৫ স্টার মডেলে একই প্রযুক্তি বা ইন-বিল্ট স্টেবিলাইজার থাকে না।তাই কেনার আগে নির্দিষ্ট মডেলের বৈশিষ্ট্য, ওয়ারেন্টি, কম্প্রেসরের ধরন এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করুন। শুধু বিজ্ঞাপনের দাবি বা দোকানদারের কথার উপর নির্ভর না করে পণ্যের স্পেসিফিকেশন মিলিয়ে নিন।

ফ্রিজ কেনার আগে কোন বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি?

ফ্রিজের গায়ে থাকা এনার্জি লেবেলে বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচের তথ্য দেখে নিন। একই ধরনের ও কাছাকাছি ধারণক্ষমতার একাধিক মডেলের এই তথ্য তুলনা করলে কোনটি বেশি সাশ্রয়ী, তা বোঝা সহজ হবে।বাজেট সীমিত হলে ৩ স্টার ফ্রিজও উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। আবার দীর্ঘদিন ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দিলে ৫ স্টার মডেল বিবেচনা করা যায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেনার দাম ও ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ খরচ—দুটিই হিসাব করুন।

নতুন ফ্রিজ কেনার সময় শুধু দাম নয়, বিদ্যুৎ খরচের হিসাবও মাথায় রাখা জরুরি। ২ স্টার, ৩ স্টার ও ৫ স্টার ফ্রিজের মধ্যে বেশি এনার্জি রেটিংয়ের মডেল সাধারণত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এগিয়ে থাকে। তবে ঠিক কতটা টাকা বাঁচবে, তা নির্ভর করে ফ্রিজের মডেল, আকার, বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচ, ব্যবহার এবং বিদ্যুতের ইউনিটের দামের উপর। তাই কেনার আগে এনার্জি লেবেল দেখে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a comment