পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) কর্মী শেখ আবদুল হাফিজের বাবা মফিকের মৃত্যুর ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের বেহাল দশার ভিডিও করার পর BJP কর্মীরা মফিককে মারধর করেছিলেন। পুলিশ এই অভিযোগ খারিজ করে ঘটনার পরিস্থিতি ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবারের দাবি, ১৩ আগস্ট মফিকের ওপর হামলা হয়। তিনি CJP-এর ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকার একটি স্কুলের বেহাল দশার ভিডিও করেছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, ভিডিও করার পর ওই সন্ধ্যায় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে ঢুকে মফিককে মারধর করেন।
হামলার দুই দিন পর, ১৫ আগস্ট রাতে মফিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পরিবার এটিকে কথিত রাজনৈতিক হামলার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে।
CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সোমবার বাঁকুড়ায় গিয়ে শেখ আবদুল হাফিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। রাঙ্কার অভিযোগ, BJP কর্মীদের মারধরের পর হাফিজের বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রাঙ্কার দাবি, পরিবার আগে হুমকি পেয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় পুলিশ সেই অভিযোগগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর বক্তব্য, সময়মতো পুলিশ পরিবারের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
এই অভিযোগগুলি রাজনৈতিক দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার পরিস্থিতি এবং মফিকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবার ও CJP-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেখ আবদুল হাফিজ ১৮ জুলাই একটি বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তিনি দলের ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হন।
অভিযোগ, এরপর স্থানীয় BJP বিধায়ক নির্মল ধারা এবং তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে হাফিজকে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। পরিবারের দাবি, এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই মফিকের ওপর হামলা হয়।
এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ হয়নি। পুলিশ তদন্তে কথিত হামলা, রাজনৈতিক বিরোধ এবং মফিকের মৃত্যুর মধ্যে সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ পরিবার ও CJP-এর পক্ষ থেকে করা কিছু অভিযোগ খারিজ করেছে। পুলিশের দাবি, হামলায় মফিক গুরুতর বা প্রাণঘাতী আঘাত পাননি। কর্মকর্তারা জানান, তিনি সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন এবং তার জন্য একটি সেলাই করা হয়েছিল।
পুলিশের মতে, ১৫ আগস্ট সকালে মফিকের রক্তচাপ হঠাৎ ওঠানামা করে। এরপর তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর প্রাণঘাতী আঘাত ছিল না। তবে ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্ন দাবি সামনে আসায় তদন্তে মেডিক্যাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, মফিকের মৃত্যুর সঙ্গে কথিত মারধরের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না।

পুলিশ এই ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন নামধারী অভিযুক্ত এবং তদন্তের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত পাঁচজন রয়েছেন। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করার পর আট দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কথিত হামলায় যুক্ত অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। কর্মকর্তাদের মতে, আরও দুজন অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। তদন্তে ঘটনাস্থল, পরিবারের বক্তব্য এবং উপলব্ধ প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনা করে হাফিজের বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য একজন পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে CJP নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
CJP-এর ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এই অভিযানের আওতায় সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের পাওয়া সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিষয়গুলি তুলে ধরা হচ্ছে।
CJP নেতা অভিজিৎ দীপকে শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে তাঁর গ্রাম থেকে এই অভিযান শুরু করেছিলেন। তিনি সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, সরকারের অবহেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের।
দীপকে বেসরকারি স্কুলের ফি-র ওপর সীমা নির্ধারণের দাবিও জানান। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার ওপর বাড়তে থাকা আর্থিক বোঝা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
বাঁকুড়ার ঘটনাটিকে এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, কারণ পরিবারের দাবি, মফিক স্কুলের বেহাল দশার ভিডিও করেছিলেন। তবে পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, কথিত হামলাটি শুধু স্কুলের ভিডিওকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, নাকি এর পেছনে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক বিরোধ ছিল।
BJP কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের বিষয় হয়ে উঠেছে। CJP এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরার কারণে কাউকে নিশানা করা উচিত নয়।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, আইন ও উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারের পর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে কথিত হামলা এবং মফিকের মৃত্যুর মধ্যে সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মফিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পরিবারের দাবি এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পরিবারের দাবি, কথিত মারধরের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং দুই দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের বক্তব্য, হাসপাতালে পরীক্ষার সময় তাঁর প্রাণঘাতী আঘাত পাওয়া যায়নি এবং মৃত্যুর আগে তাঁর রক্তচাপ হঠাৎ ওঠানামা করেছিল।
মেডিক্যাল নথি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য তদন্ত-সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তের অংশ। পুলিশ কথিত হামলার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
বর্তমানে আটজন অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আরও দুজনের খোঁজ চলছে। পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার চূড়ান্ত পরিস্থিতি ও মফিকের মৃত্যুর কারণ তদন্ত এবং মেডিক্যাল প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।










