গ্রাম থেকে শহর—চিকিৎসা পৌঁছচ্ছে এক ক্লিকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ প্রকল্পের হাত ধরে বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় ডিজিটাল রূপান্তর আরও মজবুত হচ্ছে। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনে আয়োজিত রিভিউ বৈঠকে প্রকাশ্যে এল টেলিমেডিসিন পরিষেবায় রাজ্যের তিন জেলার নজিরবিহীন সাফল্যের ছবি।
টেলিমেডিসিনে সেরার তালিকায় কারা
স্বাস্থ্য দপ্তরের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, রাজ্যের মধ্যে টেলিমেডিসিন পরিষেবায় প্রথম স্থানে রয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ। দ্বিতীয় স্থানে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ এবং তৃতীয় স্থানে পূর্ব মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ। পরিষেবার গুণমান, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের নিরিখেই এই র্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা
বর্তমানে বাংলাজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে টেলিমেডিসিন পরিষেবা চালু রয়েছে। আশাকর্মীরা প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী চিহ্নিত করছেন। প্রয়োজন হলে রোগীদের সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে এসে সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি ফোন বা ভিডিও কনসালটেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের সাফল্য নিয়ে কী বললেন অধ্যক্ষ
রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের সাফল্য প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ ডা. করবী বড়াল জানান, টেলিমেডিসিন পরিষেবার ক্ষেত্রে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা কলেজের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর কথায়, এই স্বীকৃতি শুধু সাফল্যের স্বাক্ষর নয়, ভবিষ্যতে রোগীদের আরও উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করবে।
স্বাস্থ্যভবনের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
শুক্রবারের রিভিউ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের সুপার ও অধ্যক্ষরা। বৈঠকে যোগ দেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা। বৈঠকে টেলিমেডিসিনের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।
ই-প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করার পথে রাজ্য
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে ই-প্রেসক্রিপশন পরিষেবা চালু রয়েছে। এবার তা আরও সংগঠিত করে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন থাকলে কাগজ হারানোর ভয় থাকবে না এবং চিকিৎসকের হাতের লেখা বুঝতে না পারার সমস্যাও দূর হবে।
পিপিপি মডেলে সস্তায় সিটি স্ক্যান ও এমআরআই
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে একাধিক সরকারি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও ডায়ালিসিস পরিষেবা চালু রয়েছে। নামমাত্র খরচে এই পরীক্ষাগুলি পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। এই পরিষেবা সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মেডিক্যাল কলেজে বাড়ছে আসন সংখ্যা
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, যেসব মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা ২০০-র কম, সেখানে গড়পড়তা ৫০টি করে আসন বাড়ানো হবে। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে আসন বেড়ে হবে ২০০। পাশাপাশি পুরুলিয়া, রামপুরহাট, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজেও আসন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে টেলিমেডিসিন পরিষেবার সাফল্যে নতুন দিগন্ত খুলল বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়। স্বাস্থ্যভবনের রিভিউ বৈঠকে জানা গেল, বর্ধমান, রামপুরহাট ও তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ টেলিমেডিসিনে সেরা পারফরম্যান্স করেছে। পাশাপাশি ই-প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করা ও মেডিক্যাল কলেজে আসন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।










