আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি আদায়, উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক নথি নিজের হেফাজতে রাখা এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ধুলিয়ানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা মেহবুব আলমকে গ্রেফতার করেছে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক চেকবুক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্পের অর্থ বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে।

বিক্ষোভ থেকেই তদন্তের সূত্রপাত
রবিবার বিকেল থেকেই ধুলিয়ান পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মেহবুব আলমের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। অভিযোগ, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল।বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগ সামনে এলেও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ জমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটে রবিবার।
উপভোক্তাদের চেকবুক নিজের কাছে রাখার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, আবাস প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার পর সেই অর্থ যাতে সরাসরি তুলতে না পারেন, তার জন্য চেকবুক, পাসবই ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক নথি আগে থেকেই নিজের কাছে জমা রাখতেন অভিযুক্ত নেতা।অভিযোগ অনুযায়ী, পরে সেই টাকা ব্যবহার করে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করা হতো। কিছু ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার পরও প্রকল্পের সুবিধা বাস্তবে পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা।

তল্লাশিতে উদ্ধার ২৩০টি চেকবুক
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি শুরু হয় বাড়িতে তল্লাশি অভিযান।পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযানের সময় বাড়ি থেকে ২৩০টি চেকবুক এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এত সংখ্যক চেকবুক একজন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে কীভাবে এল এবং সেগুলির ব্যবহার কী উদ্দেশ্যে করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আদালতে পেশ, হেফাজতের আবেদন পুলিশের
রবিবার রাতেই মেহবুব আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বয়ানে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এরপর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।সোমবার অভিযুক্তকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। আবাস যোজনার কত টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা জানতেই তদন্ত আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
ধুলিয়ান পৌরসভার প্রাক্তন প্রশাসক হিসেবে মেহবুব আলম এলাকার পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। ফলে তাঁর গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতির গভীর চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে আবাস যোজনা সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। প্রাক্তন পৌর প্রশাসক ও তৃণমূল নেতা মেহবুব আলমের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৩০টি চেকবুক ও একাধিক ব্যাঙ্ক নথি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।






