গুয়াহাটির একটি হোমস্টে-তে ২২ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম নিমিশা ঠাকুরিয়া। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে থাকা আসিফ আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের কাছে আসিফ দাবি করেছেন, নিমিশা নিজেই সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলে পড়েছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
হোমস্টে-তে কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি গুয়াহাটির আজারা-দারাপুর এলাকার একটি হোমস্টে-কে কেন্দ্র করে। নিমিশা গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন এবং সমাজতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং সেখান থেকে গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের কাছে কী দাবি আসিফের?
পুলিশের জেরায় আসিফ আলি দাবি করেছেন, নিমিশা হোমস্টে-র ঘরে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিলেন।গুয়াহাটির পুলিশ আধিকারিক বলিন দেওরী জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা আসিফের বক্তব্য যাচাই করছেন। তাঁর বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে; কোনও ব্যক্তির কথাই প্রমাণ ছাড়া মেনে নেওয়া হচ্ছে না।
মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত নয়
এই ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট-সহ অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার ক্রম বোঝার চেষ্টা করছে।আসিফের দাবি যে নিমিশা আত্মহত্যা করেছেন, সেটিও এখনও তদন্তসাপেক্ষ। তাই এই মুহূর্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড—কোনও একটি হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
আসিফের সঙ্গে কী সম্পর্ক ছিল?
তদন্তে উঠে এসেছে, নিমিশা ও আসিফের মধ্যে সম্পর্ক ছিল বলে জানা যাচ্ছে। দু’জনের পরিচয় ও সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়েও পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে।হোমস্টে-তে তাঁদের গতিবিধি, ঘটনার আগে কী হয়েছিল এবং মৃত্যুর সময় সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হোমস্টে-র মালিক ও কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের তরফে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ
এদিকে মৃত ছাত্রীর পরিবার মৃত্যুর ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। তাঁর বাবা দাবি করেছেন, মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তিনি হত্যার অভিযোগ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ এখনও পরিবারের এই অভিযোগকে তদন্তের অংশ হিসেবেই দেখছে; অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।কিছু রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার আগে নিমিশা তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে ওই ফোনালাপ ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কেও তদন্ত চলছে।
তদন্তে এখন পুলিশের নজরে কী?
পুলিশ মূলত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখছে—নিমিশার শেষ সময়ের গতিবিধি, হোমস্টে-র ভিতরের পরিস্থিতি, আসিফের বক্তব্য, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণ এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল।ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
গুয়াহাটির আজারা এলাকার একটি হোমস্টে-তে ২২ বছরের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিমিশা ঠাকুরিয়ার মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ তাঁর পরিচিত যুবক আসিফ আলিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আসিফের দাবি, হোমস্টে-র ঘরেই নিমিশা সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। তবে পুলিশ তাঁর বক্তব্য সরাসরি মেনে নেয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত-সহ একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










