দেশে সোনার দামে ধারাবাহিক পতন অব্যাহত রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সংকেত তৈরি করছে। বৈশ্বিক দুর্বলতা এবং সুদের হারের প্রভাবে মূল্যবান ধাতুর ওপর চাপ বজায় রয়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
২০ মার্চ সকালে রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫০,৪২০ টাকায় নেমে এসেছে। মুম্বাইয়ে একই মানের সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫০,২৭০ টাকা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন বাজারে বড় পতনের পর এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।
সোনার পাশাপাশি রুপোর দামেও পতনের প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে বর্তমানে মূল্যবান ধাতুর ওপর চাপ অব্যাহত এবং বাজারে ওঠানামা চলছে।
১৯ মার্চ দিল্লির সারাফা বাজারে সোনার দামে বড় পতন রেকর্ড করা হয়েছিল। সোনার দাম প্রায় ৭,০০০ টাকা বা ৪.৩৭ শতাংশ কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৩,৩০০ টাকায় নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি অন্যতম বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে রুপোর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ১৭,৮০০ টাকা হ্রাস পেয়ে প্রতি কিলোগ্রামে ২,৩৮,৭০০ টাকায় নেমে আসে। এই পতনের পর বাজারে বিনিয়োগকারীরা পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন।
সোনা ও রুপোর দামে পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর অবস্থান এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। সুদের হার উচ্চ অবস্থানে থাকলে বিনিয়োগকারীরা non-yielding assets হিসেবে সোনা থেকে দূরে সরে বিকল্প বিনিয়োগের দিকে ঝোঁকেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সোনার চাহিদায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতিও বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। এই সমস্ত কারণ মিলেই সোনা ও রুপোর দাম নিম্নমুখী হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবান ধাতুর দামে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। হাজির সোনার দাম প্রায় ৪,৬৭৮.৬৯ ডলার প্রতি আউন্সে অবস্থান করছে, আর রুপোর আন্তর্জাতিক দাম ৭০.৪৯ ডলার প্রতি আউন্সে রেকর্ড করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারের এই দুর্বলতার সরাসরি প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ছে, ফলে আন্তর্জাতিক দামের পতনের সঙ্গে সঙ্গে ভারতে সোনা ও রুপো সস্তা হয়ে যাচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন শহরে সোনার দামে সামান্য পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা নিম্নমুখী। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫০,৪২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৭,৮৯০ টাকায় রয়েছে। মুম্বাই, চেন্নাই এবং কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫০,২৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা প্রায় ১,৩৭,৭৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। পুনে ও বেঙ্গালুরুতেও একই স্তরে দাম রয়েছে, যেখানে ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৫০,২৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৩৭,৭৪০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম। জয়পুর, লখনউ এবং চণ্ডীগড়েও সোনার দাম দিল্লির সমপর্যায়ে রয়েছে।
রুপোর বাজারেও নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১৯ মার্চ রুপোর দাম প্রায় ২,৩৮,৭০০ টাকা প্রতি কিলোগ্রামে নেমে এসেছিল। তবে ২০ মার্চ সকালে রুপোর দাম প্রায় ২,৫৯,৯০০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম বলা হচ্ছে, যদিও এতে অস্থিরতা বজায় রয়েছে। রুপোর বাজার বর্তমানে বৈশ্বিক সংকেত এবং বিনিয়োগকারীদের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল।











