শ্রাবণী মেলার চতুর্থ সোমবারে বাবাধামে দুই লাখের বেশি কাঁওয়ারিয়ার সমাগম

শ্রাবণী মেলার চতুর্থ সোমবারে দেবঘরের বাবা বৈদ্যনাথ ধামে দুই লাখের বেশি কাঁওয়ারিয়ার পৌঁছানোর তথ্য সামনে এসেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও ভক্তদের সুবিধার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শ্রাবণী মেলার চতুর্থ সোমবারে বাবাধামে দুই লাখের বেশি কাঁওয়ারিয়ার সমাগম
Photo Credit / Attribution: Google

দেবঘর: ঝাড়খণ্ডের দেবঘরে অবস্থিত বাবা বৈদ্যনাথ ধামে শ্রাবণী মেলা এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে চতুর্থ সোমবারে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও কাঁওয়ারিয়ার সমাগম হয়েছে। ‘শিব, শ্রাবণ ও সোমবার’-এর সংযোগে সকাল থেকেই মন্দির চত্বর ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভিড় দেখা যায়। জাগরণের প্রতিবেদনে চতুর্থ সোমবারে দুই লাখের বেশি কাঁওয়ারিয়ার বাবাধামে পৌঁছানোর তথ্য জানানো হয়েছে।

চতুর্থ সোমবারকে কেন্দ্র করে রবিবার থেকেই দেবঘরে কাঁওয়ারিয়াদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। কাঁধে কাঁওয়ার, হাতে গঙ্গাজল নিয়ে ভক্তরা ‘বোল বম’ ধ্বনি দিতে দিতে বাবা বৈদ্যনাথের মন্দিরের দিকে এগিয়ে যান। মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকায় কাঁওয়ারিয়াদের ভিড় দেখা যায়।

দেবঘর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলা চলাকালীন ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ভক্তদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রাবণী মেলা পুরো শ্রাবণ মাসজুড়ে চলে এবং এই সময় লাখ লাখ ভক্ত বাবা বৈদ্যনাথ মন্দিরে আসেন। সুলতানগঞ্জ থেকে গঙ্গাজল নিয়ে কাঁওয়ারিয়ারা প্রায় ১০৯ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বাবাধামে পৌঁছে বাবা বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গে জল অর্পণ করেন।

চতুর্থ সোমবার সকাল থেকেই বাবাধামে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কাঁওয়ারিয়াদের দল একের পর এক মন্দিরের দিকে এগিয়ে যায়। পথে বিভিন্ন পরিষেবা শিবিরে জল, খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও এই ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করে।

শ্রাবণী মেলায় সুলতানগঞ্জ থেকে গঙ্গাজল নিয়ে দেবঘর পর্যন্ত পায়ে হেঁটে পৌঁছানো ভক্তদের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেবঘর জেলা প্রশাসনের মতে, সুলতানগঞ্জ থেকে বাবাধামের দূরত্ব প্রায় ১০৫ কিলোমিটার, আর কাঁওয়ারিয়া পথ ধরে মোট পায়ে হাঁটার দূরত্ব প্রায় ১০৯ কিলোমিটার। এই পথে ‘বোল বম’ ধ্বনি শোনা যায়।

চতুর্থ সোমবারের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন আগে থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মন্দির চত্বরের পাশাপাশি কাঁওয়ারিয়া রুট, প্রবেশ ও বেরোনোর পথেও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়। ভক্তদের সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে এক জায়গায় অতিরিক্ত ভিড় জমা না হয়। শ্রাবণী মেলা ২০২৬-এর জন্য দেবঘর প্রশাসন নো-এন্ট্রি জোন, ডিউটি চার্ট এবং মেলা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশও জারি করেছে।

বাবা বৈদ্যনাথ মন্দিরে জলাভিষেক করতে আসা ভক্তদের মধ্যে চতুর্থ সোমবারকে কেন্দ্র করে বিশেষ উৎসাহ দেখা যায়। কয়েকজন কাঁওয়ারিয়া জানান, শ্রাবণের সোমবারে বাবা বৈদ্যনাথের দর্শন ও জলাভিষেককে তারা বিশেষ পুণ্যের সুযোগ হিসেবে দেখেন। ফলে মেলার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেও ভক্তদের উপস্থিতিতে বড় ধরনের হ্রাস দেখা যায়নি।

দেবঘরের বিভিন্ন সড়কে কাঁওয়ারিয়াদের দল দেখা যায়। অনেকে বাবা বৈদ্যনাথের নাম জপ করতে করতে এগিয়ে যান, আবার অনেকে সঙ্গীদের সঙ্গে ‘বোল বম’ এবং ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি দিতে থাকেন। কাঁওয়ারিয়া পথে দীর্ঘ সারি এবং গেরুয়া পোশাকে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল।

শ্রাবণী মেলায় ঝাড়খণ্ড ও বিহারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকেও ভক্তরা দেবঘরে আসেন। দেবঘর প্রশাসনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, পুরো শ্রাবণ মাসে বাবাধামে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখ তীর্থযাত্রীর আসার অনুমান থাকে।

চতুর্থ সোমবারকে কেন্দ্র করে রেল ও সড়কপথে ভক্তদের যাতায়াতও বাড়ে। এর আগে ভক্তদের সুবিধার জন্য ভাগলপুর ও দেবঘরের মধ্যে শ্রাবণী মেলা স্পেশাল ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই ট্রেন ভাগলপুর, বাঁকা, কাটোরিয়া, চান্দনসহ বিভিন্ন এলাকার ভক্তদের দেবঘরে পৌঁছানোর অতিরিক্ত বিকল্প দেয়।

বিপুল ভিড়ের মধ্যে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ। মন্দির চত্বরে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হওয়ায় পদদলিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এড়াতে ব্যারিকেডিং ও সারিবদ্ধ চলাচলের ব্যবস্থায় নজর দেওয়া হয়। মেলার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের ভিড়ের পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সোমবার দেবঘরে মন্দিরের আশপাশে ধর্মীয় কার্যক্রমও বাড়ে। ভক্তরা বাবা বৈদ্যনাথের জলাভিষেক ও পুজো-অর্চনা করেন এবং পরিবারের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন। মন্দিরের আশপাশে ফুল-মালা, পুজোর সামগ্রী ও প্রসাদের দোকানগুলিতেও ভিড় দেখা যায়।

শ্রাবণী মেলা ২০২৬ উপলক্ষে দেবঘর প্রশাসনের প্রস্তুতিও চলতে থাকে। মন্দির ও প্রবেশদ্বারের সাজসজ্জা, বিদ্যুৎ সজ্জা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং ভক্তদের সুবিধা সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলি আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছিল।

চতুর্থ সোমবারের সঙ্গে শ্রাবণী মেলা এখন সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে। তবে শেষ পর্যায়েও ভক্তদের সংখ্যা বেশি থাকায় প্রশাসনের সামনে ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার দায়িত্ব রয়েছে। আগামী দিনগুলিতেও কাঁওয়ারিয়াদের যাতায়াত অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a comment