ঘুমের মধ্যে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা এক্সপ্লোডিং হেড সিন্ড্রোমের লক্ষণ হতে পারে, সাধারণত ক্ষতিকর নয়

ঘুমের সময় বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে হঠাৎ জোরে শব্দ শোনা এক্সপ্লোডিং হেড সিন্ড্রোম নামে পরিচিত একটি স্লিপ ডিসঅর্ডারের লক্ষণ হতে পারে, যা সাধারণত সাময়িক এবং ক্ষতিকর নয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

ঘুমের মধ্যে বা ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে হঠাৎ তীব্র বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা একটি স্লিপ কন্ডিশন এক্সপ্লোডিং হেড সিন্ড্রোমের লক্ষণ হতে পারে, যা সাধারণত সাময়িক এবং ক্ষতিকর নয়।

এক্সপ্লোডিং হেড সিন্ড্রোম (EHS) একটি স্লিপ ডিসঅর্ডার, যেখানে ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে বা ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে হঠাৎ জোরে শব্দ শুনতে পান। এই শব্দ বাস্তব নয়, বরং মস্তিষ্ক দ্বারা সৃষ্ট একটি বিভ্রম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থায় শরীর বা মস্তিষ্কের কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয় না, যদিও অভিজ্ঞতাটি ভীতিকর হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ঘুম এবং জাগরণের মধ্যবর্তী অবস্থায় মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ভারসাম্য হারাতে পারে। স্বাভাবিকভাবে ঘুমের সময় মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বিশ্রাম অবস্থায় যায়, কিন্তু কখনও কখনও এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে অস্বাভাবিক সংকেত তৈরি করে। এর ফলে বাস্তবে কোনো শব্দ না থাকলেও ব্যক্তি তীব্র শব্দ শুনতে পান।

এক্সপ্লোডিং হেড সিন্ড্রোমকে গুরুতর রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। মেডিক্যাল পরীক্ষা যেমন EEG বা MRI-তে সাধারণত কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে না। মস্তিষ্কের গঠন, স্নায়ু বা কানে কোনো ক্ষতি হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা জীবনে এক বা দুইবার ঘটে এবং নিজে থেকেই সেরে যায়।

ঘুমের মধ্যে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা এক্সপ্লোডিং হেড সিন্ড্রোমের লক্ষণ হতে পারে, সাধারণত ক্ষতিকর নয়

এই অবস্থায় কোনো শারীরিক ক্ষতি হয় না, তবে কিছু সাময়িক উপসর্গ দেখা যেতে পারে, যেমন হঠাৎ ভয় বা উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম হওয়া এবং ঘুম ভেঙে যাওয়া। এসব উপসর্গ সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থার সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা ব্রেন টিউমারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে যদি এর সঙ্গে শরীরের কোনো অংশে দুর্বলতা, কথা বলতে সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

এই সমস্যা যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ক্লান্তি বা ঘুমের অভাব থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং উদ্বেগও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। কিছু ক্ষেত্রে এটি বংশগতও হতে পারে।

এমন অভিজ্ঞতা হলে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেকে শান্ত রাখা জরুরি। এটি কোনো বাস্তব বিস্ফোরণ নয়, বরং মস্তিষ্কের সাময়িক প্রতিক্রিয়া—এই বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন। গভীর শ্বাস নেওয়া, শরীরকে শিথিল করা এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা সহায়ক হতে পারে।

যদি এই সমস্যা বারবার ঘটে বা ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে EEG, MRI বা স্লিপ স্টাডি করা হতে পারে, যাতে অন্য কোনো রোগের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক থাকে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য ওষুধের প্রয়োজন হয় না এবং এটি নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসক কিছু ওষুধ দিতে পারেন, যা স্নায়ুকে শান্ত করতে এবং ঘুম উন্নত করতে ব্যবহৃত হয়।

নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম এই সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা, ঘুমানোর আগে মোবাইল, টিভি ও ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকা, ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল কম গ্রহণ করা, অতিরিক্ত ক্লান্তির পর সরাসরি না ঘুমিয়ে আগে শরীরকে শিথিল করা, এবং যোগ, ধ্যান বা হাঁটার মতো কার্যকলাপ অভ্যাসে আনা উপকারী। কিছু ক্ষেত্রে চিত হয়ে শোয়ার পরিবর্তে কাত হয়ে শোয়া সহায়ক হতে পারে।

 

Leave a comment