দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে বারাসতের ঐতিহাসিক কাছারি ময়দান। মাঠটিকে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল ভেন্যু হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু হয়েছে পরিকল্পনা। শুধু ফুটবল মাঠই নয়, আধুনিক হাঁটার পথ, সৌন্দর্যায়ন এবং উন্নত নাগরিক পরিকাঠামো যুক্ত করে এটিকে জেলার অন্যতম ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামোর পরিকল্পনা
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে কাছারি ময়দানে তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল গ্রাউন্ড।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে থাকছে—
আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল মাঠ
আধুনিক ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ
সবুজায়ন ও ল্যান্ডস্কেপিং
উন্নত আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যায়ন
পরিচ্ছন্ন ও উন্মুক্ত পরিবেশ

ক্রীড়া ও সংস্কৃতির নতুন কেন্দ্র
শুধু খেলাধুলা নয়, ভবিষ্যতে কাছারি ময়দানকে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। উন্নত পরিকাঠামোর ফলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি বড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস
বারাসতের কাছারি ময়দানের ইতিহাস বহু পুরনো। একসময় এখানে ঘোড়দৌড়-সহ নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। স্থানীয় ইতিহাস ও বাংলার ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই মাঠ দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।তবে সময়ের সঙ্গে সংস্কারের অভাবে মাঠের পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য নিয়মিত ব্যবহার হলেও খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব ছিল স্পষ্ট।

দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে
স্থানীয় বাসিন্দা, ক্রীড়াপ্রেমী ও খেলোয়াড়রা বহুদিন ধরেই মাঠ সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বারাসত এবং গোটা উত্তর ২৪ পরগনার ক্রীড়া পরিকাঠামোয় নতুন দিগন্ত খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি হলে জেলার তরুণ ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পথও সুগম হতে পারে।

উত্তর ২৪ পরগনার ঐতিহ্যবাহী বারাসত কাছারি ময়দানকে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল গ্রাউন্ড হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে মাঠের আধুনিকীকরণ, ওয়াকওয়ে, সবুজায়ন ও উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে এগোচ্ছে।









