পুজো মানেই কেনাকাটা, আর বড় কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন অনেকেই। কিন্তু কার্ড বেছে নেওয়ার সময় শুধু ‘কত শতাংশ ক্যাশব্যাক’ বা ‘কত পয়েন্ট’ মিলছে, তা দেখলেই হবে না। কারণ নগদ ক্যাশব্যাকের মূল্য সরাসরি বোঝা গেলেও রিওয়ার্ড পয়েন্টের দাম নির্ভর করে রিডেম্পশনের নিয়মের উপর। ৫০,০০০ টাকার কেনাকাটায় দুই ধরনের সুবিধার হিসাব করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

৫০,০০০ টাকায় ২ শতাংশ ক্যাশব্যাক কত?
ধরা যাক, কোনও ক্রেডিট কার্ডে যোগ্য কেনাকাটায় ২ শতাংশ ক্যাশব্যাক দেওয়া হয়। আপনি পুজোর শপিংয়ে সেই কার্ডে ৫০,০০০ টাকা খরচ করলেন।হিসাব হবে—৫০,০০০ × ২% = ১,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক।অর্থাৎ, কার্ডের সমস্ত শর্ত পূরণ করলে আপনার প্রাপ্য ক্যাশব্যাকের মূল্য ১,০০০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থ ক্রেডিট কার্ডের বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হতে পারে। তবে কার্ডভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে।
এবার ৫,০০০ রিওয়ার্ড পয়েন্টের হিসাব
এবার ধরা যাক, অন্য একটি কার্ডে প্রতি ১০০ টাকা খরচে ১০টি রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাওয়া যায়। ৫০,০০০ টাকা খরচ করলে মোট পয়েন্ট হবে—৫০,০০০ ÷ ১০০ × ১০ = ৫,০০০ রিওয়ার্ড পয়েন্ট।কিন্তু এখানেই আসল বিষয়। ৫,০০০ পয়েন্ট মানেই যে ৫,০০০ টাকা, এমন নয়। প্রতিটি পয়েন্টের মূল্য কত, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কার্ডের রিডেম্পশন নিয়মের উপর।
৫,০০০ পয়েন্টের মূল্য কত হতে পারে?
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনও রিডেম্পশনে ১ পয়েন্টের মূল্য ২০ পয়সা।তাহলে ৫,০০০ পয়েন্টের মূল্য হবে ১,০০০ টাকা।আবার যদি কোনও রিডেম্পশন অপশনে ১ পয়েন্টের মূল্য ২৫ পয়সা হয়, তাহলে ৫,০০০ পয়েন্টের মূল্য দাঁড়াবে ১,২৫০ টাকা।অর্থাৎ একই সংখ্যক পয়েন্ট থেকেও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী পাওয়া সুবিধার মূল্য বদলে যেতে পারে।

ক্যাশব্যাকের সুবিধা কোথায়?
ক্যাশব্যাকের সবচেয়ে সহজ দিক হল এর হিসাব সরাসরি করা যায়। যেমন ১.৫ শতাংশ ক্যাশব্যাকের কার্ডে ৫০,০০০ টাকা যোগ্য খরচ হলে—৫০,০০০ × ১.৫% = ৭৫০ টাকা।এক্ষেত্রে কত টাকা ফেরত আসছে, তা আগে থেকেই সহজে বোঝা যায়। আলাদা করে গিফট ভাউচার, ট্রাভেল বুকিং বা অন্য রিডেম্পশন অপশন খুঁজে দেখার প্রয়োজন সাধারণত থাকে না।তবে ক্যাশব্যাকের ক্ষেত্রেও শর্ত থাকে। নির্দিষ্ট ক্যাটেগরিতে ক্যাশব্যাক প্রযোজ্য হতে পারে এবং মাসিক ক্যাশব্যাকের সর্বোচ্চ সীমাও থাকতে পারে।
‘৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক’ দেখেই সিদ্ধান্ত নয়
কোনও কার্ডে ৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক লেখা থাকলেই ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে আপনার পুরো ৫০,০০০ টাকার কেনাকাটায় ৫ শতাংশ ফেরত পাবেন।অনেক কার্ডে বেশি ক্যাশব্যাক শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ধরনের খরচে প্রযোজ্য হয়। পাশাপাশি মাসিক ক্যাশব্যাক ক্যাপ, ন্যূনতম খরচ, নির্দিষ্ট মার্চেন্ট বা অফারের সময়সীমার মতো শর্তও থাকতে পারে।তাই কার্ড ব্যবহারের আগে যোগ্য লেনদেন এবং সর্বোচ্চ ক্যাশব্যাকের সীমা দেখে নেওয়া জরুরি।
রিওয়ার্ড পয়েন্টের সুবিধা কী?
রিওয়ার্ড পয়েন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহারের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বিভিন্ন রকম হতে পারে। কার্ডের নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্ট দিয়ে গিফট ভাউচার, পণ্য, ট্রাভেল বুকিং কিংবা এয়ারলাইন ও হোটেল সংক্রান্ত সুবিধা নেওয়া যেতে পারে।কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রিডেম্পশন অপশনে পয়েন্টের মূল্য তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ফলে শুধু পয়েন্টের সংখ্যা না দেখে প্রতি পয়েন্টের প্রকৃত মূল্য কত হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
পয়েন্টের মেয়াদ ও রিডেম্পশন নিয়মও দেখুন
রিওয়ার্ড পয়েন্টের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। কোনও কোনও কার্ডে নির্দিষ্ট সময়ের পর পয়েন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে।এছাড়া রিডেম্পশন রেট, ব্যবহারযোগ্য ক্যাটেগরি, পয়েন্টের সীমা কিংবা বিভিন্ন শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পয়েন্ট জমালেই হবে না, সেগুলি কীভাবে এবং কত মূল্যে ব্যবহার করা যাচ্ছে সেটিও নিয়মিত দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

তাহলে ৫০,০০০ টাকার ক্ষেত্রে আসল হিসাব কী?
সহজভাবে দেখলে—
সুবিধা ৫০,০০০ টাকা খরচে উদাহরণ সম্ভাব্য মূল্য
২% ক্যাশব্যাক ১,০০০ টাকা ১,০০০ টাকা
১০ পয়েন্ট/১০০ টাকা ৫,০০০ পয়েন্ট ২০ পয়সা/পয়েন্ট হলে ১,০০০ টাকা
১০ পয়েন্ট/১০০ টাকা ৫,০০০ পয়েন্ট ২৫ পয়সা/পয়েন্ট হলে ১,২৫০ টাকা
তাই শুধু ‘৫,০০০ পয়েন্ট’ শুনে সেটিকে ১,০০০ বা ১,২৫০ টাকা ধরে নেওয়া যাবে না। কোন রিডেম্পশনে ব্যবহার করছেন, তার উপর চূড়ান্ত মূল্য নির্ভর করবে।

পুজোর কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ডে ৫০,০০০ টাকা খরচ করলে কার্ডের অফার অনুযায়ী ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাওয়া যেতে পারে। ২ শতাংশ ক্যাশব্যাক হলে ফেরত মিলবে ১,০০০ টাকা। আবার প্রতি ১০০ টাকা খরচে ১০ পয়েন্ট পাওয়া গেলে জমবে ৫,০০০ রিওয়ার্ড পয়েন্ট। তবে পয়েন্টের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে কোথায় এবং কীভাবে তা রিডিম করা হচ্ছে তার উপর।










