Durga Puja 2026: টিফিনের ১০ টাকা করে জমিয়ে মূলধন! ৫০০ টাকায় নিজেই বানাল দুর্গাপ্রতিমা, মালদার খুদে পড়ুয়ার কীর্তিতে অবাক সকলে

প্রতিদিনের টিফিনের ১০ টাকা করে জমিয়ে মাত্র ৫০০ টাকায় দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করল মালদার গাজোলের নবম শ্রেণির ছাত্র বিক্রম সরকার। নিজের হাতে তৈরি প্রতিমাতেই হবে বাড়ির পুজো।

দুর্গাপুজোয় বড় বাজেটের প্রতিমা তৈরি করতে লাগে বহু টাকা। কিন্তু মায়ের আরাধনার জন্য অর্থ নয়, ইচ্ছেটাই যে আসল—তা দেখিয়ে দিল মালদার গাজোলের ১৫ বছরের বিক্রম সরকার। স্কুলের টিফিনের জন্য পাওয়া প্রতিদিনের ১০ টাকা খরচ না করে জমিয়ে সেই টাকাতেই তৈরি করে ফেলেছে নিজের হাতে দুর্গাপ্রতিমা। মাত্র ৫০০ টাকার উপকরণে তৈরি সেই প্রতিমাই এখন নজর কেড়েছে গোটা পাড়ার।

টিফিনের টাকা থেকেই শুরু স্বপ্নপূরণের পথ

ছোট থেকেই মায়ের আরাধনায় শামিল হওয়ার ইচ্ছে ছিল বিক্রমের। সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে স্কুলে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে পাওয়া টিফিনের টাকা খরচ না করে জমাতে শুরু করে সে।প্রতিদিন ১০ টাকা করে জমিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয় তার ছোট্ট মূলধন। সেই সঞ্চয় দিয়েই কাগজ, শলা, কার্ডবোর্ড, রঙিন কাগজ, শাড়ি-সহ বিভিন্ন উপকরণ কিনে শুরু করে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ।

প্রায় এক মাসের পরিশ্রমে তৈরি দেড় ফুটের প্রতিমা

প্রায় এক মাস ধরে ধীরে ধীরে নিজের হাতে প্রতিমাটি তৈরি করেছে বিক্রম। প্রায় দেড় ফুট উচ্চতার একচালা প্রতিমাটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা।প্রতিমার মূল কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে সাজসজ্জা এবং মায়ের বাহন তৈরির কাজ। নিজের হাতে তৈরি এই প্রতিমাতেই পুজোর কয়েক দিন ভক্তিভরে দেবী দুর্গার আরাধনা করতে চায় সে।

মন্ত্র না জানলেও ভক্তিতে কোনও খামতি নেই

বিক্রম জানিয়েছে, পুজোর মন্ত্র তার জানা নেই। তবে ষষ্ঠীর বোধন থেকে নিজের মতো করে ভক্তিভরে মায়ের পুজো করার ইচ্ছে রয়েছে তার।তার পরিবারও ছেলের এই উদ্যোগে অত্যন্ত খুশি। বিক্রমের বাবা বিকাশ সরকার একটি মিলে ঠিকা শ্রমিক এবং মা গৌরী সরকার গৃহবধূ। ছেলের সৃষ্টিশীল কাজ নিয়ে গর্বিত মা।

মোবাইলের বদলে সৃষ্টিশীল কাজে ব্যস্ত বিক্রম

বিক্রমের মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, মোবাইলে সময় নষ্ট না করে ছেলে বরাবরই বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কাজে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে। তার এই প্রতিভা দেখে খুশি প্রতিবেশীরাও।স্থানীয় পুরোহিত আমন কুমার ঝাও বিক্রমের তৈরি প্রতিমার হাতের কাজের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিমা তৈরিতে বিক্রমের আগ্রহের পাশাপাশি দেবদেবীর প্রতি তার অনুরাগও স্পষ্ট।

ছোট থেকেই মূর্তি তৈরির শখ

বিক্রমের মূর্তি তৈরির আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। মাত্র ৭-৮ বছর বয়স থেকেই কাগজ ও কার্ডবোর্ড দিয়ে রথ, জগন্নাথ, মনসা ও গোপালের মূর্তি তৈরি করে আসছে সে।এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছে দুর্গাপ্রতিমা। পুজো শেষে প্রতিমাটি বিসর্জন না দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখতে চায় বিক্রম। অর্থাৎ নিজের হাতে তৈরি প্রথম দুর্গাপ্রতিমাকে স্মৃতি হিসেবে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

ভবিষ্যতে অবশ্য অন্য স্বপ্ন

শিল্পীসত্তা থাকলেও ভবিষ্যতে পেশা হিসেবে শিল্পকেই বেছে নিতে চায় না বিক্রম। বড় হয়ে তার পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন। পড়াশোনার পাশাপাশি মূর্তি তৈরির শখটিও অবশ্য ধরে রাখতে চায় এই খুদে পড়ুয়া।

মোবাইনে সময় না কাটিয়ে নিজের স্বপ্নপূরণে টিফিনের টাকা জমিয়েছে মালদার গাজোলের নবম শ্রেণির ছাত্র বিক্রম সরকার। প্রতিদিনের ১০ টাকা করে সঞ্চয় করে প্রায় ৫০০ টাকা জোগাড় করে কাগজ, কার্ডবোর্ড, শলা ও রঙিন কাগজ দিয়ে নিজেই তৈরি করেছে প্রায় দেড় ফুটের একচালা দুর্গাপ্রতিমা। দুর্গাপুজোর কয়েক দিন বাড়িতেই সেই প্রতিমার আরাধনা করার পরিকল্পনা তার।

Leave a comment