সোনা কিনবেন ভাবছেন? তাহলে এই খবর আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে দেশের বাজারে হলুদ ধাতুর দাম চড়ছে, অন্যদিকে উৎসবের আগে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আমদানি শুল্ক কমানোর কথা বিবেচনা করতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এখনও শুল্ক কমানোর কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশে নামানো হলে সোনার দামে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে, সেই সম্ভাব্য হিসেবই এখন নজরে।
কেন সোনার আমদানি শুল্ক কমানোর আলোচনা?
সোনা ও রুপোর আমদানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি বছরে আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু শুল্ক বাড়ার ফলে বৈধ আমদানির পাশাপাশি সোনা পাচারের প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে শিল্পমহলের কয়েকটি সূত্রের দাবি।এই পরিস্থিতিতে বুলিয়ন ব্যবসায়ী ও জুয়েলারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মহলের একাংশ আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তাঁদের প্রস্তাব, বর্তমান ১৫ শতাংশের বদলে শুল্ক ৬ শতাংশ করা হোক।তবে মনে রাখতে হবে, এটি এখনও একটি প্রস্তাব বা সম্ভাবনা—সরকারি ভাবে সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি।
কেন আগে শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল?
দেশে সোনা ও রুপোর আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোনার আমদানি বেড়ে গেলে ডলারে অর্থপ্রদানের পরিমাণও বাড়ে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ তৈরি হতে পারে।কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ফের বাড়তে থাকায় এবং উৎসবের মরশুমে দেশে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শুল্ক কমলে ১ গ্রাম সোনার দাম কত হতে পারে?
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
প্রতিবেদনে দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ২৬ অগস্ট লখনউয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ছিল প্রায় ১,৬৩,৭৫০ টাকা।
অর্থাৎ প্রতি গ্রামের দাম দাঁড়ায় আনুমানিক:
১,৬৩,৭৫০ ÷ ১০ = ১৬,৩৭৫ টাকা।
যদি আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়, তাহলে সম্ভাব্য হিসাবে প্রতি ১০ গ্রামে দাম প্রায় ১,৫০,৯৩৫ টাকা পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।
অর্থাৎ প্রতি ১০ গ্রামে সম্ভাব্য সাশ্রয়:
১,৬৩,৭৫০ - ১,৫০,৯৩৫ = ১২,৮১৫ টাকা।
সেক্ষেত্রে প্রতি ১ গ্রামে সম্ভাব্য দাম কমতে পারে প্রায়:
১২,৮১৫ ÷ ১০ = ১,২৮১.৫০ টাকা।
অর্থাৎ এই হিসেব অনুযায়ী ১ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১৬,৩৭৫ টাকা থেকে কমে ১৫,০৯৪ টাকা-র কাছাকাছি হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ: এটি শুধুমাত্র শুল্ক কমার ভিত্তিতে করা সম্ভাব্য হিসেব। বাস্তবে খুচরো সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার-রুপি বিনিময় হার, GST, স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি, জুয়েলারির মেকিং চার্জ এবং অন্যান্য খরচের উপর নির্ভর করে। তাই শুল্ক কমলেই একই অনুপাতে দোকানের দাম কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
সোনা পাচার কমানোরও লক্ষ্য
শিল্পমহলের যুক্তি, আমদানি শুল্ক বেশি থাকলে বৈধভাবে সোনা আনার খরচ বাড়ে। এর ফলে অবৈধ পথে সোনা আনার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। শুল্ক কমানো হলে বৈধ আমদানি তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে এবং পাচারের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে তাঁদের মত।পাশাপাশি ভারত থেকে বিদেশে গয়না রফতানির ক্ষেত্রেও সোনার আমদানি খরচ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শুল্কের পরিবর্তনের প্রভাব গয়না শিল্পেও পড়তে পারে।
দেশে সোনার চাহিদা কতটা?
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ভারতে সোনা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। মে মাসেও আমদানিতে বৃদ্ধি দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে জুন ও জুলাই মাসেও সোনা আমদানির মূল্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।উৎসবের মরশুম সামনে থাকায় বিয়ে, পুজো এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য গয়নার চাহিদা আরও বাড়তে পারে। ফলে সোনার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তাহলে এখনই সোনা কিনবেন?
শুধু শুল্ক কমার সম্ভাবনার খবর শুনে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ শুল্ক কমানোর বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। তার উপর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতিদিনই ওঠানামা করে।যাঁরা গয়না কিনতে চাইছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সোনার মূল দামের পাশাপাশি GST, মেকিং চার্জ, হলমার্ক এবং দোকানের অন্যান্য চার্জ মিলিয়ে মোট খরচ কত হচ্ছে, সেটিও দেখা জরুরি।
উৎসবের মরশুমের আগে সোনার দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যেই সোনা ও রুপোর উপর আমদানি শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। শিল্পমহলের একাংশ শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে। এমনটা হলে ২৪ ক্যারেট সোনার দামে কতটা প্রভাব পড়তে পারে, তার একটি সম্ভাব্য হিসেবও সামনে এসেছে।











