অস্ট্রেলিয়া ম্যাকেতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশকে এক ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরিয়েছে। ম্যাচটি দুই দিনেই শেষ হয়, যেখানে মিচেল স্টার্ক বাংলাদেশের দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ১০টি উইকেট নেন।
প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়া টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সিদ্ধান্ত প্রথম বল থেকেই সঠিক প্রমাণিত হয়, যখন মিচেল স্টার্ক ম্যাচের প্রথম বলেই শাদমান ইসলামকে আউট করেন।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। স্টার্ক ১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে ছয়টি উইকেট নেন। প্যাট কামিন্স তিনটি এবং জশ হ্যাজলউড একটি উইকেট নেন।
বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম ১৪ রান করেন এবং তাইজুল ইসলাম ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ উইকেটে দুজন ২৫ রান যোগ করে বাংলাদেশকে আরও কম রানে অলআউট হওয়া থেকে রক্ষা করেন।
শরিফুল ইসলামের সাত উইকেট
বাংলাদেশ ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসও সহজ ছিল না। বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম সাতটি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে চাপে রাখেন।
এক সময় অস্ট্রেলিয়া ১৬৫ রানে আট উইকেট হারিয়েছিল। শরিফুল ক্যামেরন গ্রিন, ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথসহ অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য ব্যাটারকে আউট করেন। তিনি ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নেন। বিদেশের মাটিতে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি বোলারের এটিই সেরা পারফরম্যান্স বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যামেরন গ্রিন ৬৭ রান করেন, আর নাথান লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে পৌঁছে দেন। ফলে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানের লিড পায়।
গ্রিনকে আউট করে সাত উইকেট পূর্ণ করেন শরিফুল
দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া ১৬৫/৮ রান থেকে খেলা শুরু করে। ক্যামেরন গ্রিন ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং নাথান লায়ন ১০ রানে ক্রিজে ছিলেন।
দিনের শুরুতেই শরিফুল ইসলাম ইনসুইংিং ইয়র্কারে গ্রিনকে আউট করেন। বল গ্রিনের প্যাডে আঘাত করার পর বাংলাদেশ DRS-এর সাহায্য নেয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পে আঘাত করছিল।
এই উইকেটের মাধ্যমে শরিফুল প্রথম ইনিংসে তাঁর সাতটি উইকেট পূর্ণ করেন। এরপর জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে পৌঁছে দেন।
দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে
১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ আবারও নতুন বলের সামনে উইকেট হারাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯৫ রানে অলআউট হয়।
মিচেল স্টার্ক দ্বিতীয় ইনিংসে চারটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে তাঁর ১০ উইকেট পূর্ণ করেন। প্যাট কামিন্সও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, আর নাথান লায়ন নিচের সারির ব্যাটারদের আউট করতে ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩১ রান করেন। তবে তাঁর আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ৯৫ রানে শেষ হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া এক ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পায়।
স্টার্কের ১০ উইকেট
স্টার্ক বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ১২ রান দিয়ে ছয়টি উইকেট নেন এবং দ্বিতীয় ইনিংসে আরও চারটি উইকেট নেন। ফলে ম্যাচে তাঁর মোট উইকেটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০।
দ্বিতীয় টেস্টের আগে ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের কাছে নয় উইকেটে হেরেছিল। সেই জয়ের ফলে বাংলাদেশ দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।
ম্যাকে টেস্টে পেসারদের দাপট
ম্যাকে টেস্টে পেস বোলাররা অধিকাংশ উইকেট নেন এবং প্রথম দিনেই ১৮টি উইকেট পড়ে।
স্টার্ক ছয়টি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে অলআউট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে শরিফুল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে সাতটি উইকেট নেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন ৬৭ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। স্টিভ স্মিথ করেন ৪২ রান। বাংলাদেশের ব্যাটাররা দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হয়।
টেস্ট সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতা
ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে নয় উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়া ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্ট এক ইনিংস ও ৫১ রানে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরে।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ২১০ রান করে। বাংলাদেশ ৬৪ ও ৯৫ রানে দুই ইনিংসেই অলআউট হয়। স্টার্ক ম্যাচে ১০টি উইকেট নেন এবং শরিফুল ইসলাম অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে সাতটি উইকেট নেন।









