একদিকে বস্টন ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষা, অন্যদিকে দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচি—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই সংবাদ শিরোনামে অভিজিৎ দিপকে। ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় এই তরুণের নাম সামনে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্রতিষ্ঠার সূত্রেও। সম্প্রতি দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করার খবর ঘিরেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু কে এই অভিজিৎ দিপকে? কোথায় পড়াশোনা করেছেন তিনি, আর কীভাবেই বা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেন?
মহারাষ্ট্রে জন্ম, মারাঠি মাধ্যমেই পড়াশোনার শুরু
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম অভিজিৎ দিপকের। তাঁর পড়াশোনার শুরু মারাঠি মাধ্যমের স্কুলে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা করেন তিনি। এরপর ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা চালিয়ে যান।
ককরোচ জনতা পার্টির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণিতে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিতে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন দিপকে। পড়াশোনায় এই সাফল্যের পরই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথে এগিয়ে যান তিনি।
২০১৮ সালে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক
উচ্চমাধ্যমিকের পর ঔরঙ্গাবাদের গভর্নমেন্ট কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন অভিজিৎ। ২০১৮ সালে সেখান থেকে স্নাতক হন তিনি।
এরপর কর্মজীবন শুরু করেন পুনেতে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্নাতক হওয়ার পর প্রায় দু’বছর ধরে পুনের দুটি স্টার্টআপে কাজ করেছিলেন তিনি। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তাঁর আগ্রহের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।
বস্টন ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে উচ্চশিক্ষা
২০২৩ সালে আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটির ফ্রেডরিক এস পারডি স্কুল অফ গ্লোবাল স্টাডিজে পড়ার সুযোগ পান অভিজিৎ দিপকে। দলটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অর্থনীতি তাঁর পড়াশোনার অন্যতম প্রধান বিষয়।
কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দিকে তাঁর এই যাত্রা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি ভারতের ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আম আদমি পার্টির সঙ্গে কাজ, তারপর নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন
শিক্ষা ও ছাত্রছাত্রীদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি অভিজিৎ দিপকে আগে আম আদমি পার্টির সঙ্গে কাজ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে ২০২৬ সালের মে মাসে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP।
তাঁর ডাকা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বহু তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণের কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের প্রসঙ্গও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আন্দোলন ও রাজনৈতিক ঘটনাগুলির দাবি এবং তার ফলাফল সম্পর্কে পৃথকভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত।
দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ফের আলোচনায়
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটচুরির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লিতে নতুন করে প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১০ অক্টোবর যন্তর-মন্তরে ঘোষিত বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার সময় মুম্বই থেকে দিল্লিগামী বিমানে অভিজিৎ দিপকেকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এরপর ১১ অক্টোবর ৫০ হাজার টাকার বন্ডে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং ককরোচ জনতা পার্টিকে নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।
ছাত্রছাত্রীদের অধিকার, শিক্ষা ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব হয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিজিৎ দিপকে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP-কে ঘিরে এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রে জন্ম, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে উচ্চশিক্ষা—দিপকের জীবনযাত্রার নানা দিকই এখন কৌতূহলের বিষয়।











