From DIG To Broom Warrior: ডিআইজি থেকে ঝাঁটা-যোদ্ধা! অবসরের পরেও থামেনি সেবা—ভোরে ভাঙা রিকশায় ময়লা সাফ করা প্রাক্তন IPS পেলেন পদ্মশ্রী

৮৮ বছর বয়সে ঝাঁটা হাতে চণ্ডীগড়ের রাস্তা পরিষ্কার করেন প্রাক্তন IPS অফিসার ইন্দ্রজিৎ সিং সিধু। অবসরের পরেও নাগরিক সেবার স্বীকৃতিতে পেলেন পদ্মশ্রী।

অবসর মানেই বিশ্রাম—এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছেন ইন্দ্রজিৎ সিং সিধু। পুলিশের উচ্চপদে কাজ শেষ করেও তিনি থামেননি। চণ্ডীগড়ের ৪৯ নম্বর সেক্টরের রাস্তায় প্রতিদিন ভোরে ঝাঁটা, ঝোলা আর পরিত্যক্ত রিকশা নিয়ে নেমে পড়েন আবর্জনা পরিষ্কারে। তাঁর এই নীরব, নিরলস নাগরিক সেবাকেই স্বীকৃতি দিয়েছে দেশ—পদ্মশ্রী সম্মানে।

আইপিএস থেকে ডিআইজি—এক দীর্ঘ কর্মজীবন

ইন্দ্রজিৎ সিং সিধু ১৯৬৪ সালে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৬ সালে তিনি পাঞ্জাব পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG) পদ থেকে অবসর নেন।

অবসরের পরেই শুরু নতুন লড়াই

অবসরের পর বিশ্রাম নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়িত্বকেই বেছে নেন সিধু। চণ্ডীগড় শহরের নোংরা রাস্তাঘাট নিয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েও ফল না পেয়ে নিজেই কাজে নেমে পড়েন। তাঁর কথায়, “পরিচ্ছন্নতায় কোনও লজ্জা নেই। পরিষ্কার রাখা ঈশ্বরভক্তিরই আরেক রূপ।”

ভোর ৬টায় ঝাঁটা হাতে রাস্তায়

প্রতিদিন সকাল ৬টা নাগাদ সিধু নিজের স্বেচ্ছা-নিযুক্ত কাজ শুরু করেন। ঝাঁটা দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার, আবর্জনা সংগ্রহ ও সঠিকভাবে তা ফেলার কাজ তিনি একাই করেন। প্রথমে একার লড়াই হলেও ধীরে ধীরে পরিবার ও প্রতিবেশীরাও তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন।

 উপহাস থেকে শ্রদ্ধা—পথচলার বদল

শুরুর দিকে অনেকেই তাঁকে কটাক্ষ করতেন, কেউ কেউ পাগল বলেও মন্তব্য করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উপহাস বদলে যায় গভীর শ্রদ্ধায়। আজ তিনি চণ্ডীগড়ের এক অনুপ্রেরণামূলক মুখ—স্বচ্ছ ভারত অভিযানের জীবন্ত প্রতীক।

স্বপ্ন—স্বচ্ছতায় চণ্ডীগড় এক নম্বর

সিধুর একটাই স্বপ্ন—জাতীয় স্বচ্ছতা সমীক্ষায় চণ্ডীগড়কে দেশের এক নম্বর শহর হিসেবে দেখতে চান তিনি। তাঁর প্রশ্ন, “বিদেশের রাস্তাঘাট যদি পরিষ্কার হতে পারে, আমাদের কেন নয়?”

ভাইরাল হওয়া কাজ, আনন্দ মাহিন্দ্রার প্রশংসা

২০২৫ সালে সিধুর এই কাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রাও প্রশংসা করে লেখেন—“উদ্দেশ্য কখনও অবসর নেয় না, পরিষেবার বয়স হয় না।” এই মন্তব্য দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

বিনয়ী মানুষ, নিঃশব্দে পদ্মশ্রী

২০২৬ সালের শুরুতে দিল্লি থেকে ফোন আসে পদ্মশ্রীর খবর নিয়ে। চিরাচরিত বিনয়ের কারণে সিধু নিজেই প্রথমে পরিবারকে জানাননি। পরে তাঁর আত্মীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

চণ্ডীগড়ের রাস্তায় প্রতিদিন ভোরে ঝাঁটা হাতে দেখা যায় এক ৮৮ বছরের বৃদ্ধকে। তিনি আর কেউ নন—প্রাক্তন IPS অফিসার ও পাঞ্জাব পুলিশের ডিআইজি ইন্দ্রজিৎ সিং সিধু। অবসরের বহু বছর পরেও স্বেচ্ছায় শহর পরিষ্কারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করে ২০২৬ সালে পেলেন পদ্মশ্রী সম্মান।

Leave a comment