কলকাতার কাছেই রাজকীয় ছুটি কাটানোর ঠিকানা! ফোয়ারা, প্রাচীন স্থাপত্য আর বিলাসবহুল রিসর্ট—পুজোয় ঘুরে আসুন বাওয়ালি রাজবাড়ি

কলকাতা থেকে মাত্র ৩৫–৩৬ কিমি দূরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাওয়ালি রাজবাড়িতে রয়েছে রাজকীয় পরিবেশ, হেরিটেজ রিসর্টে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং কাছেই গুপ্ত বৃন্দাবনধাম মন্দির। জানুন ভ্রমণের খুঁটিনাটি।

পুজোর ছুটিতে পাহাড় কিংবা সমুদ্রের ভিড় এড়িয়ে একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা পেতে চান? আপনার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন বাওয়ালি রাজবাড়িকে। ইতিহাসের গন্ধমাখা প্রাচীন অট্টালিকা, রাজকীয় সাজসজ্জা এবং মনোরম পরিবেশ—সব মিলিয়ে এই জায়গায় মিলতে পারে এক অন্যরকম অবকাশযাপনের স্বাদ। কলকাতার খুব বেশি দূরে না হওয়ায় সপ্তাহান্তে ছোট্ট ভ্রমণের জন্যও এটি আকর্ষণীয় ঠিকানা।

কলকাতার কাছেই রাজকীয় পরিবেশের হাতছানি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাওয়ালিতে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রাজবাড়ি কলকাতা থেকে প্রায় ৩৫–৩৬ কিলোমিটার দূরে। শহরের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে অন্যরকম পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে এখানে ঘুরে আসতে পারেন।রাজবাড়ির স্থাপত্য, পুরনো দিনের আবহ এবং সাজানো পরিসর পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ফোয়ারা থেকে শুরু করে প্রাসাদোপম পরিবেশ—ছবি তোলা কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্যও জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।

ধ্বংসস্তূপ থেকে হেরিটেজ রিসর্ট

এক সময় মণ্ডল পরিবারের এই ঐতিহাসিক রাজবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছিল। পরে সংস্কারের মাধ্যমে পুরনো স্থাপত্যকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়। বর্তমানে এটি হেরিটেজ রিসর্ট হিসেবে পর্যটকদের স্বাগত জানায়।ঐতিহ্যবাহী পরিবেশের সঙ্গে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয় এই রাজবাড়ির অন্যতম আকর্ষণ। এখানে এসে শুধু ঘুরে দেখাই নয়, চাইলে নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে থাকা ও রাত কাটানোর পরিকল্পনাও করা যায়।

থাকা-খাওয়া থেকে চড়ুইভাতি—কী কী সুবিধা রয়েছে?

বাওয়ালি রাজবাড়িতে এক দিনের জন্য ঘুরতে যাওয়া কিংবা রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা—দুই ধরনের পরিকল্পনাই করা যেতে পারে। এখানে আমিষ ও নিরামিষ, দুই ধরনের খাবারেরই ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা যায়।রাজবাড়ির ভিতরে চড়ুইভাতি বা বিশেষ উপলক্ষে সময় কাটানোর জন্যও বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। তবে থাকা, খাওয়া, প্রবেশ এবং অন্যান্য পরিষেবার খরচ এক রকম নাও হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুকিং, প্যাকেজ ও বর্তমান মূল্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।

রাজ চক্রবর্তী ও শুভশ্রীর বিয়ের পর বেড়েছে পরিচিতি

বাওয়ালি রাজবাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়ার পিছনে রয়েছে তার রাজকীয় পরিবেশের পাশাপাশি তারকাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পরিচিতিও। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ও অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের পর থেকে জায়গাটি আরও বেশি মানুষের নজরে আসে।তারপর থেকেই অনেক পর্যটক এই ঐতিহাসিক রাজবাড়ির পরিবেশ উপভোগ করতে আগ্রহী হয়েছেন। প্রাচীন স্থাপত্যের পটভূমিতে ছবি তোলা কিংবা বিশেষ দিন উদ্‌যাপনের জন্যও এটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

রাজবাড়ির কাছেই রয়েছে গুপ্ত বৃন্দাবনধাম মন্দির

বাওয়ালি রাজবাড়ি ঘুরতে গেলে আশপাশের দর্শনীয় স্থানও ভ্রমণসূচিতে রাখতে পারেন। রাজবাড়ির কাছেই রয়েছে বাওয়ালি গুপ্ত বৃন্দাবনধাম মন্দির। ফলে রাজকীয় পরিবেশে সময় কাটানোর পাশাপাশি মন্দির দর্শনের পরিকল্পনাও করা সম্ভব।পুজোর ছুটিতে এক দিনের ছোট্ট ভ্রমণ কিংবা সপ্তাহান্তে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য বাওয়ালি হতে পারে আকর্ষণীয় বিকল্প। তবে পর্যটকদের ভিড় ও বুকিংয়ের পরিস্থিতি মাথায় রেখে আগে থেকে পরিকল্পনা করাই ভালো।

দুর্গাপুজোর ছুটিতে রাজকীয় পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাওয়ালি রাজবাড়ি হতে পারে দারুণ গন্তব্য। কলকাতা থেকে প্রায় ৩৫–৩৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রাজবাড়ি বর্তমানে হেরিটেজ রিসর্ট হিসেবে পরিচিত। পুরনো দিনের স্থাপত্য, ফোয়ারা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং রাজকীয় পরিবেশের টানে এখানে আসেন বহু পর্যটক। চাইলে এক দিনের ভ্রমণ কিংবা রাত কাটানোর পরিকল্পনাও করতে পারেন।

Leave a comment