গ্বালিয়ারে অবৈধ খনন মামলায় মাইনিং কর্মকর্তার বেতন ও ছেলের স্কুল ফি নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন

গ্বালিয়ারের বিলৌয়ায় অবৈধ খনন মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট খনির নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছে এবং ভারপ্রাপ্ত খনিজ কর্মকর্তা পঙ্কজধ্বজ মিশ্রের ₹৫১ হাজার মাসিক বেতন ও তাঁর ছেলের ₹৯ লাখ বার্ষিক স্কুল ফি নিয়ে প্রশ্ন করেছে।

গ্বালিয়ারের বিলৌয়া এলাকায় অবৈধ খনন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট প্রশাসন ও খনিজ বিভাগের কার্যপ্রণালী নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। আদালত ভারপ্রাপ্ত খনিজ কর্মকর্তা পঙ্কজধ্বজ মিশ্রের মাসিক বেতন ও তাঁর ছেলের স্কুলের বার্ষিক ফি নিয়েও প্রশ্ন করেছে। পাশাপাশি অবৈধ খনন বন্ধ করা এবং খনিজের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে গ্বালিয়ার কালেক্টরের কাছে জবাব চেয়েছে।

গ্বালিয়ারের বিলৌয়া এলাকায় অবৈধ খনন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের গ্বালিয়ার বেঞ্চ প্রশাসনের কার্যপ্রণালী নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে। খনন এলাকা সংক্রান্ত ড্রোন ভিডিওও আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপ নিয়ে প্রশাসনের দাবির বিষয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

শুনানির সময় আদালত গ্বালিয়ারের কালেক্টর রুচিকা চৌহানের কাছে জানতে চায়, খনি থেকে বের হওয়া ট্রাক ও ডাম্পারের নজরদারির জন্য রাস্তায় কী ব্যবস্থা রয়েছে। খনি থেকে বাইরে जानेয়া খনিজের পরিমাণের হিসাব কীভাবে রাখা হয় এবং তা যাচাইয়ের জন্য ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কেন নেই, তাও জানতে চায় আদালত।

শুনানির সময় কালেক্টর মামলাসংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। এরপর আদালত তাঁকে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুরো বিষয়ের তথ্য সংগ্রহ করে নির্ভুল জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেয়। খনির লিজ এবং সেখান থেকে উত্তোলিত খনিজের পরিমাণ নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে।

আদালত উদাহরণ দিয়ে জানতে চায়, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো খনির ১০ বছরের লিজ পান এবং মাত্র এক বছরেই পুরো খনিজ উত্তোলন করে ফেলেন, তাহলে বাকি সময় কী করা হবে। খনির নজরদারি এবং লিজের শর্ত মানার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের কাছে জবাব চাওয়ার প্রসঙ্গেই আদালত এই মন্তব্য করে।

মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্য আদালত কালেক্টরকে মামলাসংক্রান্ত ড্রোন ভিডিও দেখতেও বলে।

শুনানির সময় আদালত ভারপ্রাপ্ত খনিজ কর্মকর্তা পঙ্কজধ্বজ মিশ্রকেও সরাসরি প্রশ্ন করে। আদালত তাঁর ছেলের স্কুলের ফি সম্পর্কে তথ্য চায়। কর্মকর্তা জানান, তাঁর ছেলের সিন্ধিয়া স্কুলের বার্ষিক ফি প্রায় ₹৯ লাখ।

এরপর আদালত কর্মকর্তার বেতন সম্পর্কে জানতে চায়। জবাবে তিনি জানান, তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ₹৫১ হাজার। এ সময় আদালত দুটি অঙ্কের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করে এবং জানতে চায়, এত ফি কীভাবে দেওয়া হয়।

প্রশ্নের জবাবে খনিজ কর্মকর্তা জানান, তাঁর ছেলের পড়াশোনার খরচ তাঁর স্ত্রীর মামা বহন করেন। আদালত এই জবাব নিয়েও প্রশ্ন করে এবং মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় তথ্য নেয়।

গ্বালিয়ার খনিজ বিভাগের কার্যপ্রণালী নিয়ে আদালত আগেও প্রশ্ন তুলেছে। শুনানির সময় আদালত জেলায় অবিলম্বে একজন সৎ ও সক্ষম খনিজ কর্মকর্তা নিয়োগের কথা বলে। এমন কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত খনিজ বিভাগের দায়িত্ব কালেক্টরকে সামলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তী শুনানিতে প্রশাসনকে খনির নজরদারি, খনিজের পরিমাণের রেকর্ড এবং অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধের ব্যবস্থা নিয়ে আদালতের প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।

Leave a comment