রাম মন্দির নির্মাণে L&T বাছাইয়ে নৃপেন্দ্র মিশ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল চম্পত রায়ের দাবি

রাম মন্দির নির্মাণে L&T-কে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নৃপেন্দ্র মিশ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন চম্পত রায়। নির্মাণে L&T, Tata Consulting Engineers, CSIR-NGRI, CBRI, IIT ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সংস্থার ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।
রাম মন্দির নির্মাণে L&T বাছাইয়ে নৃপেন্দ্র মিশ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল চম্পত রায়ের দাবি
Photo Credit / Attribution: Google

অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য L&T-কে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নৃপেন্দ্র মিশ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন তৎকালীন ট্রাস্টের মহাসচিব চম্পত রায়। মন্দির নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে L&T-এর ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে নৃপেন্দ্র মিশ্রের বৈঠক ও সাইট পরিদর্শনও হয়েছিল।

চম্পত রায় মন্দির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলিকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ কেবল একটি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নির্মাণ-সংক্রান্ত দায়িত্বের জন্য বিশেষজ্ঞ সংস্থা ও কোম্পানিকে যুক্ত করা হয়েছিল। L&T-এর পাশাপাশি টাটা কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সংস্থাও এই কাজে যুক্ত ছিল। 2021 সালের একটি CSIR উপস্থাপনাতেও রাম মন্দির নির্মাণ-সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে নৃপেন্দ্র মিশ্র, চম্পত রায় এবং L&T ও Tata Consulting Engineers-এর কর্মকর্তাদের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।

রাম মন্দির নির্মাণ কমিটির সভাপতি হিসেবে নৃপেন্দ্র মিশ্রের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফেব্রুয়ারি 2020 সালে তাঁকে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান করা হয়। একই সময়ে চম্পত রায়কে ট্রাস্টের মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়।

নির্মাণ শুরুর সময় থেকেই L&T-এর নাম সামনে এসেছিল। মার্চ 2020 সালের একটি প্রতিবেদনে চম্পত রায় বলেছিলেন, এত বড় প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা L&T-এর রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, কোম্পানিটি বিনা লাভে মন্দির নির্মাণের কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। ওই সময় L&T-এর এক সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নৃপেন্দ্র মিশ্রের সঙ্গে অযোধ্যা পরিদর্শনও করেছিলেন।

মন্দির নির্মাণের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও সাধারণ প্রকল্পের তুলনায় আলাদা ছিল। অযোধ্যায় মন্দিরের ভিত্তি এবং জমির দৃঢ়তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলির পরামর্শ নেওয়া হয়। মাটির নিচে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও মাটির পরিস্থিতি বিবেচনায় CSIR-NGRI, CBRI, IIT এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে প্রযুক্তিগত গবেষণায় যুক্ত করা হয়।

চম্পত রায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নয়ডার একটি ফার্মকে নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, নির্মাণ প্রক্রিয়ায় পছন্দের ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। তবে কোনও ব্যক্তি বা কোম্পানির বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগ বা পক্ষপাতের দাবিকে তথ্য হিসেবে গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সরকারি বক্তব্য দেখা প্রয়োজন।

রাম মন্দির নির্মাণে একাধিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞের ভূমিকা ছিল। L&T মূল নির্মাণকাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে। অন্যদিকে, নকশা, ইঞ্জিনিয়ারিং, মাটি পরীক্ষা, কাঠামোগত স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সংস্থার পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা শুধু কোম্পানি বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি নির্মাণের অগ্রগতি, ভিত্তি নির্মাণের প্রযুক্তি এবং মন্দিরকে দীর্ঘ সময় নিরাপদ রাখার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি নিয়মিত পর্যালোচনা করেছেন। 2020 সালে নির্মাণস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি চম্পত রায়ের কাছ থেকে মন্দিরের ভিত্তি, প্লিন্থ, ছাদ এবং নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য নিয়েছিলেন।

মন্দিরের ভিত্তি নির্মাণেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের লক্ষ্য ছিল মন্দিরের কাঠামো যাতে দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল ও নিরাপদ থাকে। নির্মাণ কমিটির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারাও সেই সময় মন্দিরের কাঠামোগত দৃঢ়তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

এই প্রকল্পে ধর্মীয় প্রত্যাশার পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং-সংক্রান্ত জটিলতাও ছিল। মন্দিরের নির্মাণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও ধর্মীয় প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং মানদণ্ডের ভিত্তিতে করা হয়। পরবর্তী সাক্ষাৎকারগুলিতেও নৃপেন্দ্র মিশ্র মন্দির নির্মাণের সময় সামনে আসা প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন।

চম্পত রায় দীর্ঘ সময় ধরে মন্দির নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করে এসেছেন। তিনি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করতেন এবং ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতেন। তাঁর বক্তব্য ও সাম্প্রতিক আলোচনায় আবারও উঠে এসেছে, মন্দির নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে কোন সিদ্ধান্ত কোন স্তরে নেওয়া হয়েছিল।

রাম মন্দির নির্মাণের মূল কাজ এখন প্রায় শেষ হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দির চত্বরের মূল নির্মাণকাজের পাশাপাশি এখন সংগ্রহশালা ও চত্বরের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কাজেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে চম্পত রায়ের বক্তব্যে L&T-এর মতো বড় নির্মাণ কোম্পানিকে বেছে নেওয়া এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে প্রকল্পে যুক্ত করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য উঠে এসেছে।

তবে “নিজের পছন্দের লোকজনকে নির্মাণকাজে যুক্ত করা” সংক্রান্ত বক্তব্যকে চম্পত রায়ের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত। কোনও কোম্পানি বা ব্যক্তিকে অনুচিত সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রমাণ করতে নথিভুক্ত বা সরকারি প্রমাণ প্রয়োজন। প্রকাশ্য নথিতে L&T এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সংস্থার প্রকল্পে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

রাম মন্দির নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় ট্রাস্ট, নির্মাণ কমিটি, ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এবং বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় ছিল। নৃপেন্দ্র মিশ্র নির্মাণ কমিটির সভাপতি এবং চম্পত রায় ট্রাস্টের মহাসচিব হিসেবে এই প্রক্রিয়ার প্রধান মুখগুলির মধ্যে ছিলেন।

Leave a comment