দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির (AAP) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল কেন্দ্র সরকারের E20 জ্বালানি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের দাবি অনুযায়ী, তিনি মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় দলীয় সদর দপ্তর থেকে প্রায় ১০০ জন সমর্থককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ২.৩৩ লক্ষ মানুষের স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
AAP-এর দাবি, আবেদনপত্রটিতে ২.৩৩ লক্ষেরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর রয়েছে। দলের বক্তব্য, E20 পেট্রোল ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে জনমত সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই পদযাত্রার অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
এক সংবাদ সম্মেলনে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, E20 জ্বালানি নীতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের অভিযোগ সামনে আসছে। তাঁর অভিযোগ, বহু গাড়ির মালিকের মতে E20 পেট্রোল ব্যবহারের ফলে যানবাহনের মাইলেজে প্রভাব পড়ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
AAP-এর বক্তব্য, এই নীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সরকারের বিস্তৃত জনপরিসরে আলোচনা করা উচিত এবং নাগরিকদের উদ্বেগের সমাধান করা প্রয়োজন। দলটি দাবি করেছে, E20 জ্বালানির প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত, যাতে ভোক্তারা স্পষ্ট তথ্য পান।

অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান জানিয়ে আসছে যে ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির উদ্দেশ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ব্যয় হ্রাস করা এবং পরিবেশগত লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা। E20 পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোলের মিশ্রণ থাকে।
AAP দাবি করেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি টাউনহল কর্মসূচিতে E20 নীতির বিরোধিতায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলের ভেতর ও বাইরে উল্লেখযোগ্য ভিড় ছিল এবং লক্ষাধিক মানুষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কর্মসূচিটি দেখেছেন। কেজরিওয়াল বলেন, যানবাহন ব্যবহারকারী এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে E20 বিষয়ক আলোচনা বাড়ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক মাধ্যমে E20 নীতির বিরুদ্ধে মত প্রকাশকারী কিছু মানুষ ট্রোলিং এবং অন্যান্য ধরনের চাপের মুখে পড়ছেন। তবে এই অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ সম্ভব হয়নি।
AAP-এর দাবি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি অনলাইন আবেদন কয়েক দিন আগে শুরু করা হয়েছিল। দলের বক্তব্য, এই প্রচারাভিযান ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ২,৩৩,২৩৮ জন এতে স্বাক্ষর করেছেন। কেজরিওয়াল জানান, প্রায় এক মাস আগে তিনি E20 পেট্রোল নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগের বিষয়ে সরাসরি আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও চেয়েছিলেন। দলের দাবি, এখন তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে আবেদনপত্রটি জমা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।








