পুজোয় পাহাড়ে টয় ট্রেনের নয়া চমক! দার্জিলিং-ঘুমের পাশাপাশি নতুন রুটে ছুটবে ‘রেড পান্ডা’, ‘মুক্তধারা’

পুজোর মরশুমে দার্জিলিংয়ে টয় ট্রেনের নতুন জয়রাইড। ১ অক্টোবর থেকে দার্জিলিং-ঘুমের পাশাপাশি কার্শিয়াং-মাহানদী রুটে চলবে ‘রেড পান্ডা’ ও ‘মুক্তধারা’।

পুজোর ছুটিতে দার্জিলিং যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে পাহাড় ভ্রমণের তালিকায় যোগ হতে পারে আরও একটি আকর্ষণ। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের উদ্যোগে আগামী ১ অক্টোবর থেকে পুরনো দার্জিলিং-ঘুম জয়রাইডের পাশাপাশি কার্শিয়াং-মাহানদী রুটেও বিশেষ টয় ট্রেন পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃতি, ঐতিহ্যবাহী রেলপথ এবং টয় ট্রেনের নস্ট্যালজিয়া—সব মিলিয়ে পুজোর মরশুমে পর্যটকদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন অভিজ্ঞতা।

পুজোয় পাহাড়ে টয় ট্রেনের নয়া চমক! দার্জিলিং-ঘুমের পাশাপাশি নতুন রুটে ছুটবে ‘রেড পান্ডা’, ‘মুক্তধারা’
পুজোর মরশুমে বাড়ছে টয় ট্রেনের আকর্ষণ

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন বরাবরই পাহাড়ের অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ। পর্যটকদের বাড়তি সুবিধা এবং পুজোর মরশুমে সম্ভাব্য ভিড়ের কথা মাথায় রেখে এবার জয়রাইড পরিষেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।১ অক্টোবর থেকে দার্জিলিং-ঘুম রুটের পাশাপাশি কার্শিয়াং-মাহানদী রুটেও জয়রাইড চালুর প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে দার্জিলিংয়ের বাইরে কার্শিয়াং অঞ্চলের পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগও পর্যটকদের সামনে আরও সহজে পৌঁছে যাবে।

দার্জিলিং-ঘুম রুটে থাকছে চারটি জয়রাইড

নতুন সূচি অনুযায়ী দার্জিলিং ও ঘুমের মধ্যে মোট চারটি একমুখী জয়রাইড চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।দার্জিলিং থেকে ঘুমের উদ্দেশে দুটি ট্রেন ছাড়বে সকাল ৯টা ২০ মিনিট এবং ১১টা ২৫ মিনিটে। আবার ঘুম থেকে দার্জিলিংয়ের দিকে ফেরার জন্য পরিষেবা থাকবে সকাল ১০টা ২৫ মিনিট এবং দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে।এই জয়রাইডগুলি ডিজেলচালিত ট্রেনে পরিচালিত হবে। একমুখী যাত্রার প্রস্তাবিত ভাড়া রাখা হয়েছে ৮০০ টাকা।

পুজোয় পাহাড়ে টয় ট্রেনের নয়া চমক! দার্জিলিং-ঘুমের পাশাপাশি নতুন রুটে ছুটবে ‘রেড পান্ডা’, ‘মুক্তধারা’
কার্শিয়াং-মাহানদী রুটে ‘রেড পান্ডা’ ও ‘মুক্তধারা’

এবারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে কার্শিয়াং-মাহানদী রুটের দুটি বিশেষ জয়রাইড। তার মধ্যে প্রথমটির নাম রাখা হয়েছে ‘রেড পান্ডা’। এই পরিষেবাটি বাষ্পচালিত ট্রেনে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।সকাল ৯টায় কার্শিয়াং থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি সকাল ১০টা নাগাদ মাহানদীতে পৌঁছবে। এরপর মাহানদী থেকে কার্শিয়াংয়ের উদ্দেশে ফেরার কথা রয়েছে। পুরো রাউন্ড ট্রিপের প্রস্তাবিত ভাড়া ১,৫৩০ টাকা।অন্যদিকে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে কার্শিয়াং থেকে মাহানদীর উদ্দেশে ছাড়বে ‘মুক্তধারা’ জয়রাইড। বিকেল ৪টায় মাহানদী থেকে সেটি ফের কার্শিয়াংয়ের দিকে রওনা দেবে। ডিজেলচালিত এই পরিষেবার প্রস্তাবিত ভাড়া ১,০৩০ টাকা।

কেন ‘মুক্তধারা’ নাম?

নতুন জয়রাইডের নামকরণেও রয়েছে আলাদা তাৎপর্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই পরিষেবার নাম রাখা হয়েছে ‘মুক্তধারা’।পাহাড়ের পাগলাঝোরা এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘মুক্তধারা’ কবিতার একটি বিশেষ যোগসূত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাই এই নামের মাধ্যমে শুধু টয় ট্রেনের ঐতিহ্য নয়, পাহাড়ের প্রকৃতি এবং রবীন্দ্রসাহিত্যের আবহকেও একসঙ্গে সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুজোয় পাহাড়ে টয় ট্রেনের নয়া চমক! দার্জিলিং-ঘুমের পাশাপাশি নতুন রুটে ছুটবে ‘রেড পান্ডা’, ‘মুক্তধারা’
সেপ্টেম্বরেই হতে পারে পরীক্ষামূলক যাত্রা

নতুন পরিষেবা চালুর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মাহানদী রেলওয়ে স্টেশনে ‘মুক্তধারা’র একটি পরীক্ষামূলক যাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে। স্টেশন মহোৎসবের আগে এই ট্রায়াল রান আয়োজন করা হতে পারে।এর মাধ্যমে নতুন রুট ও পরিষেবার প্রস্তুতি যাচাইয়ের পাশাপাশি পর্যটক এবং রেলপ্রেমীদের কাছেও জয়রাইডটির বিশেষত্ব তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

পুজোয় পাহাড় সফরে নতুন অভিজ্ঞতার হাতছানি

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি রাস্তা, মেঘে ঢাকা চা-বাগান এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্যের সঙ্গে টয় ট্রেনের ধীরগতির যাত্রা পর্যটকদের কাছে বরাবরই আকর্ষণীয়। তার সঙ্গে এবার যুক্ত হতে পারে কার্শিয়াং-মাহানদীর নতুন জয়রাইড।পুজোর ছুটিতে পাহাড়মুখী পর্যটকদের জন্য এই পরিষেবা চালু হলে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত পরিসরে উপভোগ করার সুযোগ মিলবে। বিশেষ করে বাষ্পচালিত ‘রেড পান্ডা’ এবং ‘মুক্তধারা’ জয়রাইড ঘিরে রেলপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

পুজোয় পাহাড়ে টয় ট্রেনের নয়া চমক! দার্জিলিং-ঘুমের পাশাপাশি নতুন রুটে ছুটবে ‘রেড পান্ডা’, ‘মুক্তধারা’
দুর্গাপুজোর মরশুমে দার্জিলিংয়ে পর্যটকদের জন্য বাড়ছে টয় ট্রেনের আকর্ষণ। আগামী ১ অক্টোবর থেকে দার্জিলিং-ঘুম রুটের পাশাপাশি কার্শিয়াং-মাহানদী রুটেও চালু হওয়ার কথা বিশেষ জয়রাইড পরিষেবার। এর মধ্যে থাকছে বাষ্পচালিত ‘রেড পান্ডা’ এবং ডিজেলচালিত ‘মুক্তধারা’। ফলে পুজোর পাহাড় সফরে পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় যুক্ত হতে চলেছে নতুন মাত্রা।

Leave a comment