কলা এমন একটি ফল, যা কিনে আনার পরও পাকতে থাকে। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই খোসায় বাদামি বা কালো দাগ পড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে কলা নরম হয়ে যেতে শুরু করে। অনেকেই এই সমস্যা এড়াতে সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু কলা বেশি দিন ভালো রাখার জন্য আরও একটি সহজ ঘরোয়া কৌশল রয়েছে। কলার বোঁটার অংশে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল জড়িয়ে রাখলে পাকার গতি কিছুটা ধীর হতে পারে।
![]()
কেন এত তাড়াতাড়ি পেকে যায় কলা?
কলা ‘ক্লাইম্যাক্টেরিক’ ফল। অর্থাৎ গাছ থেকে পেড়ে নেওয়ার পরও এর পাকাভাব বাড়তে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় ইথিলিন গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কলা পাকতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ইথিলিনের প্রভাব বাড়ে এবং ফল ধীরে ধীরে নরম ও বাদামি হতে শুরু করে।বিশেষ করে কলার ডাঁটা বা বোঁটার দিক থেকেই ইথিলিন নির্গমনের সঙ্গে পাকানোর প্রক্রিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই অংশটিকে ঢেকে রাখার কৌশলটি অনেকে ব্যবহার করেন।
অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ট্রিক কীভাবে করবেন?
প্রথমে একটি ছোট টুকরো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল নিন। কলার গুচ্ছের উপরের ডাঁটা বা বোঁটার অংশটি ভালোভাবে ফয়েল দিয়ে মুড়ে দিন।আরও একটি পদ্ধতি হল, গোটা কাঁদি না রেখে প্রতিটি কলা আলাদা করে তার বোঁটা ফয়েল দিয়ে মুড়ে রাখা। এতে প্রতিটি কলার ডাঁটার অংশ আলাদা করে ঢেকে যায়।তবে ফয়েল দিয়ে মোড়ানো মানেই কলা একেবারে পাকবে না—এমনটা নয়। এই পদ্ধতি মূলত পাকানোর গতি ধীর করার একটি ঘরোয়া কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কলা কোথায় রাখবেন?
কলা ফয়েল দিয়ে মোড়ানোর পর ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা যেতে পারে। তবে সরাসরি রোদ পড়ে এমন জায়গায় রাখবেন না। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে ফল দ্রুত নরম হয়ে যেতে পারে।সম্ভব হলে কলার কাঁদি একটি হুকে ঝুলিয়ে রাখুন। এতে কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় চাপ পড়ে কলা থেঁতলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে। কারণ থেঁতলে যাওয়া অংশ দ্রুত নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পাকাভাবও বাড়িয়ে দিতে পারে।
![]()
অন্য ফলের পাশে কলা রাখবেন না
কলা দ্রুত পাকানো আটকাতে চাইলে কোথায় রাখছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আপেল বা অ্যাভোকাডোর মতো যেসব ফল থেকে ইথিলিন নির্গত হয়, তাদের সঙ্গে কলা পাশাপাশি না রাখাই ভালো।ফলের ঝুড়িতে সব ফল একসঙ্গে রাখার বদলে কলাকে আলাদা জায়গায় রাখলে পাকানোর গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
পেকে গেলে ফ্রিজে রাখতে পারেন
আপনার পছন্দমতো কলা পেকে গেলে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। ফ্রিজে রাখার ফলে কলার খোসা কালচে হয়ে যেতে পারে। এতে দেখতে কলাটি বেশি পাকা মনে হলেও ভিতরের শাঁস বেশ কিছুটা সময় ভালো থাকতে পারে।তাই শুধু খোসার রং দেখে কলা নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। খোসা ছাড়িয়ে ভিতরের অংশের গন্ধ, স্বাদ ও গঠন দেখে ব্যবহারযোগ্য কি না তা বোঝা যায়।
![]()
বেশি পেকে যাওয়া কলা ফেলবেন না
কলা অতিরিক্ত পেকে গেলে তা ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই, যদি ভিতরের অংশ স্বাভাবিক ও খাওয়ার উপযোগী থাকে। এমন কলা দিয়ে বানানা ব্রেড, স্মুদি, শেক বা বিভিন্ন ডেজার্ট তৈরি করা যায়।বরং বেশি পাকা কলা অনেক ক্ষেত্রে মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় এই ধরনের রেসিপিতে ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়।
![]()
বাড়িতে কলা এনে দু’-এক দিনের মধ্যেই কালো হয়ে নরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা প্রায় সকলেরই। তবে সামান্য কিছু কৌশল মেনে চললে কলা তুলনামূলক বেশি সময় ভালো রাখা সম্ভব। কলার বোঁটায় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল জড়ানো, ফলের সঠিক জায়গায় রাখা এবং অন্য কিছু ফল থেকে দূরে রাখার মতো কয়েকটি সহজ পদ্ধতি কাজে আসতে পারে।




