গোরখপুরের মেডিকেল স্টোরে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের দাবি নিয়ে তদন্ত

গোরখপুরের বিভিন্ন মেডিকেল স্টোরে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের দাবির মধ্যে ওষুধের ক্রয়মূল্য ও MRP-র ব্যবধান এবং ব্র্যান্ডেড, জেনেরিক, নকল ও অধোমানের ওষুধ সংক্রান্ত আশঙ্কা নিয়ে তদন্ত চলছে।

গোরখপুরের বিভিন্ন মেডিকেল স্টোরে ওষুধের MRP-তে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার দাবি সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে কিছু ওষুধের ক্রয়মূল্য ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধানের তথ্য পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্র্যান্ডেড ওষুধের পরিবর্তে জেনেরিক অথবা নকল ও অধোমানের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন দোকানগুলোর ওপর নজর রাখছে।

গোরখপুরে একাধিক মেডিকেল স্টোর ওষুধে বড় ছাড় দেওয়ার দাবি করছে। বেতিয়াহাটায় প্রায় ৩০ শতাংশ, আলহাদাদপুরে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং জেলা হাসপাতাল রোড ও ভলোটিয়া মার্কেটে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের বোর্ড লাগানোর কথা সামনে এসেছে।

ওষুধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণত ব্র্যান্ডেড ওষুধে খুচরা বিক্রেতার মার্জিন একটি সীমিত পরিসরের মধ্যে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ৫০ বা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের দাবি প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে যখন কোনও ওষুধের ক্রয়মূল্য ও MRP-র মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান দেখা যায়।

রাজ্যের ২১৪টি হাসপাতালের ফার্মেসিতে তদন্তের সময়ও ক্রয়মূল্য ও MRP-র মধ্যে বড় ব্যবধান পাওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। একটি ক্ষেত্রে ৭৪ টাকা ক্রয়মূল্যের একটি ইনজেকশনের MRP ৪,৯৮০ টাকা বলে জানানো হয়েছে। এই তথ্য ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বড় ছাড়ের দাবির মধ্যে ওষুধের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন শহরে নকল ও অধোমানের ওষুধের চালান ধরা পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। অন্য রাজ্য থেকে নকল ওষুধ এনে বিক্রির ঘটনাও ওষুধের বাজারে নজরদারির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও ঔষধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নকল, ভুলভাবে ব্র্যান্ডিং করা এবং অধোমানের ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের সময় সন্দেহজনক ওষুধের নমুনা সংগ্রহ, মজুত বাজেয়াপ্ত করা এবং নিয়ম লঙ্ঘন পাওয়া গেলে লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হতে পারে।

তবে শুধুমাত্র বেশি ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে কোনও ওষুধকে নকল বা নিম্নমানের প্রমাণ করা যায় না। ওষুধের প্রকৃত গুণমান ও বৈধতা তদন্তের পরেই নিশ্চিত করা সম্ভব।

ওষুধ ব্যবসায় ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক ওষুধের পার্থক্যও বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সূত্রের মতে, কিছু দোকানে ছাড়ের নামে ব্র্যান্ডেড ওষুধের পরিবর্তে জেনেরিক ওষুধ দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

জেনেরিক ওষুধের দাম ও মার্জিনের কাঠামো ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় আলাদা হতে পারে। তাই গ্রাহককে কোন ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং তার দাম কত, সে সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া প্রয়োজন।

কর্মকর্তাদের মতে, কোনও দোকানদার MRP-র মধ্যে ওষুধ বিক্রি করলে শুধুমাত্র কম দামে বিক্রির ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তবে ক্রয়মূল্য ও MRP-র মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধানের বিষয়টি নিয়ে বিভাগ একটি গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে, যা পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট স্তরে পাঠানো হতে পারে।

তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে, বড় ছাড়ের পেছনে প্রকৃত ব্যবসায়িক কারণ রয়েছে, নাকি ওষুধের গুণমান, ব্র্যান্ড ও মূল্য সংক্রান্ত কোনও অনিয়ম করা হচ্ছে।

 

Leave a comment