নাগপুর: ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, দাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চাইলেও পুলিশ তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি। এই ঘটনায় তাঁর বাবা ভগবান দিপকে এবং মা অনিতা দিপকেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরিবারের বক্তব্য, মানবিক কারণে অভিজিৎকে দাদির শেষ দর্শন এবং শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
অভিজিৎ দিপকের দাবি, দিল্লি পুলিশের আধিকারিকেরা সকালে তাঁকে তাঁর দাদির মৃত্যুর খবর জানান। এরপর তিনি নিজের গ্রামে থাকা এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফোন নম্বর দেখার জন্য তিনি পুলিশের কাছে নিজের মোবাইল ফোন চেয়েছিলেন, যাতে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
অভিজিতের অভিযোগ, পুলিশ আধিকারিকেরা তাঁর ফোন দিতে অস্বীকার করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইল নম্বর জানাতে বলেন। তিনি আধিকারিকদের জানান, নম্বরটি তাঁর মনে নেই এবং তা খুঁজে পেতে ফোনের প্রয়োজন। তবে তাঁর দাবি, এরপরও তাঁকে ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি।
অভিজিৎ এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পরিবারের এমন দুঃখজনক পরিস্থিতিতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তাঁর পাওয়া উচিত ছিল। তাঁর অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারের সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং মানবিক বিবেচনার বিষয়গুলি সামনে এসেছে।
অভিজিৎ দিপকের আরও দাবি, তিনি দিল্লি পুলিশের কাছে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিজিতের বক্তব্য, গ্রেফতারের পরিস্থিতিতেও একজন ব্যক্তির আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই যুক্তিতে তিনি পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে সরবরাহ করা বিবরণে দিল্লি পুলিশের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নেই। ফলে ফোন এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়গুলি আপাতত অভিজিতের অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।
গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে হেফাজতে থাকা ব্যক্তির অধিকার এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনায় কী ঘটেছিল, তা নির্ধারণের জন্য পুলিশের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিজিৎ জানান, দিল্লি পুলিশের আধিকারিকেরা ভোর প্রায় ৩টা ৩০ মিনিটে তাঁর কাছে এসে বাবা-মাকে ফোন করে গ্রেফতারের কথা জানাতে বলেন। এই সময় নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ যখন আগেই তাঁর গ্রেফতারের বিষয়টি জানত, তখন বাবা-মাকে দিনের বেলায় খবর দেওয়া হয়নি কেন।
তাঁর বক্তব্য, গভীর রাতে ছেলের গ্রেফতারের খবর পেয়ে বাবা-মা মানসিকভাবে বিচলিত হতে পারেন। অভিজিৎ আরও প্রশ্ন করেন, এটি যদি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে থাকে, তাহলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেত না কেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল আচরণের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে তাঁকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল।
নিজের বক্তব্যে অভিজিৎ দিপকে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, আধিকারিকেরা তাঁর পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেননি এবং মানবিক সংবেদনশীলতা দেখাননি।
পুলিশকর্মীদের ‘ইউনিফর্ম পরা গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন। অভিজিৎ বলেন, তিনি এবং তাঁর সমর্থকেরা সরকারকে ভয় পান না এবং ভবিষ্যতেও রাস্তায় নেমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।
তিনি আরও দাবি করেন, কোনও বন্ডে তিনি স্বাক্ষর করেননি। তবে এই বক্তব্যের আইনি প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট নথি এবং সরকারি তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিজিতের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের কার্যপ্রণালী এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের সময় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে। এই বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও সরবরাহ করা বিবরণে অন্তর্ভুক্ত নেই।
অভিজিৎ দিপকের বাবা ভগবান দিপকেও ছেলেকে দাদির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। হিঙ্গোলিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পুলিশ যদি অভিজিৎকে সময়মতো ছেড়ে দিত অথবা শেষকৃত্যের পর দিল্লিতে ফিরে আসার শর্তে যাওয়ার অনুমতি দিত, তাহলে সে দাদিকে শেষবারের মতো দেখতে পারত।
ভগবান দিপকে জানান, তিনি সামাজিক মাধ্যমে অভিজিতের নাগপুরে পৌঁছনোর খবর দেখেছিলেন। তাঁর মতে, পরিবারকে এমন দুঃখজনক খবর জানানোর পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশকে উপযুক্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, অভিজিৎকে আগে যেতে দেওয়া হলে সে দাদির শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারত। বাবার বক্তব্যে পরিবারের তরফে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে।
অভিজিৎ দিপকের মা অনিতা দিপকেও ছেলেকে সময়মতো ছেড়ে না দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ যদি এক দিন আগেই অভিজিৎকে যেতে দিত, তাহলে সে সরাসরি পরিবারের কাছে পৌঁছে দাদির শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারত।
অনিতা দিপকের মতে, পরিবারের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক সময়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের কিছুটা মানবিক বিবেচনা দেখানো উচিত ছিল। তিনি বলেন, ছেলে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে পরিবারের জন্য তা স্বস্তির হতো।
বাবা ও মায়ের বক্তব্যেই দাদির মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় অভিজিৎকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ এবং তাঁর বাবা-মায়ের বক্তব্যে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জরুরি পারিবারিক পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় ছাড় দেওয়ার বিষয়গুলি সামনে এসেছে। অভিজিতের দাবি, তাঁকে ফোন ব্যবহার করতে এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, তাঁর বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, তাঁকে দাদির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তবে সরবরাহ করা বিবরণে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, গ্রেফতার-সংক্রান্ত নথি এবং ঘটনার সময়ক্রমের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য নেই। তাই আপাতত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলি তুলে ধরা হচ্ছে।
ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্পষ্ট করতে দিল্লি পুলিশের প্রতিক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে গ্রেফতারের সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার অনুরোধের ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।










