অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। এবার ই-চালানের নামে ভুয়ো মেসেজ পাঠিয়ে গাড়িচালকদের টার্গেট করছে সাইবার স্ক্যামাররা। একটি লিঙ্কে ক্লিক করলেই খালি হয়ে যেতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, চলে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কার্ডের তথ্য।
ই-চালানের নামে নতুন সাইবার ফাঁদ
সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশলে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক এই স্ক্যামে মূলত যানবাহন চালকদের নিশানা করা হচ্ছে। ই-চালানের মেসেজ পেয়ে অনেকেই ভয় পেয়ে যাচ্ছেন, আর সেই সুযোগটাই নিচ্ছে প্রতারকরা।
৩৬টি ভুয়ো ওয়েবসাইটে চলছে প্রতারণা
সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা সাইবল জানিয়েছে, ই-চালান পোর্টালের মতো দেখতে অন্তত ৩৬টি ভুয়ো ওয়েবসাইট সক্রিয় রয়েছে। আশঙ্কার বিষয় হল—এই প্রতারণায় কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র একটি মেসেজই যথেষ্ট ফাঁদে পড়ার জন্য।
কীভাবে শুরু হয় স্ক্যাম? মেসেজেই প্রথম ধাক্কা
প্রথম ধাপে স্ক্যামাররা একটি ভারতীয় নম্বর থেকে মেসেজ পাঠায়। অনেক ক্ষেত্রেই নম্বরটি দেখে মনে হয় তা কোনও বড় ব্যাঙ্ক বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে মেসেজটি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
কম অঙ্কের চালান, ২৪ ঘণ্টার ভয় দেখানো ডেডলাইন
মেসেজে জানানো হয়, গ্রাহকের নামে একটি ট্রাফিক ই-চালান কাটা হয়েছে, যার অঙ্ক তুলনামূলক কম। সঙ্গে যোগ করা হয় ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
ভুয়ো ওয়েবসাইটে ঢুকলেই শুরু আসল খেলা
মেসেজের লিঙ্কে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারী পৌঁছে যান একটি নকল ওয়েবসাইটে।
দেখতে একেবারে সরকারি ই-চালান পোর্টালের মতো
একই লোগো, একই রঙের ব্যবহার
গাড়ির নম্বর দিলে ভুয়ো চালানের তথ্য দেখানো হয়
এরপর ব্যবহারকারীকে একটি পেমেন্ট পেজে নিয়ে যাওয়া হয়।
কার্ডে টাকা দিলেই ফাঁস সব তথ্য
এই পেমেন্ট পেজে সাধারণত শুধু ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে টাকা দেওয়ার অপশন থাকে। ব্যবহারকারী কার্ডের তথ্য পূরণ করামাত্রই—
টাকা
কার্ড নম্বর
CVV ও অন্যান্য তথ্য
সবই পৌঁছে যায় স্ক্যামারদের হাতে।
এই স্ক্যাম থেকে বাঁচবেন কীভাবে?
অজানা নম্বর থেকে আসা কোনও মেসেজের লিঙ্কে ক্লিক করবেন না
ই-চালান যাচাই করতে সবসময় সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন
যে ওয়েবসাইটে শুধু কার্ডে পেমেন্টের অপশন থাকে, সেখানে লেনদেন এড়িয়ে চলুন
সন্দেহজনক মেসেজ পেলে তা সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করুন
ই-চালানের নামে ভুয়ো মেসেজ ও লিঙ্ক পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে সাইবার অপরাধীরা। সরকারি ওয়েবসাইটের মতো দেখতে নকল পোর্টাল ব্যবহার করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা ও কার্ডের তথ্য। জেনে নিন এই নতুন স্ক্যাম কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন।













