যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের দাবি

তা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যুদ্ধবিরতি, সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump নথিতে স্বাক্ষর করেন, আর ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এতে অনুমোদন দেন। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কথিত চুক্তির মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানো। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় সম্ভাব্য শিথিলতার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-এর উপস্থিতিতে ভার্সাই প্রাসাদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নথিতে সরাসরি স্বাক্ষর করা হয়, আর ইরান ডিজিটাল মাধ্যমে এতে অনুমোদন দেয়। অনুষ্ঠানের পর এটিকে একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে প্রচার করা হয়।

Donald Trump দাবি করেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধের অবসান এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত রাখা অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেন, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে পুনরায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এই সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির একাধিক নেতা এটিকে যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নয় বলে সমালোচনা করেছেন। সিনেট নেতা Chuck Schumer-সহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার বক্তব্য, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারেনি এবং সিদ্ধান্তটি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

ইরানের ভেতরেও সমঝোতাকে ঘিরে ভিন্নমত দেখা গেছে। কিছু সংসদ সদস্য এটিকে একটি কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে কেবল স্বাক্ষরের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

সমঝোতায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ এটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি প্রধান রুট। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনসহ কয়েকটি দেশ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা নিয়ে প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয়েছে, যদিও কিছু বৈঠকের অবস্থান ও সময়সূচি এখনও স্পষ্ট নয়।

 

Leave a comment