দিঘা ভ্রমণ আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। পর্যটকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে আগামী জুলাই মাস থেকে দিঘায় প্রবেশের ক্ষেত্রে মাথাপিছু ১০ টাকার প্রবেশ কর তুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে পর্যটন, নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক নতুন প্রকল্পেরও ঘোষণা করা হয়েছে।

জুলাই থেকে আর দিতে হবে না প্রবেশ কর
দিঘায় বেড়াতে এলে এতদিন পর্যটকদের মাথাপিছু ১০ টাকা করে প্রবেশ কর দিতে হতো। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী জুলাই মাস থেকেই এই কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে। ফলে পরিবার বা বড় দল নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অতিরিক্ত খরচ কিছুটা কমবে।
মেরিন ড্রাইভ হবে আরও আধুনিক
দিঘার সৌন্দর্য ও পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে দিঘা থেকে শৌলা পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভকে ডাবল লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই রাস্তা শৌলা থেকে পেটুয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করারও লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের দাবি, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে পর্যটকেরা চেন্নাই বা মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের মতো অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন।

সমুদ্র সৈকতে বাড়বে নিরাপত্তা
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিঘার সমুদ্র সৈকতে নুলিয়ার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কর্মরত নুলিয়াদের পাশাপাশি নতুন কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় জোর
দিঘার দুই থানায় পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা যায়। পাশাপাশি নন্দকুমার-দিঘা রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই রুটে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়নেও গুরুত্ব
পর্যটনের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন, স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নন্দকুমার-দিঘা জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ এবং ঝাউবন সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

দিঘাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী জুলাই মাস থেকে দিঘায় প্রবেশের জন্য পর্যটকদের আর মাথাপিছু ১০ টাকার ট্যাক্স দিতে হবে না। পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, রেল ও সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও জানানো হয়েছে।








