‘শাহ বলতেই মাঠে নামলাম!’— সক্রিয় হয়েই নাম না করে শুভেন্দুকে খোঁচা দিলীপ ঘোষ

অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজনীতিতে সক্রিয় দিলীপ ঘোষ। সল্টলেকের সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ। ছাব্বিশের আগে বঙ্গ বিজেপিতে নতুন সমীকরণ।

দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে ফের রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষ। অমিত শাহের “মাঠে নামার” নির্দেশকেই সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য কার্যালয় থেকে স্পষ্ট ঘোষণা করলেন—তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গেই নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে খোঁচা, যা বঙ্গ বিজেপির অন্দরে শক্তির সমীকরণ নতুন করে নাড়িয়ে দিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

শাহের ইশারায় প্রত্যাবর্তন

বুধবার অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরই দিলীপ ঘোষের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরা ছিল প্রায় নিশ্চিত। বৃহস্পতিবার তা নিজেই স্বীকার করে নেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে দিলীপ বলেন, “অমিত শাহ মাঠে নামতে বলেছেন, তাই নেমে পড়েছি।” এই বক্তব্যেই স্পষ্ট—ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই তাঁর এই প্রত্যাবর্তন।

আট মাস পর বিজেপি দফতরে দিলীপ

প্রায় আট মাস পর সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য কার্যালয়ে হাজির হন দিলীপ ঘোষ। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। দিলীপের কথায়, “আমি সব সময়ই ছিলাম। ছয় বছর রাজ্য সভাপতি ছিলাম, পরে অন্য দায়িত্ব সামলেছি। দলের যেভাবে প্রয়োজন, আমি আছি।”

নাম না করে শুভেন্দুকে তীব্র কটাক্ষ

লোকসভা নির্বাচনের সময় কালো পতাকা দেখানোর প্রসঙ্গ তুলে নাম না করেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন দিলীপ। তিনি বলেন, “দলের কর্মীরা আমাকে কোনওদিন কালো পতাকা দেখায়নি। বদলানো পরিস্থিতিতে কিছু লোক এসেছে, এটা ওদের কালচার।” তাঁর ইঙ্গিত যে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের দিকেই, তা স্পষ্ট।

দলবদল রাজনীতিতে ক্ষোভ প্রকাশ

দলবদল নিয়ে আরও কড়া মন্তব্য করেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, “ওরা ঠিক করেছে না ভুল করেছে, সেটা আমি বলব না। ওরা থাকবে না চলে যাবে, সেটাও জানি না।” এই মন্তব্যে বিজেপির অন্দরের পুরনো বনাম নতুন নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এল।

বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না—এই প্রশ্নে দিলীপ সরাসরি না বলেননি। বরং জানান, দল চাইলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। ফলে দিলীপের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হল।

মমতার উদাহরণে লড়াইয়ের বার্তা

বিজেপির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দিলীপ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের উদাহরণ টানেন। বলেন, “লড়াই করতে হবে। লোক আসবে যাবে, কিন্তু আন্দোলন থেকে সরলে চলবে না।” এই বার্তাই কার্যত কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান।

অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরই রাজনীতির ময়দানে ফের সক্রিয় দিলীপ ঘোষ। সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট বার্তা দিলেন—ছাব্বিশের লক্ষ্যে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। নাম না করেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে বিজেপির অন্দরের রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।

Leave a comment