একদিকে জালে রুপোলি ইলিশ, অন্যদিকে সমুদ্রের চোখরাঙানি! দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে দিঘায় যখন ইলিশের মরসুম জমে উঠেছিল, ঠিক তখনই গভীর নিম্নচাপের ধাক্কায় উত্তাল হয়ে উঠল বঙ্গোপসাগর। দুর্ঘটনা এড়াতে সমুদ্রে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় মাঝসমুদ্র থেকে ট্রলার ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। ফলে ভরা মরসুমেও ফের দুশ্চিন্তার মেঘ দিঘার উপকূলে।
এক সপ্তাহ আগেও দিঘায় ছিল উৎসবের আমেজ
চলতি অগাস্টের শুরু থেকেই দিঘায় ইলিশের জোগান বাড়তে শুরু করেছিল। গত কয়েক দিনে একের পর এক ট্রলার ঘাটে ফিরেছে রুপোলি ফসল নিয়ে। ট্রলার ভর্তি ইলিশ দেখে মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের মুখেও ফুটেছিল স্বস্তির হাসি।দীর্ঘদিনের মন্দার ধাক্কা সামলে এই মরসুমকে ঘিরেই নতুন করে আশার আলো দেখছিল উপকূলের মানুষ। অনেকের আশা ছিল, ইলিশের ভালো জোগান পুরনো আর্থিক ক্ষতির কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেবে।
আচমকাই বাধ সাধল গভীর নিম্নচাপ
কিন্তু সেই আশায় ফের ধাক্কা দিয়েছে প্রকৃতি। বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের জেরে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার পাশাপাশি বইছে ঝোড়ো হাওয়া। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় বড় দুর্ঘটনা এড়াতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।ফলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে একে একে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে ট্রলার। বৃহস্পতিবার বেশিরভাগ মাছ ধরার ট্রলারই ফিরে এসেছে বলে মৎস্যজীবী সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে আশার কথা, ফিরে আসা বেশ কিছু ট্রলারেও ইলিশ ছিল।
ইলিশের মরসুমেই ফের আর্থিক চিন্তা
এবারের ইলিশ মরসুম ঘিরে দিঘার মৎস্যজীবীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কারণ আগের সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার অন্যতম বড় সুযোগ ছিল এই মরসুম।কিন্তু যখন সমুদ্রে ইলিশের দেখা মিলছে, ঠিক তখনই মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে শুধু মৎস্যজীবীরাই নন, ট্রলার মালিক এবং মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্যরাও উদ্বেগে রয়েছেন।
‘প্রতিদিন টন টন ইলিশ উঠছিল’, আক্ষেপ মৎস্যজীবী সংগঠনের
দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সময় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইলিশ উঠছিল। কিন্তু আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন মৎস্যজীবীদের বড় ধাক্কা দিয়েছে।তিনি জানান, বৃহস্পতিবার অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে। মাছ ধরা পুরোপুরি শেষ না করেই ফিরে আসতে হলেও কয়েকটি ট্রলারে ইলিশ ছিল।
কবে আবার সমুদ্রে নামবেন মৎস্যজীবীরা?
এই মুহূর্তে দিঘার মৎস্যজীবীদের একটাই অপেক্ষা—কবে কাটবে দুর্যোগের মেঘ, কবে শান্ত হবে সমুদ্র? আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেই ফের ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে চান তাঁরা।দিঘা মোহনা মৎস্য নিলাম কেন্দ্রেও তাই এখন অপেক্ষার আবহ। ভরা ইলিশের মরসুমে প্রকৃতির বাধা কতদিন স্থায়ী হয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী দিনের মাছের জোগান ও উপকূলের অর্থনীতি।
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিঘার সমুদ্র। ঝোড়ো হাওয়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। অথচ ঠিক এই সময়েই দিঘায় ইলিশের জোগান ছিল বেশ ভালো। ফলে মাছ ধরার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ফের আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকরা।













