টয় ট্রেনেই ‘সোনার ফসল’! মে মাসে প্রায় ৪ কোটি টাকার আয়, নতুন ইতিহাস গড়ল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে ৩৯৫.৬০ লক্ষ টাকা আয় করে ইতিহাস গড়ল। টয় ট্রেনের জনপ্রিয়তা ও পর্যটকদের ভিড়েই এল এই রেকর্ড সাফল্য।

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলা টয় ট্রেন শুধু একটি পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, এটি দার্জিলিংয়ের আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সেই ঐতিহ্যই এবার রাজস্ব আয়ের নিরিখে নতুন মাইলফলক ছুঁল। ২০২৬ সালের মে মাসে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের আয় পৌঁছেছে প্রায় ৩৯৫.৬০ লক্ষ টাকায়, যা সংস্থার ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ আয় হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

পর্যটকদের ভিড়েই রেকর্ড আয়ের চাবিকাঠি

গ্রীষ্মকালীন ছুটির মরশুমে দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ে পর্যটকদের ঢল নেমেছিল। সেই সুযোগেই বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক বেছে নিয়েছেন ইউনেস্কো স্বীকৃত টয় ট্রেন সফর। বিশেষ করে দার্জিলিং-ঘুম হেরিটেজ জয়রাইড এবং কার্শিয়াং রুটে যাত্রীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ডিএইচআরের রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা।

আগের সব রেকর্ড ভাঙল ২০২৬

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ডিএইচআরের আয় ছিল ৩৫৮.৬০ লক্ষ টাকা। সেই রেকর্ড এবার ভেঙে ২০২৬ সালের মে মাসে আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৫.৬০ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসেই প্রায় ৪ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছে গিয়েছে পাহাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবা।পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, দার্জিলিংয়ের প্রতি নতুন প্রজন্মের আকর্ষণ বৃদ্ধি, সোশ্যাল মিডিয়ায় টয় ট্রেনের জনপ্রিয়তা এবং উন্নত পরিষেবাই এই সাফল্যের পিছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

জুন মাসেও আশার আলো

শুধু মে মাসেই নয়, জুন মাসেও একই ধারা বজায় থাকবে বলে আশাবাদী ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই অগ্রিম বুকিং এবং যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে অনুমান করা হচ্ছে, জুন মাসে রাজস্ব আয় ৩৭০ লক্ষ টাকার গণ্ডি অতিক্রম করতে পারে।যদি সেই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তাহলে চলতি বছর ডিএইচআরের ইতিহাসে অন্যতম সফল পর্যটন মরশুম হিসেবে চিহ্নিত হবে।

পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানেও ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ

গত কয়েক বছরের আয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে টয় ট্রেনের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সালের মে মাসে আয় হয়েছিল ৩১৯.৬৪ লক্ষ টাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫৮.১৮ লক্ষ টাকায়। যদিও ২০২৪ সালে আয় কিছুটা কমে ২৮৮.৫৮ লক্ষ টাকায় নেমে এসেছিল, তবে ২০২৫ সালে ফের তা ৩৫৮.৬০ লক্ষ টাকায় পৌঁছায়।সেই ধারাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ২০২৬ সালে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করেছে ডিএইচআর।

উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা

এই রেকর্ড আয় শুধুমাত্র রেলের সাফল্য নয়, উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের জন্যও অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা। টয় ট্রেনকে কেন্দ্র করে হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় ব্যবসা এবং পর্যটন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।রেল কর্তৃপক্ষের মতে, উন্নত পর্যটন প্যাকেজ, পরিষেবার আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার বৃদ্ধির ফলেই যাত্রী সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে আগামী মাসগুলিতেও এই সাফল্যের ধারা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঐতিহ্য আর পর্যটনের মিলিত সাফল্য

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শুধুমাত্র একটি ট্রেন পরিষেবা নয়, এটি উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং পর্যটনের অন্যতম প্রধান মুখ। শতাব্দী প্রাচীন এই রেলপথ আজও সমানভাবে আকর্ষণ করে বিশ্বের নানা প্রান্তের পর্যটকদের। সেই আকর্ষণই এবার রাজস্ব আয়ের নতুন ইতিহাস লিখল।

দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন ফের প্রমাণ করল তার অমলিন জনপ্রিয়তা। ২০২৬ সালের মে মাসে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) প্রায় ৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছে। পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান ভিড় এবং হেরিটেজ জয়রাইডের চাহিদা বৃদ্ধিকেই এই সাফল্যের প্রধান কারণ বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

Leave a comment