কেরল বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর জন্য ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তাদের প্রার্থীদের একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে মোট ৩৭ জন প্রার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি কেরল বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কংগ্রেসের দ্বিতীয় তালিকা।
এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে, পূর্বে ঘোষিত তালিকাসহ কংগ্রেস এখন পর্যন্ত মোট ৯২টি আসনে তাদের প্রার্থী নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে কন্নুর থেকে সাংসদ এবং সিনিয়র কংগ্রেস নেতা কে. সুধাকরণকে এইবার প্রার্থী করা হয়নি। তিনি কন্নুর আসন থেকে নির্বাচনে লড়ার দাবি জানিয়েছিলেন এবং সেই দাবিতে অনড় ছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা তিনি মেনে নেবেন। তবুও, দল তার প্রার্থিতা বিবেচনা করেনি এবং কন্নুর আসনে টি ও মোহননকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে, নেমোম আসন থেকে সাবরীনাধনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
কংগ্রেস তাদের প্রথম প্রার্থী তালিকা ১৭ মার্চ প্রকাশ করেছিল, যেখানে মোট ৫৫ জন প্রার্থী ছিলেন। দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশের পর দল এখন পর্যন্ত মোট ৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কেরল বিধানসভায় মোট ১৪০টি আসন রয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৯ এপ্রিল ২০২৬ এবং ভোট গণনা সম্পন্ন হবে ৪ মে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস মোট ৯৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং বাকি আসনগুলোতে তাদের জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমঝোতা করেছিল। সেই নির্বাচনে দল ২১টি আসনে জয়লাভ করেছিল।
কে. সুধাকরণ, পূর্ণ নাম কুম্ভকুডি সুধাকরণ, কেরল কংগ্রেসের একজন সিনিয়র নেতা। তিনি ২০০৯, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে কন্নুর থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (KPCC) প্রাক্তন সভাপতি এবং চারবার বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি কেরলে বন ও ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
কন্নুর অঞ্চলে তার প্রভাব এবং অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
কেরলে কংগ্রেস এবং তাদের জোটসঙ্গীদের নির্বাচনী কৌশল এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আসনভিত্তিক হিসাব, স্থানীয় জনসংখ্যা এবং দলের সংগঠনগত অবস্থান বিবেচনা করা হয়েছে। টি ও মোহনন এবং সাবরীনাধনকে প্রার্থী করা এই কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই নির্বাচনে কংগ্রেসের লক্ষ্য পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় উন্নত ফলাফল অর্জন করা এবং বিধানসভায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী করা।












