কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ভারত ও পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করা যায় না। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর, যা সাধারণত ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত, তার নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে করিডরটি আরও সুরক্ষিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
শিলিগুড়ি করিডর ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ এলাকা। এর আশপাশে একাধিক আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এই কারণে দীর্ঘদিন ধরেই করিডরটির নিরাপত্তা কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
অমিত শাহ বলেন, দেশের নিরাপত্তা শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায় না। আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তাও সমানভাবে জরুরি। সীমান্তে নজরদারি, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এবং অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় প্রয়োজন।
শাহের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে তার প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অংশেও পড়তে পারে। এই কারণে কেন্দ্র সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সম্পদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে।
অমিত শাহের সফরের সময় শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড-এর পরিকল্পনার ওপরও জোর দেওয়া হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।
এই ব্যবস্থায় সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংবেদনশীল এলাকায় ধারাবাহিক নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদেরও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী গ্রামবাসী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে সরকারি প্রকল্প এবং মৌলিক পরিষেবার পৌঁছনো বাড়ানোও নিরাপত্তার বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গির অংশ। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে উন্নয়নের মাধ্যমে সেখানকার মানুষের প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়।
শাহের সফরের সময় সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য জমি দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে BSF এবং SSB-এর জন্য ১,১২৯ একর জমি দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করা হয়। এর ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরিকাঠামোর প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
শিলিগুড়ি করিডরের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তাও এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে বেড়া, নজরদারি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েনের মাধ্যমে অবৈধ যাতায়াত ও অনুপ্রবেশের মতো চ্যালেঞ্জ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে আসছে।
অমিত শাহ নিরাপত্তার পাশাপাশি উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন। কেন্দ্র সরকার সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সরকারি উপস্থিতিও শক্তিশালী হয়।
শিলিগুড়িতে দেওয়া এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের নজর ক্রমশ বাড়ছে। শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে দেশের যোগাযোগের বিষয়টিও যুক্ত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে আলাদা করে না দেখার বিষয়টি উঠে আসে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক পৌঁছনো বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থার আওতায় নিরাপত্তা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে শিলিগুড়ি করিডরকে নিরাপদ রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বহু-সংস্থা সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত নজরদারি ও সমন্বয় ব্যবস্থা বাস্তবে কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়, তার ওপর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে।












