১২ দিনে মধ্যপ্রদেশে রাহুল গান্ধীর দুটি সফর, বালাঘাটে বাইগা পরিবার ও কেন-বেতওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয় উত্থাপন

১২ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রদেশে দুটি সফর করেছেন রাহুল গান্ধী। বালাঘাটের জাগলা গ্রামে বাইগা আদিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি কেন-বেতওয়া প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জমি, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত বিষয়ও তুলেছেন।

মধ্যপ্রদেশে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়েছেন। ১ অক্টোবর তিনি বালাঘাটের জাগলা গ্রামে গিয়ে বাইগা আদিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেন এবং এর আগে কেন-বেতওয়া প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যাও তুলে ধরেছিলেন। ১২ দিনের মধ্যে তাঁর দুটি মধ্যপ্রদেশ সফর হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে আদিবাসী শিশুদের মৃত্যুর বিষয়টি গত কিছু সময় ধরে আলোচনায় রয়েছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ১ অক্টোবর রাহুল গান্ধী বিরসা ব্লকের জাগলা গ্রামে যান। সেখানে তিনি বাইগা আদিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেন এবং অসুস্থতার সময় সন্তান হারানো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর সেখানে পৌঁছানোর সময় আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ১,৫০০ গ্রামবাসীও উপস্থিত ছিলেন।

রাহুল গান্ধী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে বসে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। আলোচনার সময় তিনি স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বনাধিকার এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের কথা বলেন।

বালাঘাটে পৌঁছানোর আগে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেও আদিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করা এবং তাঁদের বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা জানিয়েছিলেন। সফরের সময় তিনি শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন। এগুলো তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ; এই বিষয়ে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক বক্তব্য সামনে এসেছে।

রাহুল গান্ধীর বালাঘাট সফরটি প্রায় ১২ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রদেশে তাঁর দ্বিতীয় সফর হওয়ায়ও আলোচনায় আসে। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্দোরে পৌঁছেছিলেন। সেই সময় আদিবাসী ছাত্র ও যুবকদের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলোও সামনে এসেছিল।

এর পর বালাঘাটের জাগলা গ্রামে গিয়ে রাহুল গান্ধী আদিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁর সাম্প্রতিক মধ্যপ্রদেশের কার্যক্রমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আদিবাসী অধিকার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

মধ্যপ্রদেশে আদিবাসী জনসংখ্যা এবং বিধানসভায় তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যার কারণে আদিবাসী বিষয়গুলো রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের ৪৭টি বিধানসভা আসন এসটি শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত।

রাহুল গান্ধীর মধ্যপ্রদেশ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুধু বালাঘাটে সীমাবদ্ধ নয়। কেন-বেতওয়া নদী সংযোগ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যাও তাঁর নজরে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জমি, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত প্রশ্নও ওঠে।

কেন-বেতওয়া প্রকল্প নিয়ে পন্না এলাকায় স্থানীয় স্তরে বিরোধিতা ও আপত্তির ঘটনাও সামনে এসেছে। এর ফলে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যাগুলো মধ্যপ্রদেশে পরিবেশ, বাস্তুচ্যুতি এবং আদিবাসী অধিকার-সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

রাহুল গান্ধীর পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলো দিল্লি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যক্রম এমন সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সাংগঠনিক স্তরে নিজেদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে।

রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক কার্যক্রমে একদিকে বালাঘাটে শিশুদের মৃত্যু এবং আদিবাসী স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে, অন্যদিকে কেন-বেতওয়া প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রশ্ন রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলো জাতীয় স্তরে তুলে ধরার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

এই সফরগুলোর ফলে বিজেপি বা কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানে কী প্রভাব পড়বে, তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ঘটনাক্রমের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা যেতে পারে। বর্তমানে রাহুল গান্ধী মধ্যপ্রদেশ-সংক্রান্ত তাঁর সাম্প্রতিক জনসমক্ষে কার্যক্রমে আদিবাসী, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং বাস্তুচ্যুতি-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

Leave a comment