মা-ছেলের সম্পর্ক মানেই কখনও বকুনি, কখনও তর্ক, আবার কখনও গভীর ভালোবাসা। সেই চেনা সম্পর্ককেই মজার মোড়কে মানুষের সামনে তুলে ধরেন ‘বাঙালী মা জিন্দাবাদ’-এর জয় দাস। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মায়ের সঙ্গে নানা খুনসুটির মুহূর্ত বেশ পরিচিত। এবার সেই মায়ের জন্যই বিশেষ উপহার নিয়ে হাজির ছেলে। নিজের উপার্জনের টাকায় মায়ের হাতে তুলে দিলেন নতুন মোবাইল ফোন।
মায়ের সঙ্গে খুনসুটিই ‘বাঙালী মা জিন্দাবাদ’-এর পরিচয়
মায়ের সঙ্গে ছেলের সম্পর্কের মধ্যে যেমন থাকে বকুনি, তেমনই থাকে বন্ধুত্ব আর নির্ভরতা। জয় দাসের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ‘বাঙালী মা জিন্দাবাদ’-এ এই সম্পর্কের নানা মজার মুহূর্ত উঠে আসে।বয়স যতই বাড়ুক, মায়ের কাছে সন্তান যেন সেই ছোট্ট খোকাই থেকে যায়। জয়ও তার ব্যতিক্রম নন। মায়ের বকুনি থেকে শুরু করে ছেলের পালটা জবাব—তাঁদের কথোপকথনের মধ্যেই ফুটে ওঠে একেবারে ঘরের চেনা ছবি।
মায়ের জন্য এবার এল নতুন স্মার্টফোন
এবার সেই মজার মা-ছেলের গল্পে যুক্ত হল নতুন এক উপহার। মায়ের হাতে নতুন একটি মোবাইল ফোন তুলে দিয়েছেন জয়। ফোন ব্যবহার করলেও নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনের নানা বিষয় এখনও মায়ের কাছে পুরোপুরি সহজ নয়। তাই ছেলের কাছ থেকেই অনেক কিছু শিখতে হয় তাঁকে।তবে ফোন দেওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি উপহার দেওয়ার গল্প নয়। এর পিছনে রয়েছে জয়ের দীর্ঘ লড়াই এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্প।
২০২৩ সালে পকেটে ছিল না ১০ টাকাও
জয় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি একেবারেই ভালো ছিল না। এমন পরিস্থিতি ছিল যে মাত্র ১০ টাকার প্রয়োজন হলেও তাঁকে মায়ের কাছে চাইতে হত।ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় থাকতেন তাঁর মা। একই বয়সের বন্ধুরা একে একে চাকরি পেয়ে গেলেও জয় তখন ভাবতেন, তিনি জীবনে কী করবেন।
সাধারণ ডিভাইস দিয়ে শুরু করেছিলেন ভিডিও বানানো
সেই সময় নিজের যতটুকু কাজ জানা ছিল, সেটুকু কাজে লাগিয়েই ভিডিও তৈরি শুরু করেন জয়। তাঁর কথায়, খুব কম দামের একটি সাধারণ ডিভাইস দিয়েই শুরু হয়েছিল সেই পথচলা।ধীরে ধীরে সেই কাজই তাঁর পরিচিতি তৈরি করে। ‘বাঙালী মা জিন্দাবাদ’-এর মাধ্যমে মায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নানা মুহূর্তও মানুষের কাছে পৌঁছতে থাকে।
মায়ের মুখের হাসিই এখন জয়ের সবচেয়ে বড় শান্তি
নিজের পোস্টে জয় জানিয়েছেন, এখন তাঁকে নিয়ে মায়ের আর আগের মতো চিন্তা করতে হয় না। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সততার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।আর এবার নিজের উপার্জনের টাকায় মাকে ফোন কিনে দিতে পেরে তাঁর মনে হয়েছে, জীবনে অন্তত কিছুটা হলেও করতে পেরেছেন। মায়ের মুখে সেই হাসিই তাঁকে সবচেয়েবেশি শান্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়।একসময় যে ছেলেকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মায়ের চিন্তা করতে হত, আজ সেই ছেলেই নিজের রোজগারের টাকায় মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারছেন—মা-ছেলের সম্পর্কের এই ছোট্ট মুহূর্তই যেন পুরো গল্পটাকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
Bangali Maa Zindabad: মায়ের সঙ্গে মিষ্টি খুনসুটি আর মজার কথোপকথনের জন্য পরিচিত জয় দাস। একসময় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় থাকা সেই জয়ই আজ নিজের উপার্জনের টাকায় মায়ের হাতে তুলে দিলেন নতুন স্মার্টফোন। মায়ের মুখের হাসিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।











