হনুমান জন্মোৎসব ২০২৫: তিথি, মুহূর্ত ও পূজা বিধি

জানুন ২০২৫ সালের হনুমান জন্মোৎসবের তিথি, শুভ মুহূর্ত, পূজা পদ্ধতি এবং বিশেষ মন্ত্র। পান আধ্যাত্মিক শান্তি ও কল্যাণ।

আজ সমগ্র দেশে আস্থা ও শ্রদ্ধার সাথে হনুমান জন্মোৎসব ২০২৫ পালিত হচ্ছে। চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণকারী পবনপুত্র হনুমানকে শক্তি, ভক্তি ও নির্ভীততার প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। ধর্মগ্রন্থ অনুসারে, হনুমান জি ভগবান শিবের একাদশ রুদ্রাবতার, যাঁর পূজা করলে শনি দোষ, ভূত-প্রেত বাধা এবং সকল ভয়ের নাশ হয়।

এই বছর হনুমান জন্মোৎসবের উৎসব ১২ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার পালিত হচ্ছে। তাই যদি আপনি বজরঙ্গবলীর কৃপা লাভ করতে চান, তাহলে শুভ মুহূর্ত, পূজাবিধি এবং মন্ত্রের প্রতি বিশেষ নজর রাখুন।

হনুমান জন্মোৎসব ২০২৫: তিথি ও মুহূর্ত

• পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ: ১২ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার, সকাল ৩:২১ টা
• পূর্ণিমা তিথি সমাপ্তি: ১৩ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার, সকাল ৫:৫১ টা
• ব্রহ্ম মুহূর্ত পূজা: সকাল ৪:৩০ টা থেকে ৫:৩০ টা পর্যন্ত
• অভিজিৎ মুহূর্ত: দুপুর ১১:৫৫ টা থেকে ১২:৪৫ টা পর্যন্ত
• সন্ধ্যা পূজা মুহূর্ত: সন্ধ্যা ৫:৩০ টা থেকে ৭:০০ টা পর্যন্ত

হনুমান জন্মোৎসব ২০২৫: তিথি, মুহূর্ত ও পূজা বিধি

বিশেষ পূজন বিধি: কিভাবে হনুমান জিকে প্রসন্ন করবেন?

• স্নান ও পরিষ্কার বস্ত্র: দিনের শুরু স্নান করে পরিষ্কার লাল বা কমলা বস্ত্র পরুন।
• পূজাস্থলের শুদ্ধি: পূজাস্থল গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করুন এবং সেখানে লাল বস্ত্র বিছান।
• প্রতিমা স্থাপন: চৌকিতে হনুমান জির সাথে ভগবান রাম ও মা সীতার মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন।
• ধূপ-দীপ প্রজ্বলন: দীপক জ্বালিয়ে প্রথমে ভগবান রাম-সীতার পূজা করুন।
• হনুমান জিকে অর্পণ: তাঁকে সিঁদুর, চোলা, জানেউ, ফুল, বুন্দি লাড্ডু, গুড়-চনা এবং নারকেল অর্পণ করুন।
• পাঠ ও ভজন: সুন্দরকান্ড, হনুমান চালিসা বা বজরঙ্গ বাণ পাঠ করুন।
• আরতি ও মন্ত্র: পূজনের শেষে আরতি করুন এবং মন্ত্র জপ করুন।

এই মন্ত্রগুলির জপ করুন

হনুমান জন্মোৎসব ২০২৫: তিথি, মুহূর্ত ও পূজা বিধি

• ॐ শ্রী হনুমতে নমঃ॥
• ॐ আঞ্জনೇয়ায় বিদ্মহে বায়ুপুত্রায় ধীমহি। তন্নো হনুমৎ প্রচোদয়াত্॥
• ওম নমো ভগবতে হনুমতে নমঃ॥
• মনোজবম্ মারুততুল্যবেগম্ জিতেন্দ্রিয়ম্ বুদ্ধিমতাম্ বরিষ্ঠম্। বাতাৎমজম্ বানরযুথমুখ্যম্ শ্রীরা‌মদূতম্ শরণম্ প্রপদ্যে॥
• ॐ নমো হনুমতে রুদ্রাবতারায় সর্বশত্রুসংহারণায় সর্বরোগ হারায় সর্ববশীকরণায় রামদূতায় স্বাহা।

হনুমান জন্মোৎসবের দিন ব্রত ও পূজা করলে না শুধুমাত্র সকল প্রকার বাধা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, বরং জীবনে ধৈর্য্য, সাহস ও সাফল্যও লাভ করা যায়। এই দিনে গরিবদের খাবার ও বস্ত্র দান করলে পুণ্য অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়।

Leave a comment