আসামের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) পাকিস্তানভিত্তিক কথিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত এক সন্দেহভাজন অপারেটিভকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামের হাইলাকান্দি জেলার রামনাথপুর এলাকায় বুধবার যৌথ অভিযানে ২১ বছর বয়সি ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে STF-এর সঙ্গে হাইলাকান্দি পুলিশের একটি দলও ছিল। পুলিশের দাবি, যুবকটির সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক কথিত সন্ত্রাসী সংগঠন শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক (SBN)-এর যোগ থাকার সন্দেহ রয়েছে।
পুলিশের মতে, জুলাই মাসে আসামের তিন জেলা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হাইলাকান্দিতে এই অভিযান চালানো হয়। কর্মকর্তাদের মতে, এই গ্রেপ্তারি আসামে কথিত নেটওয়ার্কটির কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য সীমান্তপারের সন্ত্রাসী যোগাযোগের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।
কর্মকর্তাদের মতে, হাইলাকান্দিতে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারটি আগের একটি মামলার তদন্ত থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর আগে ২৫ জুলাই আসামের ধুবরি, চিরাং এবং বরপেটা জেলা থেকে একই কথিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত তিন সন্দেহভাজন অপারেটিভকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ওই গ্রেপ্তারির পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অভিযুক্তদের যোগাযোগ, কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে STF হাইলাকান্দিতে থাকা আরও এক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে এবং তার গতিবিধির ওপর নজর রাখে।
এরপর STF ও স্থানীয় পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে রামনাথপুর এলাকা থেকে ২১ বছর বয়সি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপ তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে কথিত নেটওয়ার্কের স্থানীয় যোগাযোগ এবং তার কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য পেতে সহায়তা করতে পারে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের কথিত নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল। তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সন্দেহভাজন কেবল অনলাইন বা যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নেটওয়ার্কটির সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, নাকি তার ভূমিকা এর বাইরে বিস্তৃত ছিল।
পুলিশ সূত্রের মতে, তদন্তকারী সংস্থাগুলি সন্দেহভাজনের যোগাযোগ, যোগাযোগ-সংক্রান্ত কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি কথিত নেটওয়ার্কটি কীভাবে আসামে তাদের যোগাযোগ সম্প্রসারণ করেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মামলায় ২৫ জুলাইয়ের গ্রেপ্তারিগুলি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে। ধুবরি, চিরাং এবং বরপেটা জেলা থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর সংস্থাগুলি কথিত শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত নতুন তথ্য পায়।
সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয় এবং সম্ভাব্যভাবে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়াতেই তদন্তকারী সংস্থাগুলি হাইলাকান্দির রামনাথপুর এলাকায় বসবাসকারী ২১ বছর বয়সি সন্দেহভাজনের কাছে পৌঁছয়।
কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন জেলায় সামনে আসা ঘটনাগুলিকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে কথিত নেটওয়ার্কের কাঠামো এবং যোগাযোগ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তদন্ত বর্তমানে চলছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি হাতে থাকা তথ্য যাচাই করছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের অন্যান্য সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়েও তদন্ত করছে। কর্মকর্তাদের মতে, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন স্তরে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এখনও স্পষ্ট নয়, গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের কথিত ভূমিকা কতটা বিস্তৃত ছিল এবং কতদিন ধরে নেটওয়ার্কটির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।
তদন্তকারী সংস্থাগুলি এটিও যাচাই করছে যে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কার্যকলাপ অন্য জেলাগুলিতে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না। এমন সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত হলে মামলায় আরও গ্রেপ্তার বা পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আসাম পুলিশ এই অভিযানকে রাজ্যে কথিত সীমান্তপারের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির লক্ষ্য হল এই ধরনের নেটওয়ার্কের স্থানীয় উপস্থিতি শনাক্ত করা এবং তাদের সম্ভাব্য যোগাযোগের সন্ধান করা।
তবে কোনও ব্যক্তির গ্রেপ্তার নিজে থেকেই তার অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত, প্রমাণ এবং আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। ফলে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নেওয়া যাবে।
বর্তমানে STF এবং হাইলাকান্দি পুলিশ কথিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে তদন্ত করছে। কর্মকর্তাদের মতে, আগের গ্রেপ্তারিগুলি থেকে পাওয়া তথ্যগুলিকে সাম্প্রতিক মামলার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাইলাকান্দিতে ২১ বছর বয়সি সন্দেহভাজনের গ্রেপ্তারির পর আসামে কথিত পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ নিয়ে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ল। জুলাইয়ে তিন জেলায় গ্রেপ্তারির পর এই অভিযান তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে আরও একটি সূত্র দিয়েছে।
এখন তদন্তে দেখা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের নেটওয়ার্কে প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল, তার কতগুলি যোগাযোগ ছিল এবং কথিত সংগঠনটি আসামের অন্যান্য এলাকাতেও নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছিল কি না। তদন্ত এগিয়ে গেলে এসব বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বর্তমানে গোয়েন্দা তথ্য এবং গ্রেপ্তারিগুলি থেকে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে নেটওয়ার্কটির সম্পূর্ণ কাঠামো শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তদন্তে অতিরিক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা সামনে এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আসাম STF-এর সাম্প্রতিক অভিযান রাজ্যে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তপারের যোগাযোগ নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারির বিষয়টিও সামনে এনেছে। ২৫ জুলাইয়ের গ্রেপ্তারি থেকে শুরু হওয়া তদন্ত হাইলাকান্দি পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।











