উত্তরবঙ্গের মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবের কাছাকাছি। দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা সামনে আসতেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে রেলযাত্রীদের মধ্যে। বর্তমানে যেখানে রাজধানী বা দুরন্ত এক্সপ্রেসে এই পথ পাড়ি দিতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে নতুন হাই-স্পিড করিডোর চালু হলে সেই সময় কমে দাঁড়াতে পারে মাত্র ৬ ঘণ্টায়।
দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি, গতি হবে ৩০০ কিমি পর্যন্ত
প্রস্তাবিত হাই-স্পিড রেল করিডোরে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা অনেক দ্রুত এবং আরামদায়ক হবে। রেল সূত্রের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগের নতুন যুগ শুরু হবে।
চার রাজ্যকে যুক্ত করবে নতুন করিডোর
এই বুলেট ট্রেন করিডোর দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গকে সরাসরি সংযুক্ত করবে। প্রকল্পটি মূলত দুটি হাই-স্পিড রেলপথের সমন্বয়ে গঠিত হবে। প্রথম অংশ দিল্লি-বারাণসী হাই-স্পিড করিডোর এবং দ্বিতীয় অংশ বারাণসী-পাটনা-শিলিগুড়ি করিডোর।
কোন কোন স্টেশনে থামবে বুলেট ট্রেন?
প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী মোট ১১টি স্টেশনে থামার সম্ভাবনা রয়েছে। সেগুলি হল—
নয়াদিল্লি
নয়ডা (জেওয়ার বিমানবন্দর)
মথুরা
আগ্রা
ইটাওয়া
লখনউ
প্রয়াগরাজ
বারাণসী
গাজিপুর
পাটনা
শিলিগুড়ি (নিউ জলপাইগুড়ি সংলগ্ন এলাকা)
এই স্টেশনগুলিকে কেন্দ্র করে উত্তর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জনবহুল অঞ্চলগুলির সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।
২০ ঘণ্টার সফর কমে হতে পারে মাত্র ৬ ঘণ্টা
বর্তমানে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি যেতে রাজধানী বা অন্যান্য দূরপাল্লার ট্রেনে প্রায় একদিন সময় লেগে যায়। নতুন বুলেট ট্রেন চালু হলে সেই যাত্রা সময় নাটকীয়ভাবে কমে যাবে। কর্মসূত্রে, ব্যবসায়িক কাজে বা পর্যটনের জন্য যাতায়াত অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি ও পর্যটনে বড় প্রভাব
শিলিগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। দার্জিলিং, সিকিম, ডুয়ার্স এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যাওয়ার প্রধান কেন্দ্র এই শহর। ফলে বুলেট ট্রেন চালু হলে পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও লজিস্টিক ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা মিলবে।
রেল প্রকল্পে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা
রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন রেল অবকাঠামো প্রকল্পে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দিল্লি-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড করিডোরকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জমি অধিগ্রহণ ও অ্যালাইনমেন্টের কাজ শুরু হতে পারে শীঘ্রই
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও রুট অ্যালাইনমেন্টের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। দিল্লি ও বারাণসী অংশে প্রাথমিক সমীক্ষা এবং জমি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে এখনও একাধিক প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ধাপ বাকি রয়েছে।
ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র। দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত প্রস্তাবিত হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন করিডোরের ঘোষণা করা হয়েছে। ঘণ্টায় ২৫০-৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলা এই ট্রেন চালু হলে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটারের পথ মাত্র ৬ ঘণ্টায় অতিক্রম করা সম্ভব হবে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে মোট ১১টি স্টেশনে থামার প্রস্তাব রয়েছে।









