চার রাজ্যের ছয় আসনে উপনির্বাচনের গণনা শুরু, তামিলনাড়ুতে এগিয়ে TVK

২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর চার রাজ্যের ছয়টি বিধানসভা ও লোকসভা আসনে উপনির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ুর মদুরন্তকম ও ধারাপুরমে প্রাথমিক প্রবণতায় এগিয়ে TVK প্রার্থীরা। নজর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর এবং অসমের নগাঁও লোকসভা আসনের ফলাফলেও।

চার রাজ্যের ছয়টি বিধানসভা ও লোকসভা আসনে উপনির্বাচনের ভোটগণনা শুরু, তামিলনাড়ুতে এগিয়ে TVK প্রার্থীরা

২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর, শুক্রবার চার রাজ্যের ছয়টি বিধানসভা ও লোকসভা আসনে উপনির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক প্রবণতায় তামিলনাড়ুর মদুরন্তকম ও ধারাপুরম বিধানসভা আসনে তামিলগা ভেত্রি কাজাগমের (TVK) প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর এবং অসমের নগাঁও লোকসভা আসনের ফলাফলের দিকেও নজর রয়েছে। প্রাথমিক প্রবণতাকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

এই উপনির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা আসন, তামিলনাড়ুর দুটি বিধানসভা আসন, পুদুচেরির একটি বিধানসভা আসন এবং অসমের একটি লোকসভা আসন রয়েছে। গত ৬ অক্টোবর এই আসনগুলিতে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট আলাদা। কোথাও দল পরিবর্তনের কারণে আসন শূন্য হয়েছে, আবার কোথাও একাধিক আসনে জয়ী হওয়ার পর একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছে।

তামিলনাড়ুর মদুরন্তকম ও ধারাপুরম বিধানসভা আসনে প্রাথমিক প্রবণতায় TVK প্রার্থী মরগথম কুমারভেল ও পি. সত্যাভামা এগিয়ে রয়েছেন। দু’জনই আগে AIADMK-র টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। পরে তাঁরা দল থেকে পদত্যাগ করে TVK-তে যোগ দেন।

উপনির্বাচনে TVK দু’জনকেই পুনরায় প্রার্থী করেছে। এই দুই আসনের ফলাফল দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে রাজ্যের রাজনীতিতে দলের প্রভাব এবং ভোটারদের সমর্থনের চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তবে প্রাথমিক প্রবণতার ভিত্তিতে জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া এখনই সম্ভব নয়। ভোটগণনার পরবর্তী পর্যায়ে প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান বদলাতে পারে। সমস্ত পর্যায়ের গণনা শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হবে।

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী নির্বাচন, রাজনৈতিক দলগুলির সমর্থন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের বিষয় সামনে এসেছে।

নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানান। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-সম্পর্কিত একটি মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি জামিন পান।

এই আসনে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। ফলে নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে প্রার্থী ও দলীয় সমীকরণের পাশাপাশি এলাকার অতীত রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। পরে ভবানীপুর আসন নিজের কাছে রাখার জন্য তিনি নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে।

রেজিনগর আসনে BJP, কংগ্রেস, TMC-র সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠী, CPI(M) এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুমুখী হয়েছে। এই ধরনের নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়া ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা—দুটি আসনেই জয়ী হয়েছিলেন। নওদা আসনটি নিজের কাছে রেখে তিনি রেজিনগর ছেড়ে দেন। এর ফলে ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। AJUP রেজিনগর থেকে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করেছে।

মুসলিম-অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমর্থনের সমীকরণের দিক থেকেও নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ। BJP উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো বিষয় নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, AJUP-র উপস্থিতি কংগ্রেস ও TMC-র নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেছেন, নন্দীগ্রামে বহু ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তিনি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে পুনর্নির্বাচনের দাবির কথাও উল্লেখ করেছেন। এগুলি রাজনৈতিক অভিযোগ। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অসমের নগাঁও লোকসভা আসনে BJP-র দেবাশিস শর্মা, কংগ্রেসের শিবামণি বোরা এবং AIUDF প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। দেবাশিস শর্মা প্রাক্তন ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা (IAS) আধিকারিক।

ভোটগণনার আগে প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছিল।

AIUDF প্রধান বদরুদ্দিন আজমল ফলাফল নিয়ে নিজের দলের জয়ের বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতারাও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নগাঁওয়ে BJP, কংগ্রেস ও AIUDF-র মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজ্যের স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি ভোটারদের সমর্থনের বৃহত্তর সমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে চূড়ান্ত ভোটগণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও দলের নির্বাচনী সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

পুদুচেরির থাট্টানচাভাডি বিধানসভা আসনেও উপনির্বাচনের ভোটগণনা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী এন. রঙ্গস্বামী দুটি নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়।

তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির ফলাফলের দিকেও নজর রয়েছে, কারণ এই দুই অঞ্চলে রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী ফলাফল থেকে তাদের স্থানীয় জনসমর্থনের চিত্র পাওয়া যেতে পারে। তবে কোনও একটি আসনের ফলাফলকে গোটা রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রবণতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

ছয়টি আসনে বিভিন্ন কারণে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। তামিলনাড়ুতে দুই বিধায়কের দল পরিবর্তন ও পদত্যাগের পর আসন দুটি শূন্য হয়। পুদুচেরিতে মুখ্যমন্ত্রী দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় একটি আসন খালি হয়। পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীর দুটি করে নির্বাচনী কেন্দ্রে জয়ী হওয়ার পর একটি করে আসন ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্যদিকে, অসমে সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর লোকসভার সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছিলেন।

চারটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির ছয়টি আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তামিলনাড়ুতে TVK প্রার্থীদের প্রাথমিক এগিয়ে থাকা, পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অসমের নগাঁও লোকসভা আসনের ফলাফল এই ভোটগণনার গুরুত্বপূর্ণ দিক।

প্রাথমিক প্রবণতা থেকে এখনও কোনও প্রার্থীর জয় নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যায় না। ভোটগণনা সম্পূর্ণ হওয়া এবং নির্বাচনী আধিকারিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করার পরই জানা যাবে কোন প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

 

Leave a comment