নিয়মিত স্নান, সাবান বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করার পরও যদি শরীরের বিশেষ কিছু অংশ—যেমন বাহুমূল, গোপনাঙ্গ, হাত বা পায়ের তালু থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় এর পেছনে শুধু পরিচ্ছন্নতার অভাব নয়, বরং শরীরের ভেতরের কিছু স্বাস্থ্যগত কারণও থাকতে পারে। পুষ্টির ঘাটতিও সেই কারণগুলির মধ্যে একটি।
![]()
শুধু ঘাম নয়, আরও অনেক কারণেই হতে পারে শরীরের দুর্গন্ধ
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের দুর্গন্ধের পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে। যেমন—
অতিরিক্ত ঘাম
ত্বকের ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ
ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা
হরমোনের পরিবর্তন
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মানসিক চাপ
খাদ্যাভ্যাস
পুষ্টির ঘাটতি
তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে কেবল সুগন্ধি ব্যবহার না করে মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
ভিটামিন সি-এর ঘাটতি কী প্রভাব ফেলতে পারে?
ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ত্বকের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর তীব্র ঘাটতিতে স্কার্ভি নামে একটি রোগ হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্কার্ভির ক্ষেত্রে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম একটি লক্ষণ হতে পারে।
ভিটামিন সি পেতে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—
কমলালেবু ও লেবুজাতীয় ফল
আমলকি
পেয়ারা
ক্যাপসিকাম
ব্রকোলি
আলু
ভিটামিন বি২-এর সঙ্গে বিরল রোগের সম্পর্ক
ট্রাইমিথাইলঅ্যামিনুরিয়া (Fish Odour Syndrome) নামে একটি বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর থেকে মাছের মতো তীব্র গন্ধ বের হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন) শরীরে নির্দিষ্ট এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে এই অবস্থার উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।
![]()
ভিটামিন ডি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ভিটামিন ডি-এর উৎস—
সূর্যের আলো
ডিমের কুসুম
সামুদ্রিক মাছ
দুধ
ফোর্টিফায়েড খাদ্য
ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিও প্রভাব ফেলতে পারে
ভিটামিন বি১২ শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর ঘাটতিতে বিপাকের কিছু পরিবর্তনের কারণে শরীরের স্বাভাবিক গন্ধে পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বি১২-এর ভালো উৎস—
মাছ
মাংস
ডিম
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
জিঙ্কের ঘাটতি ও শরীরের গন্ধ
জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ক্ষত নিরাময় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ঘাটতিতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা পরোক্ষভাবে শরীরের দুর্গন্ধ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
জিঙ্ক পাওয়া যায়—
মাছ
মাংস
সামুদ্রিক খাবার
বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে
![]()
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলির কোনওটি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্গন্ধ
হঠাৎ শরীরের গন্ধে বড় পরিবর্তন
দুর্গন্ধের সঙ্গে জ্বর, ক্ষত বা সংক্রমণ
অতিরিক্ত ঘাম ও ওজন কমে যাওয়া
ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের অন্যান্য উপসর্গ
![]()
শরীরের দুর্গন্ধ শুধু ঘাম বা পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে হয় না। কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, সংক্রমণ বা নির্দিষ্ট রোগও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন বি২ এবং জিঙ্কের ঘাটতি পরোক্ষভাবে শরীরের স্বাভাবিক গন্ধে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্গন্ধ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।








