পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করা সমীচীন নয়। ফলে আপাতত বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
বিরোধী দলনেতা নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান এই বিতর্ক এখন আদালতে পৌঁছেছে। কলকাতা হাইকোর্টের এই অবস্থানের ফলে বিধানসভার সভাপতির সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
এই বিরোধের সূত্রপাত তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্যকে ঘিরে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার হাইকোর্টের
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে শুনানির সময় আদালত জানায় যে, এই পর্যায়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করা হবে না। আদালত সব পক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামার মাধ্যমে তাদের জবাব ও আপত্তি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২৮ জুলাই। হাইকোর্টের এই অবস্থানের ফলে বিধানসভার সভাপতির সিদ্ধান্ত আপাতত বৈধ বলেই গণ্য হবে।
বিতর্কের সূত্রপাত
বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে দুটি পৃথক নাম সামনে আসে। দলের নেতৃত্বের একটি গোষ্ঠী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে। অন্যদিকে, দলের কথিত বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সমর্থন করে। এরপর বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম গ্রহণ করে তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিয়োগ করেন। এই সিদ্ধান্তের পর দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বৃদ্ধি পায় এবং বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

আদালতে উত্থাপিত প্রশ্ন
শুনানির সময় আদালত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন উত্থাপন করে। একই রাজনৈতিক দল যদি দুটি পৃথক নাম প্রেরণ করে, তাহলে স্পিকারের কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সব পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন কি না এবং স্পিকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি না—এসব বিষয় আদালতে আলোচনায় উঠে আসে।
স্পিকারের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী যুক্তি দেন যে, বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলনেতা সেই ব্যক্তিকেই ধরা হয় যিনি সদনের বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি আরও বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়।
জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ
মামলায় নতুন মাত্রা যোগ হয় কিছু নথিতে কথিত জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ সামনে আসার পর। ওই নথিগুলি বিরোধী দলনেতার মনোনয়নের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অপর এক বিধায়ক সন্দীপন সাহা প্রথম এই স্বাক্ষরগুলির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে বিষয়টি বিধানসভা সচিবালয়ে পৌঁছায় এবং একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।
এরপর পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে এবং স্বাক্ষরের নমুনাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।









