গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে ₹29 বৃদ্ধি দিল্লিতে মূল্য বেড়ে ₹942

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি 14.2 কেজি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে ₹29 বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে দিল্লিতে এর খুচরা মূল্য ₹913 থেকে বেড়ে ₹942 হয়েছে। তিন মাসে এটি দ্বিতীয় মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ব্যয় ও আমদানি-সংক্রান্ত

গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে ₹29 বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে দিল্লিতে 14.2 কেজি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ₹913 থেকে বেড়ে ₹942 হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির ঘোষণার পর সংশোধিত মূল্য মধ্যরাত থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

গত তিন মাসে গৃহস্থালি এলপিজির দামে এটি দ্বিতীয় বৃদ্ধি। এর আগে 7 মার্চ সিলিন্ডারের দামে প্রায় ₹60 বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ফলে তিন মাসের মধ্যে গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে মোট প্রায় ₹89 বৃদ্ধি হয়েছে।

তেল সংস্থাগুলির মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি খরচের পরিবর্তনের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে এলপিজির দামের ওঠানামা, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দুর্বলতা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যয়কে প্রভাবিত করেছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রতিটি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারে প্রায় ₹703 ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল। এই ব্যবধান কমানোর উদ্দেশ্যে আংশিক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সংস্থাগুলি জানিয়েছে, এই বৃদ্ধি এখনও সম্পূর্ণ ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে আরও মূল্য সংশোধনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গৃহস্থালি এলপিজির দামের এই বৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের মাসিক বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে শহর ও আধা-শহরাঞ্চলে, রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং এলপিজির এই মূল্যবৃদ্ধি পারিবারিক ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি ছোট ব্যবসা, ধাবা এবং স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের ওপরও পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে তারা তাদের পণ্যের দাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে পারেন।

এলপিজির আগে পেট্রোল, ডিজেল এবং সিএনজির দামেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে মোট প্রায় ₹7.50 প্রতি লিটার বৃদ্ধি হয়েছে, আর সিএনজির দাম প্রায় ₹6 প্রতি কিলোগ্রাম বেড়েছে।

তেল সংস্থাগুলি জানিয়েছে, পেট্রোলে প্রতি লিটারে প্রায় ₹11 এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ₹33.6 ক্ষতি হচ্ছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ প্রভাব গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়নি এবং এর একটি অংশ তেল বিপণন সংস্থাগুলি নিজেরাই বহন করছে।

ভারতে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ একাধিক অর্থনৈতিক ও নীতিগত উপাদানের ওপর নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক এলপিজি মূল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কারণ দেশের চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। পাশাপাশি ডলার-রুপি বিনিময় হারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রয় মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হয়।

চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের মধ্যে আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ এবং বিতরণ-সংক্রান্ত ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে। তেল বিপণন সংস্থাগুলি বাজার পরিস্থিতি ও এসব ব্যয়ের বিশ্লেষণ করে সময়ে সময়ে বা প্রয়োজন অনুযায়ী মূল্য সংশোধন করে।

সরকারের কর নীতি এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাও চূড়ান্ত মূল্যকে প্রভাবিত করে। তবে গত কয়েক বছরে ভর্তুকি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ফলে অধিকাংশ গ্রাহককে বাজারদরের কাছাকাছি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ওঠানামার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার দীর্ঘদিন ধরে অস্থির রয়েছে। ভারতসহ আমদানি-নির্ভর দেশগুলিতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। শক্তিশালী মার্কিন ডলারও আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব গ্রাহক পর্যায়ের মূল্যে পড়ছে।

ক্রমবর্ধমান এলপিজি মূল্য মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলির জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এর ফলে পরিবারগুলিকে অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে হতে পারে।

গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে এলপিজির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে, সেখানেও এই মূল্যবৃদ্ধি ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতার গতিকে প্রভাবিত করতে পারে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগগুলির জন্যও এটি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসগুলিতে এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের প্রবণতার ওপর নির্ভর করবে। অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম স্থিতিশীল হলে দেশীয় বাজারেও মূল্য ভারসাম্য দেখা যেতে পারে। তবে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে গ্রাহকদের আরও মূল্যবৃদ্ধির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

গ্রাহকদের ওপর চাপ এবং তেল সংস্থাগুলির ক্ষতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার ও তেল বিপণন সংস্থাগুলি তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a comment