বাংলা সিনেমার পর্দায় কখনও গোয়েন্দা, কখনও রোম্যান্টিক নায়ক, আবার কখনও সঞ্চালকের ভূমিকায় দর্শকদের মন জয় করেছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি গালের সেই পরিচিত কাটা দাগও সমানভাবে নজর কেড়েছে। তবে এই দাগ কোনও স্টাইল নয়, বরং ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনার স্মৃতি, যা আজ তাঁর ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শৈশবের দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল চেহারা
স্কুলজীবনে পড়ার সময় এক বর্ষার দিনে সাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন আবীর। পিচ্ছিল রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে তাঁর। মুহূর্তের মধ্যে মুখে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে সেই ক্ষতচিহ্নই স্থায়ী দাগ হিসেবে থেকে যায় তাঁর ডান গালে।
‘দাঁত ভেঙে গেল’ ভেবেছিলেন অভিনেতা
একাধিক সাক্ষাৎকারে আবীর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর তিনি এতটাই ব্যথা পেয়েছিলেন যে প্রথমে মনে হয়েছিল তাঁর দাঁত ভেঙে গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরাও ভীষণ চিন্তায় পড়ে যান। বিশেষ করে তাঁর ঠাকুমা বারবার বলতেন, এই দাগ হয়তো সারাজীবন থেকে যাবে। সেই আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়।
যে দাগ নিয়ে ছিল সংশয়, সেটাই হয়ে উঠল আকর্ষণ
কৈশোর ও কলেজজীবনে নিজের মুখের এই দাগ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন অভিনেতা। তবে আশপাশের মানুষ কখনও এটিকে নেতিবাচকভাবে দেখেননি। বরং তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী—যিনি পরবর্তীকালে তাঁর জীবনসঙ্গী হন—তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, এই দাগ কোনও ত্রুটি নয়, বরং আলাদা ব্যক্তিত্বের পরিচয়।
অভিনয় জীবনে বাধা নয়, বরং বাড়তি পরিচিতি
সাধারণ ধারণা অনুযায়ী নায়কদের চেহারায় কোনও খুঁত থাকে না। কিন্তু আবীর সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। অভিনয় জগতে প্রবেশের পর গালের এই দাগ কখনও তাঁর সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং দর্শকদের কাছে তাঁকে আরও স্বতন্ত্র এবং স্মরণীয় করে তুলেছে।
চরিত্রে এনে দেয় আলাদা মাত্রা
পর্দায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের সময় আবীরের গালের দাগ অনেক সময় তাঁর অভিব্যক্তিকে আরও বাস্তব ও গভীর করে তোলে। অনুরাগীদের একাংশের মতে, এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যই তাঁকে অন্যান্য অভিনেতাদের থেকে আলাদা করেছে এবং তাঁর ‘চার্ম’-কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা Abir Chatterjee-র ডান গালের কাটা দাগ নিয়ে বরাবরই কৌতূহল রয়েছে অনুরাগীদের। অনেকেই মনে করেন এটি তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম আকর্ষণ। অথচ এই দাগের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে শৈশবের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি। যে ক্ষত একসময় পরিবারের উদ্বেগের কারণ ছিল, সেটাই পরবর্তীতে অভিনেতার স্বতন্ত্র পরিচয় হয়ে ওঠে।








