রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বড়োদামেও এলাকার বুটোলি গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় ঘুড়ি ধরতে গিয়ে ৮ বছরের এক শিশু খোলা বোরওয়েলে পড়ে যায়। প্রায় ৪৮ ফুট গভীরতায় আটকে থাকা ভানু গুজ্জরকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ৮ বছরের ভানু গুজ্জর সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে গ্রামের একটি কাটা ঘুড়ির পিছনে দৌড়াচ্ছিল। সেই সময় তার নজর খোলা বোরওয়েলের দিকে যায়নি এবং সে বোরওয়েলের মধ্যে পড়ে যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বাসিন্দারা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে বহু মানুষ জড়ো হন এবং প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে বের করার অভিযান শুরু করে।
বোরওয়েলটির গভীরতা প্রায় ৩০০ ফুট বলে জানানো হয়। তবে ভানু প্রায় ৪৮ ফুট গভীরতায় একটি জায়গায় আটকে ছিল। ফলে তাকে বাইরে আনার জন্য উদ্ধারকারী দলকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়।
উদ্ধার অভিযানের সময় বোরওয়েলের ভিতর থেকে শিশুটির আওয়াজ শোনা যায়। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ভানু জীবিত রয়েছে এবং সাড়া দিচ্ছে।
এরপর উদ্ধারকারী দল বোরওয়েলের ভিতরে ক্যামেরা ও দড়ি পাঠিয়ে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করে। শিশুটির কাছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছানোর জন্য পাইপের মাধ্যমে বোরওয়েলের ভিতরে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
উদ্ধারকারী দল ভানুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করে। শিশুটিকে নিরাপদ অবস্থায় রাখা এবং অতিরিক্ত ঝুঁকি ছাড়াই তাকে বাইরে নিয়ে আসাই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল।
শিশুটিকে সরাসরি বোরওয়েলের পথ দিয়ে বের করতে সমস্যা হওয়ায় উদ্ধারকারী দল বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা করে। এর জন্য বোরওয়েলের সমান্তরালে মাটি খননের কাজ শুরু করা হয়।
এই অভিযানে তিনটি জেসিবি মেশিন ব্যবহার করা হয়। বোরওয়েলের পাশে সমান্তরাল একটি গর্ত খনন শুরু করা হয়, যাতে সেখান থেকে শিশুটির কাছে পৌঁছনোর পথ তৈরি করা যায়।
তবে খননের সময় মাটি ও পাইপ ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। এরপর উদ্ধারকারী দল কৌশল পরিবর্তন করে শিশুটিকে বের করার অন্য পদ্ধতিতে কাজ শুরু করে।
শিশুটির কাছে পৌঁছতে উদ্ধারকারী দল এক স্থানীয় বাসিন্দারও সাহায্য নেয়। ইস্সার নামে ওই ব্যক্তি এর আগে কুয়ো ও পানিসংক্রান্ত দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি শিশুটিকে বের করার কাজে সহায়তার প্রস্তাব দেন।
এসপির অনুমতির পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তাকে বোরওয়েলের ভিতরে নামানোর চেষ্টা করা হয়। তাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে শিশুটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলেও পথে থাকা একটি পাথরের কারণে তিনি ভানুর কাছে পৌঁছতে পারেননি।
এরপর SDRF দল অন্যান্য প্রযুক্তিগত পদ্ধতি ব্যবহার করে শিশুটিকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়।
উদ্ধারকারী দল বোরওয়েলের ভিতরে শিশুটির অবস্থার ওপর নজর রাখতে ক্যামেরা ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে ভানুর পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়তা পাওয়া যায়। এরপর দড়ির সাহায্যে তাকে বাইরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শিশুটিকে ওপরের দিকে তোলা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অভিযানের পর রাত প্রায় ১১টার দিকে SDRF দল ভানুকে বোরওয়েল থেকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসে।
শিশুটিকে বাইরে আনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি পান। উদ্ধার অভিযান সফল হওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
উদ্ধার অভিযানে SDRF-এর প্রায় ১০ জন জওয়ান অংশ নেন। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর দলটি বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় শিশুটিকে অক্সিজেন সরবরাহ, তার অবস্থার ওপর নজর রাখা এবং নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাটি খনন থেকে শুরু করে বোরওয়েলের ভিতরে সরঞ্জাম পাঠানো পর্যন্ত একাধিক পদ্ধতিতে কাজ করা হয়।
![]()
উদ্ধারকারী দলের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল বোরওয়েলটির গভীরতা এবং তার আশপাশের মাটি ও কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা। তাই দ্রুততার পরিবর্তে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আলওয়ারের এই ঘটনা খোলা এবং ব্যবহার না হওয়া বোরওয়েল নিরাপদভাবে বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে। গ্রামীণ ও কৃষি এলাকায় খোলা বোরওয়েল শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই ধরনের ঘটনায় শিশুরা গভীর বোরওয়েলে আটকে পড়লে তাদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালাতে হয়। সেই সময় অক্সিজেনের ঘাটতি, মাটি ধসে পড়া এবং শিশুর আহত হওয়ার মতো ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞ এবং বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়, ব্যবহার না হওয়া বা খোলা বোরওয়েল শক্তভাবে বন্ধ করা উচিত। পাশাপাশি এই ধরনের জায়গার আশপাশে সতর্কতামূলক চিহ্ন এবং নিরাপত্তা ঘের তৈরি করা উচিত।
ভানুকে নিরাপদে বাইরে আনার পর তার পরিবার এবং গ্রামবাসীরা স্বস্তি পান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সহযোগিতা করেন।
ঘটনাটি বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জ্ঞান এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইস্সার শিশুটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করেন।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বোরওয়েলের ভিতরে আটকে থাকার পরও ভানুকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসাই ঘটনাটির প্রধান ফলাফল।
আলওয়ারের ঘটনার পর খোলা বোরওয়েল নিয়ে স্থানীয় স্তরে সতর্কতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে গ্রাম ও খেতের মধ্যে এমন জায়গাগুলি চিহ্নিত করা প্রয়োজন, যেখানে শিশু বা অন্যরা অজান্তে পৌঁছে যেতে পারে।
বোরওয়েলের ব্যবহার বন্ধ হওয়ার পর সেটিকে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসন, স্থানীয় সংস্থা এবং জমির মালিকদের স্তরে এই ধরনের জায়গার নজরদারি এবং সেগুলিকে নিরাপদভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।
ভানু গুজ্জরকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ঘটনাটি খোলা বোরওয়েলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলিকে দুর্ঘটনার আগেই নিরাপদ করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। গ্রামীণ এলাকায় এই ধরনের ঝুঁকি চিহ্নিত করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া শিশুদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।










