নোমুরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে এআই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলেও ২০২৬ সালে ফ্রেশারদের এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ দুর্বল হয়েছে। সংস্থাগুলো অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ফলে তরুণদের প্রথম চাকরি পাওয়ার পথ কঠিন হয়েছে।
এআই-এর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে ফ্রেশারদের জন্য এন্ট্রি-লেভেল সুযোগ কমছে। নোমুরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাগুলোতে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরের নিয়োগ কমেছে। ভারতের ৫৫% আইটি সংস্থা এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ কমার কথা জানিয়েছে, যেখানে সিনিয়র পদে এই হ্রাসের হার মাত্র ১৪%।
এআই-এর কারণে বড় সংখ্যায় চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা থাকলেও নোমুরার প্রতিবেদন পরিস্থিতির অন্য একটি দিক তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই যত সংখ্যক চাকরিকে প্রভাবিত করেছে, তার চেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কলেজ থেকে সদ্য বের হওয়া ফ্রেশারদের জন্য চাকরি পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হচ্ছে।
সমস্যাটি সরাসরি মোট চাকরির সংখ্যার তুলনায় এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগে বেশি দেখা যাচ্ছে। সংস্থাগুলো এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাদের আগে থেকেই কাজের অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষতা রয়েছে। এর ফলে তরুণদের কর্পোরেট ক্ষেত্রে কর্মজীবন শুরু করা কঠিন হয়ে উঠছে।
নোমুরার প্রতিবেদনে ভারতের কর্মসংস্থান বাজারে একটি কে-শেপড ট্রেন্ডের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ, একদিকে অভিজ্ঞ পেশাজীবী এবং উচ্চ-দক্ষতার পদের চাহিদা বজায় রয়েছে, অন্যদিকে এন্ট্রি-লেভেল প্রার্থীদের জন্য সুযোগ কমছে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশন্স-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের ৫৫% আইটি সংস্থা এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ কমার কথা জানিয়েছে। এর বিপরীতে সিনিয়র পদে নিয়োগ কমার হার মাত্র ১৪%। এই পার্থক্যের মধ্যে সংস্থাগুলোর নিয়োগ কৌশলের পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়েছে।

আগে অনেক সংস্থা ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ফ্রেশার নিয়োগ করত। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংস্থার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত করা হতো। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যারা আগে থেকেই নির্দিষ্ট প্রযুক্তি, সফটওয়্যার বা ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় কাজ করেছেন।
প্রতিবেদনে সংস্থাগুলোর আরেকটি প্রবণতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বড় সংখ্যায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে সংস্থাগুলো নতুন নিয়োগের সংখ্যা কমাচ্ছে। নোমুরা এটিকে ‘সাইলেন্ট ফায়ারিং’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সংস্থায় কর্মরত কর্মীদের সংখ্যা হঠাৎ কমে যায় না, কিন্তু নতুন কর্মীদের জন্য সুযোগ ক্রমশ সীমিত হয়। এর প্রভাব বিশেষ করে সেই তরুণদের ওপর পড়ে, যারা কলেজের পড়াশোনা শেষ করে প্রথম চাকরির সন্ধান করছেন।
স্টাফিং ফার্ম এক্সফেনোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আইটি ক্ষেত্রে নেট নিয়োগ ২০২২ অর্থবর্ষের প্রায় ৬ লাখ থেকে কমে ২০২৬ অর্থবর্ষে ১.৪ লাখ হয়েছে। এই পতনের প্রভাব ক্যাম্পাস নিয়োগেও দেখা যাচ্ছে।
এআই-এর কারণে সংস্থাগুলোর প্রয়োজন শুধু কম সংখ্যক কর্মীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; ভিন্ন ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদাও তৈরি হয়েছে। অটোমেশন এবং এআই টুল একাধিক সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ দ্রুত পরিচালনা করছে। ফলে সংস্থাগুলো এমন পেশাজীবীদের খুঁজছে, যারা এআই-এর সঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং জটিল দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রাখেন।
এর ফলে বর্তমান চাকরির বাজারে অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, ফ্রেশারদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
নোমুরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইকে শুধুমাত্র চাকরি হারানোর সঙ্গে যুক্ত করলে কর্মসংস্থানের পুরো চিত্রটি প্রকাশ পায় না। এআই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে, তবে কর্মসংস্থান বাজারে প্রবেশ করা তরুণদের জন্য প্রথম চাকরি পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে উঠছে।









