রসগোল্লা আসল নাকি ভেজাল? রাখির আগে ৫ সহজ পরীক্ষায় ঘরেই বুঝে নিন মিষ্টির আসল-নকল

রাখির আগে রসগোল্লা কেনার সময় সতর্ক থাকুন। রং, গন্ধ, গঠন ও আয়োডিন টেস্ট-সহ ৫টি সহজ উপায়ে ঘরে বসেই মিষ্টিতে ভেজালের সম্ভাবনা যাচাই করুন।

রাখি উৎসবের আগে মিষ্টির দোকানে ভিড় বাড়ছে। ভাই-বোনের এই বিশেষ দিনে রসগোল্লা, সন্দেশ-সহ নানা মিষ্টি কেনার চল রয়েছে। কিন্তু বাজারের মিষ্টি সবসময় যে একেবারে ভেজালমুক্ত হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে রসগোল্লায় অস্বাভাবিক রং, অতিরিক্ত মিষ্টি সিরাপ বা স্টার্চ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ হলে কয়েকটি বিষয় বাড়িতেই যাচাই করে দেখতে পারেন।

রসগোল্লা খাঁটি কি না বুঝবেন কীভাবে?

চেপে দেখুন, আগের আকারে ফিরছে কি?

রসগোল্লাটি আলতো করে চেপে তার ভিতরের কিছুটা রস বের করে দিন। এরপর সেটিকে কিছুক্ষণ রেখে লক্ষ্য করুন। রসগোল্লা যদি ধীরে ধীরে আবার আগের আকারে ফিরে আসে, তাহলে সেটি তুলনামূলক ভালো গঠনের হতে পারে। আর চেপে দেওয়ার পর যদি সেটি কুঁচকে যায়, ভেঙে যায় বা আগের আকারে ফিরতে না চায়, তাহলে মিষ্টিটির মান নিয়ে সন্দেহ হতে পারে।

রং দেখেও মিলতে পারে ইঙ্গিত

সাধারণত ছানার রসগোল্লার রং দুধসাদা বা হালকা ক্রিমের মতো হয়। অস্বাভাবিক উজ্জ্বল সাদা, অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিক হলুদ রং দেখলে সতর্ক হওয়া ভালো। তবে শুধু রং দেখেই ভেজাল নিশ্চিত করা যায় না—মিষ্টির ধরন ও প্রস্তুতপ্রণালীর কারণেও রঙে পার্থক্য হতে পারে।

আয়োডিন পরীক্ষায় স্টার্চের উপস্থিতি

স্টার্চ শনাক্ত করতে আয়োডিন টেস্ট ব্যবহার করা হয়। রসগোল্লার সামান্য অংশ জলে ফুটিয়ে সেই তরলে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন সলিউশন দিলে নীল বা নীলচে-কালো রং দেখা গেলে স্টার্চ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই ধরনের পরীক্ষা করার সময় আয়োডিন দ্রবণ খাওয়া যাবে না এবং পরীক্ষিত মিষ্টিও খাওয়া উচিত নয়।

জলে দিয়ে গঠন পরীক্ষা করুন

এক গ্লাস পরিষ্কার জলে সামান্য রসগোল্লা দিয়ে কিছুক্ষণ লক্ষ্য করতে পারেন। মিষ্টিটি দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে কি না, অস্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে কি না বা জলের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখুন। পাশাপাশি রসগোল্লার গায়ে অতিরিক্ত চটচটে আস্তরণ রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নিতে পারেন।

গন্ধ ও স্বাদেও নজর রাখুন

ভালো মানের রসগোল্লা থেকে সাধারণত দুধ বা ছানার স্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়। এলাচ ব্যবহার করা হলে হালকা এলাচের সুগন্ধও থাকতে পারে। কিন্তু মিষ্টি থেকে যদি অস্বাভাবিক তীব্র, রাসায়নিকের মতো গন্ধ আসে, তাহলে সেটি না খাওয়াই ভালো। একইভাবে স্বাদে অস্বাভাবিক রাসায়নিকের মতো অনুভূতি হলে সতর্ক থাকুন।

শুধু ঘরোয়া পরীক্ষায় ভেজাল নিশ্চিত করা যায় না

মনে রাখা দরকার, এই ঘরোয়া পরীক্ষাগুলি কোনও মিষ্টি ভেজাল কি না তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে না। এগুলি কেবল সন্দেহের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে পারে। কোনও মিষ্টি নিয়ে গুরুতর সন্দেহ থাকলে সেটি না খেয়ে স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা বা অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

রাখি উৎসবের আগে বাজারে মিষ্টির চাহিদা বাড়ে। তাই রসগোল্লা কেনার সময় সেটি আদৌ খাঁটি কি না, তা নিয়ে অনেকেরই চিন্তা থাকে। রং, গন্ধ, গঠন থেকে শুরু করে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে রসগোল্লায় ভেজালের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

Leave a comment