রান্না করতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে? গ্যাসের আঁচ কমে গিয়ে শিখা নীলের বদলে হলুদ বা লালচে দেখাচ্ছে? তাহলে বার্নারের ছোট ছোট ছিদ্রে ময়লা জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেল, মশলা, দুধ বা রান্নার অন্যান্য উপাদান বার্নারের ছিদ্রে আটকে গিয়ে গ্যাসের প্রবাহে বাধা তৈরি করতে পারে। ফলে রান্নার সময়ও বেড়ে যায়। তবে নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

বার্নারে ময়লা জমে কেন?
প্রতিদিন রান্নার সময় তেল, মশলার কণা, দুধ বা খাবারের অংশ ছিটকে বার্নারের গায়ে এবং ছিদ্রের মধ্যে জমতে পারে। সময়ের সঙ্গে সেই ময়লা শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। ফলে গ্যাস ও বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং শিখার রং ও তীব্রতায় পরিবর্তন দেখা যায়।
মাত্র কয়েকটি ঘরোয়া উপকরণেই পরিষ্কার করুন
বার্নার পরিষ্কারের জন্য লাগবে—
১ গ্লাস গরম জল
১টি লেবু
১ প্যাকেট ইনো
১ চা চামচ নুন
সামান্য বাসন মাজার তরল
একটি পুরনো টুথব্রাশ
প্রথমে বার্নার খুলে নিন
গ্যাসের নব বন্ধ করে এবং বার্নার সম্পূর্ণ ঠান্ডা হয়েছে নিশ্চিত করে সেটি খুলে নিন। গ্যাস জ্বলন্ত বা গরম থাকা অবস্থায় কখনও বার্নার পরিষ্কার করবেন না।

গরম জল ও লেবুর ব্যবহার
একটি পাত্রে গরম জল নিয়ে তাতে একটি লেবুর রস মিশিয়ে দিন। এরপর বার্নারটি সেই জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন।
এবার দিন ইনো
বার্নার ভেজানো জলে ধীরে ধীরে এক প্যাকেট ইনো দিন। ফেনা তৈরি হবে। এরপর বার্নারটি প্রায় ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে জমে থাকা কিছু তেল ও ময়লা নরম হতে সাহায্য করবে।
টুথব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন
সময় হয়ে গেলে বার্নারটি তুলে নিয়ে জল কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর পুরনো টুথব্রাশে সামান্য বাসন মাজার তরল লাগিয়ে ভালোভাবে ঘষুন। বিশেষ করে ছোট ছোট ছিদ্রের আশপাশে জমে থাকা ময়লার দিকে নজর দিন।
জেদি দাগে নুন-লেবু
বার্নারের বাইরের শক্ত ময়লা বা দাগের ক্ষেত্রে লেবুর খোসায় সামান্য নুন নিয়ে আলতো করে ঘষতে পারেন। তবে ধাতব পৃষ্ঠে অতিরিক্ত জোরে ঘষবেন না।
ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন
সবশেষে পরিষ্কার জল দিয়ে বার্নার ভালোভাবে ধুয়ে নিন। কাপড় দিয়ে মুছে পুরোপুরি শুকিয়ে তারপর গ্যাস স্টোভে বসান। বার্নারের ভিতরে জল থাকলে প্রথমে শিখা স্বাভাবিক নাও হতে পারে।

পরিষ্কার রাখলে কী লাভ?
বার্নারের ছিদ্র পরিষ্কার থাকলে গ্যাস ও বাতাসের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে সাহায্য করে। ফলে শিখা তুলনামূলকভাবে স্থির ও সমান হতে পারে এবং রান্নার সময়ও কমতে পারে। তবে বার্নার পরিষ্কার করার পরও যদি শিখা নিয়মিত হলুদ বা লালচে থাকে, গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায়, অথবা আগুন অস্বাভাবিকভাবে জ্বলতে থাকে, তাহলে নিজে পরীক্ষা না করে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার প্রশিক্ষিত কর্মীর সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
বার্নার পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখুন এবং বার্নার ঠান্ডা হতে দিন। কোনও ধারালো ধাতব বস্তু দিয়ে বার্নারের ছিদ্র খোঁচাবেন না। পরিষ্কার করার পর সম্পূর্ণ শুকিয়ে তবেই সেটি পুনরায় ব্যবহার করুন।

গ্যাসের বার্নারে তেল, মশলা ও খাবারের অবশিষ্টাংশ জমে গেলে আগুনের শিখা দুর্বল বা হলুদ-লালচে হতে পারে। দামি ক্লিনার নয়, গরম জল, লেবু, ইনো ও সামান্য সাবান ব্যবহার করে কীভাবে বার্নার পরিষ্কার করবেন, রইল সহজ পদ্ধতি।








