কেন্দ্রের আবেদনে NEET বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ১৩টি এফআইআর বাতিল নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

NEET বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দিল্লিতে দায়ের ১৩টি এফআইআর বাতিল করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্র সরকার। ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে মামলাগুলি শেষ করার আবেদন করা হয়েছে।

দিল্লিতে NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের ১৩টি এফআইআর বাতিল করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্র সরকার। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে মামলাগুলি শেষ করার অনুমতি চেয়েছে সরকার।

দিল্লিতে NEET-সংক্রান্ত ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলাগুলি নিয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে। কেন্দ্র সরকার বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৩টি এফআইআর বাতিল করার জন্য শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে এবং সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে মামলাগুলি শেষ করার অনুমতি চেয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি করবে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির মৌখিক উল্লেখ করেন এবং মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানির অনুরোধ জানান। প্রধান বিচারপতি আবেদন দাখিল করতে বলেন এবং ইঙ্গিত দেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোলে আদালতের আপত্তি থাকবে না।

দিল্লি পুলিশের দাখিল করা আবেদনে NEET বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৩টি এফআইআর বাতিল করার আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত প্রায় ২,৮৭৩ জনের কথিত ভূমিকা তদন্তের জন্য পৃথক এফআইআর দায়েরের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে।

২,৮৭৩ জনের ভূমিকা তদন্তের এই প্রস্তাবের বিষয়েও সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হবে।

কেন্দ্র এফআইআর বাতিলের জন্য সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। পূর্ণ ন্যায় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করার ক্ষমতা এই অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে।

মামলাটির আগের শুনানিতেও শীর্ষ আদালত একই বিধানের অধীনে এফআইআর বাতিলের সম্ভাবনা বিবেচনা করেছিল। ১৮ আগস্টের শুনানিতে আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিল যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলাগুলি শেষ করতে ১৪২ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করা হতে পারে।

কেন্দ্রের আবেদনে NEET বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ১৩টি এফআইআর বাতিল নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

শুনানির সময় আদালতকে জানানো হয়েছিল যে শুধুমাত্র পুলিশ স্তরে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করা সহজ নয়। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পুলিশকে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্লোজার রিপোর্ট পেশ করতে হতে পারে। এরপর সেই রিপোর্ট গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেটের থাকে।

এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে মামলাগুলি সরাসরি শেষ করতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। কেন্দ্রের আবেদনের ভিত্তিতে এখন শীর্ষ আদালত সিদ্ধান্ত নেবে, ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে এই মামলাগুলি শেষ করার পথ গ্রহণ করা যায় কি না।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার দিল্লি-সংক্রান্ত মামলাগুলি শেষ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংগঠনটির দাবি, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিশানা না করা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়রানি না করার আশ্বাসও সরকার দিয়েছে।

দাস আরও বলেন, NEET বিতর্কের পর প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির আশা রয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, সরকারের দেওয়া আশ্বাসগুলি তারা পর্যবেক্ষণ করতে থাকবে এবং আন্দোলনের সময় পদক্ষেপের মুখে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

কথিত NEET অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হয়েছিল। আন্দোলনের সময় বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন।

২০ জুলাই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করেন। সেই সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

২৫ জুলাই আন্দোলন শেষ হয়। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ার পর বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হয়।

 

Leave a comment