লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে organisational cracks পূরণে নয়া দাওয়াই বিজেপির। চার বছর ধরে একঘরে হয়ে থাকা আদি শিবিরকে মাঠে নামাতে দিল্লির চাপ স্পষ্ট। সেই লক্ষ্যে ২৫ ডিসেম্বর বাজপেয়ীর জন্মদিনেই কলকাতায় হতে চলেছে পুরনো নেতা-কর্মীদের বিশাল সম্মেলন। ক্ষোভ সামলে দলকে গতি দিতেই এ উদ্যোগ, দাবি নেতৃত্বের।

আদি বনাম নব্য বিরোধ মেটাতে ব্যস্ত বিজেপি নেতৃত্ব
রাজ্যে টানা চার বছর ধরে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে বাড়ছিল ক্ষোভ। পুরনো বা আদি নেতা-কর্মীদের একের পর এক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় দলের ভিতরে ক্ষত তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ক্ষতই এবার সারানোর তৎপরতা শুরু করল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ছাব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে ঘর সামলে এগোতেই এই উদ্যোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
২৫ ডিসেম্বরই কলকাতায় পুরনোদের সম্মেলন
দলীয় সূত্রে খবর, প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিনকে সামনে রেখে ২৫ ডিসেম্বর কলকাতায় হবে এই বিশেষ সম্মেলন। প্রায় তিন হাজার পুরনো নেতা-কর্মীকে ডাকা হচ্ছে বলে দাবি। ইতিমধ্যেই হল বুকিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। শুধু স্মরণসভাই নয়, এদিন রাজ্য সংগঠন পুনর্গঠন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংবাদ রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
পুরনোদের সক্রিয় করার দায়িত্ব রাজকমল–প্রতাপের হাতে
দলীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের নির্দেশে রাজ্যের দুই প্রাক্তন সহ-সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজকমল পাঠকের হাতে পুরনোদের পুনঃসক্রিয় করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজকমল পাঠক জানান, “গত চার বছর ধরে বহু পুরনো নেতা–কর্মী কোনও দায়িত্ব পাননি। এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট বলেছে—সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। কেউ বসে থাকলে হবে না।”

বনসলের বৈঠকে স্পষ্ট ‘বার্তা’
২৮ নভেম্বর কলকাতার বৈঠকেই বনসল জানিয়ে দেন, আদি-নব্য বিভাজন চলতে দিলে সংগঠনে অস্থিরতা বাড়বে। দলকে শক্তিশালী করতে হলে পুরনোদের মাঠে নামা জরুরি। তাঁর মন্তব্যে ইঙ্গিত—আগামী লোকসভা নির্বাচনে অভিজ্ঞ নেতাদের ছাড়া পথ সহজ নয়।
দিলীপ ঘোষকে ঘিরে ক্ষোভ-সমীকরণ
বঙ্গ বিজেপির ‘ব্রাত্য তালিকা’র প্রথম সারিতেই রয়েছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বহুদিন দলীয় কর্মসূচি বা কমিটিতে তাঁকে দেখা যায়নি। প্রকাশ্যেও বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সংগঠন সূত্রে খবর, ভোটের আগে অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগ—এই দুই কারণেই দিলীপকে ফের সামনে আনার চিন্তাভাবনা করছে দল।
দলই ভরসা রাখছে পুরনো নেতৃত্বে
দলীয় মহলে জোর গুঞ্জন, ২০২১-পরবর্তী সময়ে রাজ্য সভাপতি, পর্যবেক্ষক—সব স্তরে নেতৃত্ব বদলের ফলে অনেক আদি কর্মী ও নেতার সক্রিয় ভূমিকায় ভাটা পড়েছিল। তাতে সংগঠনের শক্তি ক্ষয় হয়েছে বলেই ধারণা কেন্দ্রের। এবার তাই নতুন-পুরনোর দূরত্ব কমিয়ে ঐক্যের বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি। ছাব্বিশের রণক্ষেত্রে নামার আগে এই কৌশলকে ‘স্ট্র্যাটেজিক রিকনসাইলেশন’ বলেই চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিজেপির লক্ষ্য—সংগঠনকে চাঙা করে ভোটমুখী প্রস্তুতি
রাজনীতির অন্দরমহলে অনেকেই মনে করছেন, আদি-নব্য দ্বন্দ্ব মেটানো না গেলে ভোটে মাঠে নামা কঠিন হবে। তাই বছর শেষের এই সম্মেলন শুধু প্রতীকী আয়োজন নয়, বরং বিজেপির সংগঠন পুনরুজ্জীবনের প্রথম বড় পদক্ষেপ। পুরনোদের সক্রিয় করে বুথ স্তরে কাজ জোরদার করাই মূল উদ্দেশ্য।

ছাব্বিশের লোকসভা ভোট সামনে রেখে পুরনো-নতুন দ্বন্দ্ব সামলাতে সক্রিয় কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দীর্ঘদিন দায়িত্বহীন হয়ে পড়া আদি নেতা-কর্মীদের ফের দলে টানতেই ২৫ ডিসেম্বর কলকাতায় বড় সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ। দিলীপ ঘোষ-সহ ব্রাত্য নেতাদের ফের গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন সুনীল বনসল ও রাজ্য নেতৃত্ব।












