আন্ধ্র প্রদেশে হোম গার্ডদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা কেন্দ্র চালু, ৯৭৫ কর্মী পাবেন ৩৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কভারেজ

আন্ধ্র প্রদেশ সরকার বিশাখাপত্তনমে হোম গার্ডদের জন্য একটি স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে। প্রথম পর্যায়ে ৯৭৫ জন হোম গার্ড এবং তাঁদের পরিবারকে বছরে ৩ লক্ষ থেকে ৩৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যের স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ দেওয়া হবে।

আন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম-এ হোম গার্ডদের জন্য নিবেদিত একটি স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে রাজ্য সরকার। হোম গার্ডদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাঙ্গালাপুড়ি অনিতা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৯৭৫ জন হোম গার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সুবিধার আওতায় তাঁদের জীবনসঙ্গী এবং সর্বাধিক দুই সন্তানও স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ পাবেন। এর ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩,১৪০ জনেরও বেশি উপভোক্তা সরাসরি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের আওতায় হোম গার্ডদের প্রতি বছর ৩ লক্ষ টাকা থেকে ৩৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ প্রদান করা হবে। এই সুবিধার জন্য হোম গার্ডদের কোনও অর্থ প্রদান করতে হবে না।

সরকার জানিয়েছে, কম বেতনে পুলিশি ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাঙ্গালাপুড়ি অনিতা বলেন, হোম গার্ডরা রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা উপযুক্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তিনি জানান, কম বেতন, সীমিত চিকিৎসা সুবিধা এবং কর্মরত অবস্থায় ঝুঁকির মতো বিষয় বিবেচনায় রেখেই এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ হোম গার্ডদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

সরকারি আধিকারিকদের মতে, ভারতে প্রথমবার কোনও রাজ্য হোম গার্ডদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা কেন্দ্র এবং বিস্তৃত বিমা প্রকল্প চালু করেছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এটি অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োগযোগ্য একটি মডেল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

হোম গার্ডরা প্রায়শই পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেন। সরকারি বক্তব্যে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের সমতুল্য ভূমিকা পালন করলেও সীমিত সুবিধা ও কম বেতনে তাঁদের কাজ করতে হয়। নতুন প্রকল্পের লক্ষ্য এই বৈষম্য কমানো এবং উন্নত স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করা।

সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হোম গার্ডদের পরিবারগুলির জন্য এই প্রকল্প আর্থিক সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষত কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু বা গুরুতর দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত নিবন্ধন সহায়তা, দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং তথ্য প্রদানসহ বিভিন্ন পরিষেবা এক জায়গায় উপলব্ধ করা হবে, যাতে প্রক্রিয়াটি সহজ ও স্বচ্ছ করা যায়।

রাজ্য সরকারের মতে, প্রকল্পটি সফল হলে তা আরও বিস্তৃত পরিসরে কার্যকর করা হতে পারে। ভবিষ্যতে হোম গার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রকল্পের পরিধিও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্পকেও এই মডেলের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হতে পারে।

 

Leave a comment