East Bardhaman News: চলন্ত কামরায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল ৬ মাসের শিশু, ভোরে রেললাইনের মাঝে উদ্ধার! কীভাবে ঘটল ঘটনা?

কামরূপ এক্সপ্রেসে বাবা-মায়ের সঙ্গে যাচ্ছিল ৬ মাসের শিশু। ভোরে নিখোঁজ হওয়ার পর লক্ষীপুরের কাছে রেললাইনের মাঝে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার। কীভাবে সেখানে পৌঁছল, তদন্তে পুলিশ।

‘রাখে হরি তো মারে কে!’ চলন্ত ট্রেনে বাবা-মায়ের সঙ্গে সফর করছিল মাত্র ছ’মাসের শিশু। কিন্তু ভোরে ঘুম ভাঙতেই দেখা যায়, কামরায় নেই সন্তান। শুরু হয় তল্লাশি। কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলল চাঞ্চল্যকর খবর—রেললাইনের মাঝখানে ঘাসের মধ্যে পড়ে রয়েছে শিশুটি! সৌভাগ্যক্রমে জীবিত অবস্থাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে সে সেখানে পৌঁছল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।

অসম থেকে কলকাতার পথে, আচমকাই উধাও শিশু

জানা গিয়েছে, অসমের তিনসুকিয়া থেকে এক দম্পতি কামরূপ এক্সপ্রেসে কলকাতার দিকে আসছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল ছ’মাসের কন্যাসন্তান। ট্রেনের B1 এসি কোচেই বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল শিশুটি।বুধবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ ঘুম থেকে উঠে বাবা-মা লক্ষ্য করেন, তাঁদের সন্তান পাশে নেই। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তাঁরা রেল পুলিশের সাহায্য চান। ১৩৯ নম্বরে ফোন করে গোটা ঘটনা জানান তাঁরা। ধাত্রীগ্রাম স্টেশনেও খবর দেওয়া হয়।

অন্যদিকে রেললাইনের মাঝে পড়ে ছিল শিশু

এদিকে পূর্বস্থলী থানায় খবর পৌঁছয়, লক্ষীপুরের কাছে রেললাইনের মাঝখানে একটি শিশু পড়ে রয়েছে। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রথমে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাকে। সৌভাগ্যক্রমে শিশুটি জীবিত এবং সুস্থ অবস্থাতেই ছিল।

একাধিক জিআরপির তৎপরতায় বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ

শিশুটিকে উদ্ধারের পর শুরু হয় তার পরিবারের খোঁজ। কাটোয়া, কালনা, নবদ্বীপ এবং হাওড়া জিআরপির সমন্বয়ে শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।এরপর তাঁদের পূর্বস্থলী থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় এসে বাবা-মা শিশুটিকে নিজেদের সন্তান হিসেবে শনাক্ত করেন।

কিন্তু কীভাবে ট্রেন থেকে রেললাইনে পৌঁছল শিশুটি?

ঘটনার সবচেয়ে বড় রহস্য এখানেই। চলন্ত ট্রেনের এসি কামরা থেকে শিশুটি কীভাবে লক্ষীপুরের রেললাইনের মাঝখানে এসে পড়ল, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।যে জায়গা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে ট্রেন থামে না। ফলে যদি চলন্ত ট্রেন থেকেই শিশুটি পড়ে গিয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে সে ওই জায়গায় পৌঁছল এবং কোনও দৃশ্যমান আঘাত ছাড়াই কীভাবে বেঁচে গেল—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।অন্যদিকে, কেউ শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে সেখানে রেখে গিয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে সেক্ষেত্রেও কেন এমন বিপজ্জনক জায়গায় শিশুটিকে রাখা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ, ঘটনাস্থলে CWC

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে শিশুটির বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) প্রতিনিধিরাও।শিশুটি কীভাবে রেললাইনের মাঝে পৌঁছল, ঘটনায় অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

কামরূপ এক্সপ্রেসের B1 এসি কোচে বাবা-মায়ের সঙ্গে অসম থেকে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল ছ’মাসের এক শিশুকন্যা। ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাবা-মা দেখেন, সন্তান নেই। পরে লক্ষীপুরের কাছে দুটি রেললাইনের মাঝখানে ঘাসের মধ্যে শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কীভাবে চলন্ত ট্রেন থেকে শিশুটি সেখানে পৌঁছল, তা ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য।

Leave a comment